ঢাকা : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, মঙ্গলবার, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

বিশ্বসেরা খেলোয়াড়েরা যেসব কুসংস্কারে বিশ্বাসী

ee8c15dd7ddca101b67500510f1a9582x400x250x21

স্পোর্টস ডেস্কঃ খেলাধুলা আর কুসংস্কার দুটি ভিন্নধর্মী বিষয় হলেও একটি অপরটির সাথে খুব নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। কারণ একজন খেলোয়াড় জেতার জন্য কিংবা নিজের পারফরম্যান্সকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাবার জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করতে প্রস্তুত থাকেন।

 

 

 

এজন্য নিজের দক্ষতার উপর আস্থা রাখার পাশাপাশি অনেককেই দেখা যায় বিভিন্ন কুসংস্কার কিংবা রীতি-নীতি মেনে চলতে। এদের কিছু যেমন থাকে ব্যক্তিগত পুরনো অভ্যাস জাতীয়, যা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়, কিছু আবার থাকে খুব অদ্ভুতুড়ে এবং বিরল। নিজ নিজ জায়গায় বিশ্বসেরা তারকারাও এর ব্যতিক্রম নন। চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক বিখ্যাত খেলোয়াড়দের তেমনই কিছু অদ্ভুত কুসংস্কার:

 

 

 

১। ইকার ক্যাসিয়াস :

 

স্পেনের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক তিনি।দীর্ঘ সময় সামলিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের গোলবার। ক্লাব ও জাতীয় দলে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অনেকদিন। কুসংস্কার মানার দিক থেকেও খুব বিখ্যাত বর্তমানে পোর্তোতে খেলা এই গোলরক্ষক। ইকার ক্যাসিয়াসের অন্যতম বড় একটি কুসংস্কার হল তিনি মাঠে নামার সময় দুই পায়ের মোজা উলটো করে পড়েন। তাছাড়া তার দল গোল করলে প্রতিবার দুই হাত উঁচিয়ে গোল বার স্পর্শ করেন। মজার বিষয় কোন ম্যাচ হেরে গেলে সেই ম্যাচের জার্সিটি আর গায়ে চাপান না।

 

 

 

২। লেবরন জেমস:

 

দুই বারের এনবিএ চ্যাম্পিয়ন লেবরন জেমস সর্বকালের অন্যতম সেরা বাস্কেটবল খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে বিবেচিত হন। ম্যাচ শুরুর ঠিক আগ মুহুর্তে শুন্যে চকের গুঁড়ো ছুড়ে দেওয়ার ব্যক্তিগত রীতিটি নিয়মিত পালন করে আসছেন সবচেয়ে বেশি আয় করা করা এই মার্কিন তারকা। তাছাড়া ম্যাচের আগে সাজঘরে আলাদাভাবে প্রত্যেক সতীর্থের সাথে গোপনে `হ্যান্ডশেক` করার অভ্যাসও রয়েছে তার।

 

 

 

৩। সেরেনা উইলিয়ামস:

 

১৯ টি গ্র‍্যান্ডস্লাম জয়ী সেরেনা উইলিয়ামসের কুসংস্কার গুলো খুব অদ্ভুত ধরনের। যেমন : কোন একটি টুর্নামেন্ট শুরুর পর প্রথম থেকে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত জয়ের ধারা ভঙ্গ হবার ভয়ে না ধুয়ে একই মোজা পরেন, মাঠের বাইরে একই স্যান্ডেল পরেন, একই ব্যাগ ব্যাবহার করেন। তাছাড়া প্রতিটি পয়েন্টের জন্য প্রথম সার্ভের আগে পাঁচবার মাটিতে বল ড্রপ করেন এবং দ্বিতীয় সার্ভে দুইবার।

 

 

 

৪। টাইগার উডস:

 

নিজের সেরা সময়ে গলফ কোর্সে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন টাইগার উডস। প্রচন্ড কুসংস্কারবাদী মায়ের সন্তান টাইগার উডসও মেনে চলেন অদ্ভুত কিছু রীতি। লাল রংকে বিশ্বাস করেন `শক্তির রং` হিসেবে। আর তাই রবিবারে সব সময় লাল রঙের টি-শার্ট পরে গলফ কোর্সে যান। তবে অন্যান্য দিনে তার পোষাকে নির্দিষ্ট কোন রঙ থাকে না।

 

 

 

৫। রজার ফেদেরার :

 

চোখ ফেরানো যাক ১৭ টি গ্র‍্যান্ডস্লাম জয়ী সুইস টেনিস তারকা রজার ফেদেরারের দিকে। `আট` সংখ্যাটিকে ফেডেক্স নিজের জন্য `সৌভাগ্য` বলে বিবেচনা করেন। ম্যাচ শুরুর আগে শুন্য কোর্টে আটবার সার্ভ করেন। সেট নিষ্পত্তির পর আটবার তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছেন রজার ফেদেরার। কোর্টে তার জন্য আটটি পানির বোতল সারিবদ্ধ করে রাখা হয়। এমনকি মাঠে আসার সময় ফেদেরার র‍্যাকেটও নিয়ে আসেন আটটি করে।

 

 

 

৬। ইয়োহান ক্রুইফ :

 

কিছুদিন আগেই পৃথিবী ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন টোটাল ফুটবলের জনক, নেদারল্যান্ড, আয়াক্স ও বার্সেলোনা কিংবদন্তী ইয়োহান ক্রুইফ। ক্রীড়া বিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুত কুসংস্কারগুলো সম্ভবত তিনিই মেনে চলতেন। আয়াক্সে থাকা অবস্থায় সতীর্থ গার্ট ব্যালসের পেটে চাপড় দিয়ে তিনি মাঠে নামতেন। এছাড়া ম্যাচ শুরু আগে  প্রতিপক্ষের অর্ধে গিয়ে মুখ থেকে নিজেদের অর্ধে চুইনগাম ছুড়ে দেওয়ার অভ্যাসও ছিল তার। একবার এগুলো করতে ভুলে যাবার পর আয়াক্স ৪-১ গোল ম্যাচ হেরে গেলে তিনি এই অদ্ভুত রীতিগুলোকে পাকাপাকিভাবে নিজের অভ্যাসে পরিণত করেন।

 

 

 

৭। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো :

 

বর্তমান ফুটবলের মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও মুক্ত নন কুসংস্কার থেকে। তবে নিজের দেশ পর্তুগালের হয়ে খেলার সময়েই নিম্নোক্ত অভ্যাসগুলো বেশি মেনে চলতে দেখা যায় তাকে। টিম বাসে সবসময় সবার পেছনে বসেন এবং সবার শেষে নেমে আসেন। কিন্তু প্লেনে সবসময় সবার আগে নেমে আসেন এবং বসেন সতীর্থ পেপের পাশে। ম্যাচের মাঝ বিরতিতে সবসময় নিজের চুলের স্টাইল পরিবর্তন করেন। এমনকি লকার রুম থেকে বের হবার সময় বল স্পর্শ করেন একবার এবং ডান পা দিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন।

 

 

 

৮। রাফায়েল নাদাল :

 

ক্লে কোর্টের রাজা রাফায়েল নাদাল বিখ্যাত তার অদ্ভুত কুসংস্কারের জন্যও। কোর্টে নামার আগে সবসময় দুটি পানির বোতল পাশাপাশি রেখে তাদের নামের লেবেল গুলোকে নিজের কোর্টের দিকে ফিরিয়ে রাখেন। ম্যাচ চলাকালীন প্রতিবার ঠিক একই পানি পান করেন। তাছাড়া রাফায়েল নাদাল সবসময় নিশ্চিত করেন যেন তার প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় তার আগে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায়। সাইড পরিবর্তনের সময়ও সবসময় প্রতিপক্ষকে আগে দিয়ে নিজে পরে ডান পা আগে দিয়ে জাল ক্রস করেন।

 

 

 

৯। স্টিভ ওয়াহ :

 

ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহকে সবসময় একটি লাল রুমাল নিয়ে মাঠে নামতে দেখা যেত। জানা গিয়েছিল এটি ছিল তার দাদার দেওয়া এবং এটিকে তিনি নিজের জন্য সৌভাগ্যের বাহক বলে মনে করতেন। টেস্ট হোক কিংবা ওয়ানডে, ব্যাটিং বা ফিল্ডিং সবসময়ই এই বিখ্যাত লাল রুমালটি তার পকেটে দেখা যেত।

 

 

 

১০। শচীন টেন্ডুলকার :

 

লিটল মাস্টার খ্যাত ভারতীয় মাস্টার ব্লাস্টার ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকারও বিশ্বাস করতেন কিছু কুসংস্কারে। সবসময় নিজের বাম পায়ের প্যাড আগে পড়তেন তিনি।শচীন ছাড়াও অন্যান্য বেশিরভাগ ভারতীয় ক্রিকেটাররাও প্রচন্ড কুসংস্কারবাদী। যেমন: ভিরেন্দর শেবাগ কোনো নম্বর ছাড়া জার্সি পড়েন, রাহুল দ্রাবিড় ডান পায়ের প্যাড আগে পড়তেন, সৌরভ গাঙ্গুলি তার গুরুজির ছবি রাখতেন, যুবরাজ সিংয়ের নিজের জন্ম তারিখের নাম্বার-ই তার জার্সি নাম্বার।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

bd24times

ব্যার্থ সোহান-শুভাগত,সৌম্যরা দল পেলেও নাসির শাহরিয়ার মারুফ উপেক্ষিত!

জাহিদুল ইসলাম, বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমস :   বিসিবি দল ঘোষণা করবেন আর তাতে কোন বিতর্ক …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *