Mountain View

বরিশালের বানারীপাড়ায় লঞ্চডুবিতে ১৩ লাশ উদ্ধার, অভিযান স্থগিত

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৬ at ১১:১৩ অপরাহ্ণ

বরিশালের বানারীপাড়ার সন্ধ্যা নদীর দাসেরহাট এলাকায় এমএল ঐশী-২ লঞ্চ ডুবির ঘটনায় ১৩ যাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ১৩ লাশেরই পরিচয় পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছে এখনও ১৫ যাত্রী। রাত হওয়ায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়।
উদ্ধার হওয়া লঞ্চ যাত্রী সিদ্দিকুর রহমান জানান, বুধবার সকাল ১১টায় বানারীপাড়া লঞ্চঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে হাবিবপুরের উদ্দেশ্যে লঞ্চটি ছেড়ে যায়। প্রথমে লঞ্চটি কালিবাজার এলাকায় ঘাট দেয়। সেখানে কিছু যাত্রী ওঠে আবার কিছু যাত্রী নেমে যায়। ওই ঘাট থেকে ছেড়ে লঞ্চটি নতুনহাটে ঘাট দিয়ে দাসেরহাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। পৌনে ১২টার দিকে লঞ্চটি দাসেরহাট এলাকায় ঘাট দেয়। সেখানে কোন টার্মিনাল না থাকায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙনকবলিত স্থানে সিড়ি দিয়ে যাত্রী উঠানামা করানো হয়। যাত্রী উঠার পূর্বে ঘাট সংলগ্ন এলাকায় বিশাল একটি ভাঙন নদীতে বিলীন হয়। এতে নদীর মধ্যে ঘুর্ণীয়মান স্রোতের সৃষ্টি হয়। এতে লঞ্চটি কাত হলে যাত্রীরা ডাক-চিৎকার করে। লঞ্চটিতে পানি উঠতে দেখে তিনিসহ (সিদ্দিক) ৬ যাত্রী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাতরে তীরে ওঠেন। তার সঙ্গে তার স্ত্রীও নদীতে ঝাঁপ দিলে তারা প্রাণে বেঁচে যান। সিদ্দিকের ধারণা লঞ্চটিতে ৩০ থেকে ৩৫ যাত্রী ছিল।
বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পরপরই তারা ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। দুপুর ২টায় তার নেতৃত্বে ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান নামে। সেখান থেকে ১৩ যাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত লাশের মধ্যে ৫ জন মহিলা, এক শিশু এবং ৭ পুরুষ রয়েছে। এরা হচ্ছেন— হারতা বাজারের সুকদেব মন্ডল, মসজিদবাড়ির রাবেয়া খাতুন ও মোজাজাম্মেল মোল্লা, জিরাকাঠীর রুপা বেগম, সাতবাড়িয়ার সাগর মীর ও ফিরোজা বেগম, মীরাবাড়ির রেহানা বেগম, সাতলার জয়নাল হক, রাজ্জাক হাওলাদার, কহিনুর বেগম, সালেহা বেগম, মিলন ঘরামী ও শান্তা আক্তার এদের বাড়ি বানারীপাড়ায়।
তিনি আরো জানান, লঞ্চের সন্ধান পাওয়া গেছে। দমকল ইউনিটের সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় নৌবাহিনী ও বিআইডব্লিউটিএ’র সদস্যরা। বানারীপাড়া থানার ওসি জিয়াউল আহসান জানান, তিনি লোকমারফত খবর পেয়ে পুলিশ বাহিনী নিয়ে দুপুর ১টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। সাঁতরে তীরে আসা যাত্রীদের সঙ্গে আলাপকালে জানতে পেরেছেন লঞ্চে ৩০ থেকে ৪০ যাত্রী ছিল। তার মধ্যে ৫ থেকে ৬ জন তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছে। তার নিকট ২৪ যাত্রী নিখোঁজের তালিকা রয়েছে। নিখোঁজের স্বজনদের মাধ্যমে এ তালিকা তৈরি করা হয়। তাদের মধ্য থেকে ১৩ যাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৮ জনের পরিচয় মিলেছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর কর্মকর্তাা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, লঞ্চটির কোন রুট পারমিট নেই। অবৈধভাবে এ রুটে যাত্রী পরিবহন করছিলো লঞ্চটি। লঞ্চ মালিক ও স্টাফদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরো জানান, অন্ধকার হয়ে যাওয়া উদ্ধার অভিযান পরিচালনা সম্ভব না হওয়ায় স্থগিত করা হয়েছে। আগামীকাল সকাল থেকে আবার উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ জন্য উদ্ধারকারী জাহাজ বরিশালে অবস্থানকারী নির্ভিককে খবর দেয়া হয়েছে। নির্ভিক আজ রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছবে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে থাকা বরিশালের জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রতি লাশের দাফনের জন্য ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হবে। দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যান বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। তিনি সেখানে অবস্থান নিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিদর্শন করেন।
এদিকে বানারীপাড়া লঞ্চঘাট সূত্র জানিয়েছে, ওই রুটে ইকরা লঞ্চের সিডিউল থাকলেও লঞ্চটি অন্যত্র রিজার্ভ যাওয়ায় সেখানে ঐশী-২ লঞ্চটিকে দেয়া হয়। ছোট একতলা লঞ্চটির সকল যাত্রীই নীচতলায় অবস্থান করছিল। যারা উপরে ছিলেন তাদের পক্ষেই নদীতে ঝাঁপ দেয়া সম্ভব হয়।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View