ঢাকা : ২৯ জুলাই, ২০১৭, শনিবার, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
Home / খেলাধুলা / ব্যবধান গড়ে দিলেন আবাহনীর বিদেশিরাই

ব্যবধান গড়ে দিলেন আবাহনীর বিদেশিরাই

শক্তিমত্তায় মোহামেডানের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিল আবাহনী। কিন্তু আবাহনী-মোহামেডানের লড়াই বলেই হয়তো প্রতিপক্ষের শক্তিকে ছাপিয়ে ভিন্ন কিছু করে ফেলার অভিপ্রায় ছিল মোহামেডান কোচ জসিমউদ্দিন জোসির। কিন্তু তাঁর দলে কী লি টাক কিংবা সানডে চিজোবার মতো কেউ ছিল! পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন তো আবাহনীর এই বিদেশিরাই। এই দুজনের দুটি দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের সঙ্গে যোগ হলো জাতীয় দলের হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাসের দারুণ এক গোলে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড।

মোহামেডান যে খুব খারাপ খেলেছে সেটা বলা যাবে না। বরং দাঁতে দাঁত চেপে লড়াইটা ভালোই চালিয়েছে তারা। আক্রমণে উঠে আবাহনীর রক্ষণকে চাপেও ফেলেছে অনেকবারই। কিন্তু অভিজ্ঞতা বলে যে একটা ব্যাপার আছে, সেই জায়গাতেই বিপুল ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল তারা। মোহামেডানে ছিল না একজন লি টাক, একজন সানডে চিজোবা কিংবা হেমন্ত, ইমন বাবু, ফয়সাল ও জুয়েল রানার মতো খেলোয়াড়। মোহামেডানের আমিনুর রহমান সজীব, শাহাদাত হোসেন শাহেদ, মাসুক মিয়া জনি ও ইসমাঈল বাঙ্গুরারা চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কাজের কাজটি করতে পারেননি।

 

খেলার শুরু থেকেই মোহামেডানকে চেপে ধরেছিল আবাহনী। মধ্যমাঠে আবাহনীর প্রাণভোমরা হয়ে ছিলেন ইংলিশ মিডফিল্ডার লি টাক। বারবার মোহামেডানের রক্ষণ চিরে বল বাড়াচ্ছিলেন তিনি। প্রথমার্ধের শুরুর দিকেই লি টাকের পাস থেকে গোল পেয়ে যেতে পারতেন হেমন্ত। কিন্তু তাঁর শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় ইমন বাবুর দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটও।

ম্যাচের ২৬ মিনিটে আবাহনীর গ্যালারিকে আনন্দে ভাসান হেমন্ত। মোহামেডানের রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে লি টাকের বাড়ানো দুর্দান্ত থ্রু ধরে গোলকিপার নেহালকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন হেমন্ত ভিনসেন্ট। জাতীয় ফুটবল দল যখন একজন স্ট্রাইকারের জন্য মাথা কুটে মরছে, তখন হেমন্তর এই গোলটি নিশ্চয়ই স্বস্তি দেবে জাতীয় দলের বেলজিয়ান কোচ টম সেন্টফিটকে। ৩৩ মিনিটে মোহামেডানও গোল পেতে পারত, তবে বাঙ্গুরার ফ্রি কিক কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করে আবাহনী।

দ্বিতীয়ার্ধে তুলনামূলক ভালো খেলেছে মোহামেডান। মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য এ সময় আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে তারা। অনেকটা সময়জুড়ে আবাহনীকে তাদের অর্ধে চাপিয়েও রেখেছে। কিন্তু সৃষ্টিশীল খেলোয়াড়ের অভাবে আবাহনীর শক্তিশালী রক্ষণকে বিপাকে ফেলতে পারেনি মোহামেডান। তৈরি করতে পারেনি সত্যিকারের কোনো গোলের সুযোগ।

এই জায়গাটাতেই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিয়েছে আবাহনীর খেলোয়াড়দের শক্তি, তাদের অভিজ্ঞতা। আক্রমণ করতে ওপরে উঠে খেলতে গিয়ে মোহামেডানের রক্ষণে যে ফাঁক তৈরি হয়েছিল, সেটিই দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে আবাহনী। প্রথমে সানডে, পরে লি টাক ম্যাচের শেষ দুই মিনিটে দুই গোল করে মোহামেডানের কফিনে শেষ দুটো পেরেক ঠুকে দিয়েছেন।

এই জয়ে শেখ জামালের সমান ১৫ পয়েন্ট আবাহনীর, তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে জর্জ কোটানের দল। অন্য দিকে এখনো লিগে জয়শূন্য মোহামেডান ৫ পয়েন্ট নিয়ে আটকে রইল তালিকা


র ১০-এ।

এ সম্পর্কিত আরও

আপনার-মন্তব্য