Mountain View

মোশারফ না তাইজুল, কে থাকছেন আফগানিস্তান সিরিজে?

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৬ at ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক: ইতিহাস বলছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে পেসারদের চেয়ে স্পিনারদের আধিপত্যই ছিল সবসময় বেশি। কিন্তু বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে ঠিক তার উল্টো। অর্থাৎ জাতীয় দলে স্পিনার স্পেশালিস্টের হাহাকার লক্ষণীয়। সাকিব, নাসির, সাব্বির যারা আছেন তারা মূলত অলরাউন্ডার। তাই তাদের সবদিক সামাল দিতে হয়।

 

 

তবে সব ঘুরিয়ে ফিরেয়ে মিরপুর ক্রিকেট পাড়ায় এখন আলোচনার বিষয় আফগানিস্তান সিরিজ। এনিয়ে বারবার মিটিংয়ে বসছেন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে, কখনো কোচ-অধিনায়ক, আবার কখনো বা অধিনায়কের সঙ্গে নির্বাচকেরা।

 

পরশু দল হোটেলে উঠে যাবে। তার মানে আগামীকালের মধ্যে নির্বাচকদের দল ঘোষণা করতেই হবে। দল নিয়ে আলোচনা এ সময় বেশি বেশিই হওয়ার কথা। তবে সর্বশেষ খবর, সব আলোচনাই থেমে যাচ্ছে একটা জায়গায়—১৪ জনের দলে তাসকিন আহমেদ থাকবেন কি থাকবেন না? সঙ্গে ঘুরপাক খাচ্ছে আরেকটা প্রশ্নও—মোশাররফ হোসেন, না তাইজুল?

 

এই দুই বাঁহাতি স্পিনারের মধ্যে একজনই জায়গা পাবেন দলে। তাসকিনের অবশ্য কারও সঙ্গে এমন লড়াই নেই। তাঁর অপেক্ষা বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষার ফলাফলের জন্য। আগামীকালের মধ্যেই যা অস্ট্রেলিয়া থেকে চলে আসার কথা। নির্বাচক কমিটিও সেটির অপেক্ষাতেই আছে। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন তা বলেই দিলেন, ‘হোম সিরিজে দল ঘোষণা নিয়ে

 

 

তাড়াহুড়ার কিছু নেই। আমরা কালই (আজ) দলটা বিসিবি সভাপতির কাছে দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব। তার আগে তাসকিনের জন্য একটু অপেক্ষা করছি। কাল-পরশুর (আজ-কাল) মধ্যে ওর রিপোর্ট চলে আসার কথা।’ নির্বাচকদের চোখ থাকবে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিজেদের মধ্যে অনুষ্ঠেয় আজকের প্রস্তুতি ম্যাচের দিকেও।

 

তাসকিনের রিপোর্টের জন্য অধীর অপেক্ষাই বলে দিচ্ছে, আফগানিস্তান সিরিজকেও হালকাভাবে নিচ্ছে না বাংলাদেশ। ইংল্যান্ড সিরিজের আগে এটা আত্মবিশ্বাসের সিলিন্ডারে জ্বালানি ভরার সুযোগ। কোচ-নির্বাচকেরা সুযোগটা পুরোপুরিই কাজে লাগাতে চান। মিরপুরে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু তিন ওয়ানডের সিরিজের জন্য তাই পূর্ণ শক্তির দলই ঘোষণা করা হবে। আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় ইংল্যান্ড সিরিজের দল আর এই দলে তেমন একটা পার্থক্য থাকবে না বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। দলের কাঠামোও ঠিকঠাক। তিন ওপেনার, চার পেসারের সঙ্গে দুজন বিশেষজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার। সাকিব আল হাসান এই দুই স্পিনারের একজন। কিন্তু আরেকজন কে? এখানেই চলে আসছে ‘মোশাররফ, না তাইজুল’ প্রশ্নটা।

 

বাঁহাতি স্পিনার মোশাররফ হোসেন প্রথমে ৩০ জনের প্রাথমিক দলেই ছিলেন না। কিন্তু হাইপারফরম্যান্স ইউনিটের সংক্ষিপ্ত ক্যাম্পে তাঁর বোলিং পছন্দ হয় ভেঙ্কটপতি রাজুর। ভারতীয় এই কোচের সুপারিশে পরে প্রাথমিক দলে ডাকা হয় মোশাররফকে। ওই সময় ব্যক্তিগত সফরে ভারতে থাকলেও দলে ডাক পেয়ে এক দিন থেকেই তিনি চলে আসেন দেশে।

 

শেষ পর্যন্ত স্কোয়াডে সুযোগ পেয়ে মাঠেও নেমে গেলে সাড়ে আট বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন ঘটবে মোশাররফের। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে খেলেছিলেন। ওই বছরই চলে যান ‘নিষিদ্ধ ক্রিকেট’ আইসিএলে। ২০১২-এর বিপিএলে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগও ওঠে তাঁর বিপক্ষে। সে অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়ে মোশাররফ ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরেন ২০১৪-এর বিসিএল দিয়ে।

 

তাসকিন যদি একটা প্রশ্ন হয়, আরেকটা প্রশ্ন—মোশাররফ, না তাইজুল? ২০১৪-এর সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি ওয়ানডে খেলেছেন তাইজুল। দুটিতে হয়েছে দুই রকম অভিজ্ঞতা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেকে হ্যাটট্রিক করে গড়েছিলেন ইতিহাস। যেটি ছিল ওয়ানডে অভিষেকে হ্যাটট্রিকের প্রথম ঘটনা। দ্বিতীয় ওয়ানডেটি গত বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। যেটিতে বোলিং ওপেন করেছিলেন। ১০ ওভারে ৫৮ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। তাঁর বোলিং নিয়ে প্রকাশ্যেই বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন কোচ হাথুরুসিংহে। তবে এবার নেটে তাইজুলের বোলিং হাথুরুসিংহেকে নাকি বেশ মুগ্ধ করছে!

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View