ঢাকা : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, মঙ্গলবার, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

ফেসবুকের DSU গ্রুপ অনলাইনে যৌনবিকৃতদের আখড়া!

গ্রুপের পুরো নাম Desperately Seeking Uncensored। মানুষ ওখানে ডেসপারেট হয়ে Uncensored খুঁজে বেড়ায়।

এরা সেই মানুষ, যারা রক্ত ছবিতে পরীমনির চুম্বন দৃশ্য দেখে হায় হায় করে। এরা সেই মানুষ যারা রাস্তাঘাটে ওত পেতে থাকে কখন মেয়ের ক্লিভেজ একটু দেখা যায়, ব্রা’এর ফিতা বের হয়ে যায়, ওড়না সরে যায়। তাহলেই টুপাটুপ এরা ছবি তুলে গ্রুপে দিবে। যেখানে কামানো যাবে হাজার হাজার লাইক।

এই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা কত? আন্দাজ করেন? ১ লাখ ২২ হাজার। আমার  গ্রুপের একগাদা বন্ধু এই গ্রুপের মেম্বার। ছেলেমেয়ে সবাই। এই গ্রুপেই একমাত্র আমি দেখেছি কোন মেয়ের ক্লিভেজের ছবিতে আরেক মেয়েকে রসিকতা করতে।

ডজন ডজন মেয়ে কমেন্টে করেছিল, ছেলের ক্লিভেজের ছবি তুলতে পারাকে সাধুবাদ জানিয়ে। যদি তারা ফেইক আইডি না হয়ে থাকে, তাহলে তারা আমার গালে ঠাস করে চড় মারলো।

এই গ্রুপ আমাকে শিখিয়েছে, ছেলেই কেবল মেয়েকে ধর্ষণ করে না। মেয়েরাও করে।

বাস থেকে মেয়ের ক্লিভেজের ছবিটা পোস্টের পর সেখানে একগাদা মেয়ের কমেন্ট দেখে আমি ঘেন্নায় লিভ করেছি অনেকদিন হলো। আমি শান্তিতে ছিলাম। গত পরশু এক বন্ধু বলল, ডিএসইউ’তে এক পোস্ট খুব ভাইরাল হইছে। এক ছেলেমেয়ের ভিডিও। আমি পাগলের মতো সেই গ্রুপে ইন করতে চাইলাম, গ্রুপ অফ। ক্লোজড গ্রুপের ভিতরে চলছে পাশবিক উল্লাস।

একটা ছেলে আর মেয়ে চার দেয়ালে কী করবে সেটা সেই ছেলেমেয়েই ভালো বুঝবে। তাদের ভিডিও ছড়ানো যে সাইবার ক্রাইম সেটা তো নতুন না! সবচেয়ে মজার বিষয় কি জানেন?

এই গ্রুপে সিআইডি, আইন নিয়ে বকবক করা লোকও আছে। আইনটা খুব ভালোভাবে জেনেও তারা একবিন্দু প্রতিবাদ করে না। এদের অনেকের কাছে আমি আমার সাইবার ক্রাইম নিয়ে গিয়েছিলাম। এখন ঘেন্না হচ্ছে। রক্ষকই ভক্ষক! এরাই নারী অধিকারের কথা বলে?

14445517_1304474016250536_591354924_nএই গ্রুপের একাধিক এডমিন। নতুন নতুন এডমিন। একদম প্রথমদিককার একজন এডমিনের প্রোফাইলে লেখা, “সে খালি মেয়েদের রিকু একসেপ্ট করে। লুইচ্চা বললে তার কিছু যায়ে আসে না”।  আপাতত দৃষ্টিতে এই কথা মজা করে হাজার ছেলে বললেও, এরাই সাইবার ধর্ষকে রুপান্তরিত হয়। যেমনটা হয়েছে ডিএসইউ এর ছেলেরা।

৮ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল হবার পরে শুনেছি ডিএমসি থেকে ভিডিওর ছেলেমেয়েটিকে তাড়ানো হয়েছে। এই খবরের সত্যতা আমার জানা নেই। তবে যা বুঝি, ডিএমসি এর অথোরিটি এটা করবে না। কারণ যৌনতা যে স্বাভাবিক বিষয় তা ডিএমসি এর অথোরিটি ছাড়া ভালো কেউ বুঝবে না।

আজ সকালে স্ক্রিনশট পেলাম, ৮ মিনিট না, এখন শুরু হয়েছে ৬ মিনিটের ভিডিও। এরা এভাবেই ভিডিওগুলোর নাম দেয়! তারপর যে মেয়ের ভিডিও ছড়ায়, কোথাও তার সঙ্গে দেখা হলে ছবি তুলে বলে, “অত মিনিটের ভিডিও’র মেয়েটির সঙ্গে দেখা হলো”।

কোন মেয়ের শার্ট উঁচু হয়ে থাকলে তা নিয়ে জঘন্য সব মন্তব্য করে ছেলেমেয়ে সবাই। আমি বুঝি না, একজন মেয়ে হয়ে মেয়ের প্রতি এই সাইবার নির্যাতন সহ্য করে কেমন করে!

পর্ণ সাইটে হাজার অভিনেতা অভিনেত্রী অভিনয় করেছেন। তাদের ভিডিও দেখলেও আপনার কামবাসনা মেটার কথা। তবুও কেন, একজন সাধারণ নিরপরাধ মেয়ের ক্লিভেজ, বুক, পেট কিংবা প্রিয় মানুষের সঙ্গে কাটানোর ভিডিও ছড়িয়ে আপনি কী মজা পান? কিংবা যারা দেখছেন তারাও কি এই অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না? যারা শেয়ারের পর শেয়ার করেছেন, উৎসাহ দিয়েছেন পোস্টদাতাকে। তারাও কি এই সাইবার ক্রাইমের অন্তর্গত না?

অনেক আইনজীবী ভাইয়া-আপুরা আছেন, তারা আরও ভালো বলতে পারবেন কতটা নোংরা এই সাইবার ক্রাইম! কিভাবে একজন মানুষের জীবন ধ্বংস করে দেয় এই ক্রাইম।

এই এতো সবকিছু অনেককে বোঝানোর পরেও গ্রুপ লিভ করতে চায় না অনেকে। তাদের ভাষ্যমতে, “ওরা খারাপ। কিন্তু আমি গ্রুপ লিভ করবো না”। আমি কাউকে জোর করতে পারি না। কিন্তু এটাতো বুঝাতে পারি, গ্রুপ লিভ করে আপনি দর্শক কমাতে পারেন। অনুৎসাহী করতে পারেন পোস্টদাতাকে। সবচেয়ে বড় কথা নিজে তো সৎ থাকতে পারেন!

আসলেই তো, কেন বিনে পয়সায় ফানটা নষ্ট করবে কেউ?

ব্যাপারটা যে ফান নয়, সেটা কেউই বুঝে উঠে না! সবকিছু নিয়ে ফান হয় না। আজ রাস্তা দিয়ে যে মেয়ের বুকের ছবি দেখে ফান পাচ্ছেন, কাল ওই ছবিতে থাকতে পারে আপনার মা, বোন, প্রেমিকা, বন্ধু, স্ত্রী।

সাইবার ক্রাইম কাউকে ছাড়ে না। আজ প্রতিবাদ করছেন না? সেদিন আপনার পাশেও কেউ থাকবে না।

আমি ভাবি বিকৃতমনার এই আখড়াতে ভিড়েছে হয়ত ১৬ থেকে আঠারো বছরের কিশোররা। যাদের চুপিচুপি ধর্ষক বানাচ্ছে এই গ্রুপটা। আর আপনি গ্রুপটিকে “ফান” হিসেবে নেওয়া মানুষটা! জন্ম দিচ্ছেন আগামী দিনের ধর্ষককে। ওই ধর্ষক যে আপনার বা আপনার কাছের নারীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে না তার গ্যারান্টি আছে?

গ্রুপে আছেন, মজা নিচ্ছেন, সাইবার ক্রাইমকে সায় দিচ্ছেন। এবার চোখ বন্ধ করে ভাবুন, আপনার কাছের নারীটা নিরাপদ তো এই গ্রুপের কাছ থেকে?

আমরা কি প্রতিবাদ করব না? আইনি ব্যবস্থা নেবো না?

লিখেছেন মারজিয়া প্রভা।লেখাটি লেখকের একান্ত মতামত এর জন্য বিডিটুয়েন্টিফোর টাইমস কোন কারণে দায়ী থাকবে না।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

minister1480941019

‘২০১৮ সালের মধ্যে নিরক্ষরমুক্ত হবে দেশ’

২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *