Mountain View

জাতীয় দলের হয়ে ভালো খেলার অপেক্ষায় মোসাদ্দেক!

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৬ at ৬:১৪ অপরাহ্ণ

20160923180542
জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়ছেন অনেকদিন থেকেই। সুযোগও এসেছিল। চলতি বছরের শুরুতে মাশরাফি-সাকিবদের সতীর্থ হয়ে খেলে ফেলেছেন একটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ। তবে কলি থেকেপূর্ণ ফুল হয়ে ফুটে সুবাস ছড়ানোর জন্য দরকার ছিল সুযোগের রাস্তাটা অবারিত থাকা। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের জন্য সেই ক্ষণটি ধরা দিলো বৃহস্পতিবার। এদিন বাংলাদেশ দলের জন্য নিজেকে প্রমাণের সুযোগের আরেক ধাপে পা রেখেছেন এই অলরাউন্ডার। আফগানদের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডের দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি। যেটি হয়তো ২০ বর্ষী এই ক্রিকেটারের জন্য নিজেকে সামনে এগিয়ে নিতে টার্নিং পয়েন্ট হয়ে থাকবে

।প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু দল ঘোষণার পর এক প্রশ্নের জবাবে জানান, ওয়ানডের চ্যালেঞ্জটি নিতে ভালোভাবেই প্রস্তুত মোসাদ্দেক। মোসাদ্দেক নিজেও সেটাই বিশ্বাস করেন। একাদশে জায়গা মিললে নিজেকে মেলে ধরার জন্য সেই আত্মবিশ্বাসটা কাজেলাগাতে চান তিনি।নতুন সুযোগে নিজেকে মেলে ধরতে উন্মুখ মোসাদ্দেক বলেছেন, ‘একদিন জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখতাম ছোটোবেলা থেকেই। আগে যখন টি-টুয়েন্টি দলে ডাক পেয়েছিলাম, তখন একরকম অনুভূতি ছিল; এখন ওয়ানডে দলে ডাক পেয়ে অন্যরকম এক অনুভূতি হচ্ছে। সব সময়েইচেয়েছি ওয়ানডে দিয়ে আমার অভিষেক হোক। সেটা হয়তো হয়নি, তবে সুযোগ পেয়ে মনে হচ্ছে খেলতে পারলে ভালো কিছুই করব।’এ পর্যন্ত যতটা পথ পাড়ি দিয়েছেন তাতে অপার সম্ভাবনার কথাই বলে গেছে মোসাদ্দেকের ব্যাট, বল হাতেও আছে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর রসদ। তার মত অনেকের মাঝেই এই সম্ভাবনার বলিরেখাটা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু তাদের কতজনই’বা ফুল হয়ে ফুটে সুবাস ছড়াতে পারেন! আবার যে অল্পকজন পারেন, তাদের মাঝে শুরু থেকেই অন্যরকম এক শারীরিক ভাষা চোখে পড়ে। মোসাদ্দেক তাদেরই একজন বলে দেশের ক্রিকেটে কয়েকবছর ধরেই আলোচনার ঝড়।শুরুটা হয়েছিল বয়সভিত্তিক ক্রিকেটেই। বাংলাদেশের হয়ে দুটি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেখেলেছেন। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিতই হেসেছে তার ব্যাট। গত প্রিমিয়ার লিগেই আবাহনীর হয়ে ১৬ ম্যাচে ৭৭.৭৫ গড় ও ১০৪.৮৯ স্ট্রাইকরেটে ৬২২ রান এসেছিল তার ব্যাটথেকে। সঙ্গে উইকেট নিয়েছিলেন ১৫টি।লিস্ট ‘এ’ ও প্রথম শ্রেণির ম্যাচ মিলিয়ে তিন হাজারের ওপর রান এবং তিন ডজন উইকেট আছে তার। বড় ইনিংস খেলার সক্ষমতা আছে তার। ক্যারিয়ারের ৩টি ডাবল সেঞ্চুরির দুটি আড়াইশর ঘরে, একটি থেমেছে ২৮২ রানে।গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে কেবল রান-উইকেটেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। ম্যাচ জিতিয়েফেরার অভ্যাসও গড়ে তুলেছেন! যা আবাহনীকে শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে ম্যাচে বলতে গেলে আবাহনীকে একাই জিতিয়ে ফিরেছিলেনমোসাদ্দেক। সেই ম্যাচে ৫৫ বলে ৭৩ রানের নজর কাড়া একটি ইনিংস খেলেছিলেন। পরে বল হাতে ঘূর্ণি জাদুতে তুলে নেন ৫ উইকেট।আবাহনীর শিরোপা জয়ের মিশনে তার পরের ম্যাচেই প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে ৭৮ রানের একটি ইনিংস খেলেছিলেন মোসাদ্দেক। যে ইনিংসগুলো তার ওয়ানডে দলের দরজা খুলতে নির্বাচকদের দৃষ্টি কেড়েছে। বড় কিছুর আগমনী বার্তাটা এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও জানান দেওয়ার পালা তার।প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিনও মনে করেন আন্তর্জাতিক ধাপের জন্য এখন প্রস্তুতমোসাদ্দেক। জানালেন, ‘কিছু কিছু ক্রিকেটারের মেধাটা অনেক আগে থেকেই বোঝা যায়। মোসাদ্দেক তাদেরই একজন। ঘরোয়া ক্রিকেটে সে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাটিং করেছে। গত দুই বছরে সে দারুণ খেলেছে। লঙ্গার ভার্সনেও কিন্তু তার ভালো পারফরমেন্স আছে। আমরা মনে করি সে প্রস্তুত হয়ে উঠেছে।’যাদের হাত ধরে মোসাদ্দেকের পরিচর্যা, সেই দেশিয় কোচরাও নানা সময়ে শিষ্যকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। সরওয়ার ইমরান, খালেদ মাসুদ পাইলট, খালেদ মাহমুদ সুজন, মোহাম্মদ সালাউদ্দিনরা যে অনেক আগেই আবিষ্কার করতে পেরেছিলেন মোসাদ্দেকের লম্বা রেসের ঘোড়া হওয়ার প্রস্তুতির বিষয়টি!মোসাদ্দেক সেই প্রস্তুতিটা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজে লাগাবেন বলেই সকলের চাওয়া। তার হাত ধরেই টাইগার ক্রিকেট হয়তো সাকিব-তামিমদের মত আরেকজন প্রশংসিত ক্রিকেটার উপহার পাবে। সুযোগ ও আত্মবিশ্বাসের মিশেলে মোসাদ্দেকের জন্য এখন তাই পূর্ণ ফুল হয়ে সুবাস ছড়ানোর সময়।

এ সম্পর্কিত আরও