ঢাকা : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, মঙ্গলবার, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

বুড়িগঙ্গার থৈ থৈ পানিতে ডলফিনের দেখা

বুড়িগঙ্গা নামটি মনে হলেই কল্পনায় ভাসে পূতিগন্ধময় কালো দূষিত পানির এক নদীর কথা। এ নদীতেও ডলফিন বাস করে, তা বিশ্বাস করা কঠিন। গত মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়, তাতে দেখা যায় বুড়িগঙ্গার পানি থেকে লাফিয়ে উঠছে একটি ডলফিন। ছবির সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ থেকেই ১০ সেপ্টেম্বর নদীর তীরবর্তী বছিলা ও ওয়াসপুরে যাওয়া। সরেজমিন ডলফিন দেখার পর বুড়িগঙ্গায় প্রাণীটির অস্তিত্ব সম্পর্কে আর সন্দেহ থাকল না।

 

রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে যে সড়কটি বেড়িবাঁধে উঠেছে, সে পথেই বছিলার শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতুতে যাওয়া যায়। নদীর ওপারে কেরানীগঞ্জের শাক্তা ইউনিয়নের ওয়াসপুর। আধা শহর, আধা গ্রাম ধরনের জনপদ। সেতুর পাশে নদীর তীরে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কয়েকটি ইটের ভাটা গড়ে উঠেছে।

 

এবারের বর্ষায় বুড়িগঙ্গায় থৈ থৈ পানি। নদীতে বর্জ্য, কচুরিপানা ভেসে বেড়ালেও পানি যথেষ্ট স্বচ্ছ ও নির্মল। তবে চাইলেই ডলফিন দেখা যায় না। এ জন্য নদীতীরে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। নদীতে সতর্ক চোখ রাখতে হয়। নিঃশ্বাস নিতে পানি থেকে লাফিয়ে ওঠে স্তন্যপায়ী প্রাণী ডলফিন। মুহূর্তের মধ্যেই আবার পানিতে তলিয়ে যায়। কয়েক মিনিট পর কয়েক মিটার দূরে আবার লাফিয়ে

 

ওঠে, ডুবে যায়। বাঁশির মতো লম্বা ঠোঁট, ছাই বর্ণের পিঠ, সাদা বুক ও পেট। ভেজা শরীরে রোদের ঝিলিক। এক ঘণ্টা অপেক্ষায় চারটি ডলফিন দেখা সম্ভব হয়; কিন্তু ছবি তোলা সম্ভব নয়।

 

কথা হয় নদীতীরের বালুর বলগেটের শ্রমিকদের সঙ্গে। তারা জানালেন, ডলফিন নয়, প্রাণীটি তাদের কাছে শুশুক বা শিশু মাছ নামে পরিচিত। শ্রমিকদের মধ্যে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ নূরু মিয়ার বাড়ি ওয়াসপুরের নিকটবর্তী গ্রাম আটিতে। ৫৬ বছর বয়সী নুরু মিয়া জানালেন, ৩০-৪০ বছর আগে বুড়িগঙ্গায় সারা বছরই শুশুক দেখা যেত। এখন শুধু বর্ষার দুই মাস দেখা যায়।

 

বছিলার জেলেপাড়ার বাসিন্দা ইকবাল জানান, আর ক’দিন পর নদীর পানি কালো ময়লাযুক্ত হয়ে যাবে। তখন আর শুশুক থাকবে না। এ বছর নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশি সংখ্যক শুশুক দেখেছেন তিনি।

 

ইন্টারনেটে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুশুক নামে পরিচিত প্রাণী আসলে মিঠা পানির ডলফিন। যার বই-পুস্তকের নাম গাঙ্গেয় ডলফিন (এধহমবং জরাবৎ উড়ষঢ়যরহ)। বৈজ্ঞানিক নাম চষধঃধহরংঃধ এধহমবঃরপধ। এ প্রজাতি ছাড়াও ইরাবতি নামের আরেক প্রজাতির ডলফিন রয়েছে বাংলাদেশে। তবে তা পুরোপুরি মিঠা পানির নয়। বছরের কিছু সময় সাগরে বাস করে। শুশুক নামে পরিচিত ডলফিন বাংলাদেশের প্রায় সব নদীতেই এক সময় দেখা যেত। এখন বিলুপ্তির পথে। তাই বুড়িগঙ্গার মতো দূষিত নদীতে ডলফিনের বিচরণ বিস্মিত হওয়ার মতোই বিষয়।

 

গত কয়েক বছর ধরে বুড়িগঙ্গায় ডলফিন দেখতে যান এবং এ বিষয়ে ব্লগে লেখেন সৈয়দ সাইফুল আলম শোভন। তিনি জানালেন, আগের তুলনায় কম হলেও এবার ডলফিনের সংখ্যা আশাব্যঞ্জক। বর্ষায় নদীর পানি পরিষ্কার থাকায় এরা এসেছে। ডলফিনের মূল খাদ্য ছোট মাছ। ডলফিনের বিচরণের কারণে বোঝা যাচ্ছে, এবার যথেষ্ট ছোট মাছও রয়েছে বুড়িগঙ্গায়। তবে আর দুই মাস পর বন্যার পানি নেমে গেলে শিল্প ও বাসাবাড়ির বর্জ্যে দূষিত হবে বুড়িগঙ্গা। দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ অনেক কমে যাবে। তখন কোনো মাছ নদীতে থাকবে না, ডলফিনও থাকবে না।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

full_1973988107_1480861055

ঝিনাইদহে গ্রেফতার ৮৪, বোমা-গুলি-মাদক উদ্ধার

ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বোমা, গুলি, মাদকসহ বিভিন্ন মামলায় ৮৪ জনকে গ্রেফতার করেছে …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *