Mountain View

‘এর চেয়ে ভালো কিছু হয় না’

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৬ at ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ

বোলিং অ্যাকশন নিষিদ্ধ হওয়ার পর কঠিন এক সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানিকে। কখনো কখনো ভীষণ হতাশা ঘিরে ধরেছে দুজনকে। তবু হতোদ্যম হননি। নিজেদের শুদ্ধ করে তোলার প্রক্রিয়া চালিয়ে গেছেন একাগ্রে। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর দুজন বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষা দেন ৮ সেপ্টেম্বর। কাল জানা গেছে সেই পরীক্ষার ফল। উতরে গেছেন তাসকিন-সানি। দুজনের মনে এখন চাপমুক্তির আনন্দ!
আরাফাত সানি78f52f4ebcf15526e0da3bb5071b7aaf-untitled-7বিরুদ্ধ স্রোতে সাঁতরে কীভাবে জয়ী হতে হয়—আরাফাত সানির কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন। গত মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে যখন তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিষিদ্ধ হলে পড়ে গিয়েছিলেন অকূলপাথারে।
বিশ্বকাপের পরপরই রুয়ান কালপাগের অধীনে শুরু হয়েছিল সানির বোলিং অ্যাকশন শুধরে নেওয়ার প্রক্রিয়া। দুটি সেশন করে দেশে ছুটি কাটাতে যান কদিন আগে সাবেক হওয়া জাতীয় দলের এই শ্রীলঙ্কান স্পিন কোচ। রোজার ঈদের পরে তো কালপাগে আর আসেনইনি।
পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া চলার সময় অসুস্থ বাবাকে নিয়ে ছোটাছুটি করতে হয়েছে সানিকে। বাবা অবশ্য পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন গত মাসে। শোক কাটিয়ে না উঠতেই ক্যারিয়ারের বড় এক বাধা পেরোনোর পরীক্ষা। পরীক্ষা দিতে অস্ট্রেলিয়ায় উড়াল দেওয়ার আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। গায়ে ভীষণ জ্বর নিয়েই উড়াল দেন ব্রিসবেনে। একের পর এক বৈতরণি পেরিয়ে সানির মুখে অবশেষে ধরা দিয়েছে বিজয়ের হাসি।
মিরপুরে তাসকিনকে পাওয়া গেলেও কাল অবশ্য সানিকে পাওয়া যায়নি। তিনি যে আফগানিস্তান সিরিজের দলে নেই। প্রতিক্রিয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ না করলেও সানির মনে যে আনন্দের ঢেউ, মুঠোফোনে সেটি বেশ বোঝা গেল, ‘বিশ্বকাপের পর সবাইকে একই প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। হতাশা ঘিরে ধরেছিল। মনে হচ্ছিল বিরাট শাস্তি ভোগ করছি। আমার চেষ্টা আর সবার দোয়ায় আল্লাহর রহমতে আবার ফিরে আসতে পেরেছি। এটা আমার কাছে বিরাট আনন্দের খবর।’
পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া চলার সময় কোচ না থাকলেও প্রস্তুতিতে সানির ঘাটতি হয়নি এতটুকু। নিয়মিত নিজের বোলিং ভিডিও ফুটেজ পাঠিয়েছেন কালপাগেকে। সেই ভিডিও দেখে কোচ পরামর্শ দিয়েছেন। অ্যাকশন শুদ্ধ করে তোলার এই প্রক্রিয়ায় যাঁদের সহায়তা পেয়েছেন সবার প্রতিই সানির কৃতজ্ঞতা, ‘আমি আসলে অনেকটা একা একাই কাজ করেছি। রুয়ান (কালপাগে) অবশ্য শুরুতে কিছু কাজ দেখিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অনুশীলনে-ম্যাচে ভুল করতে পারো, ড্রিলে ভুল করা যাবে না। রুয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা। সালাউদ্দিন ভাই, রাজ ভাইয়েরা আমাকে নানাভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন।’
সানির জন্য দলে ফেরাটা এখন বিরাট চ্যালেঞ্জ। এবার এই ‘পরীক্ষাতে’ও উতরে যেতে চান, ‘আমি তো আর পারফরম্যান্সের কারণে বাদ পড়িনি। দল ঘোষণা করেছে মাত্র দুই ওয়ানডের জন্য। সামনে আরও খেলা আছে। এমন না যে আমার জন্য দরজাটা বন্ধ হয়ে গেছে। আবার ডাকতেও তো পারে।’
সানির সব মনোযোগ এখন কাল থেকে শুরু হওয়া জাতীয় লিগে। লিগ খেলতে গতকাল রাতেই তাঁর বগুড়ায় রওনা হওয়ার কথা। ওখানে ভালো করে দ্রুত ফিরতে চান বাংলাদেশ দলে, ‘পাস করেই খেলার সুযোগ পাচ্ছি বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে। অনুশীলনের জন্য এর চেয়ে ভালো কিছু আর হয় না। চেষ্টা করব জাতীয় লিগে ভালো করতে।’

এ সম্পর্কিত আরও