Mountain View

৩–০–তে চোখ বাংলাদেশের

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ at ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ

c94476edb483812ae1cc762aad5965e8-8আফগানিস্তান নিয়ে আলোচনা দুই কথায় শেষ। সেই দুই কথাও যেন সব কূল রক্ষা করতে বলা। নইলে প্রথম কথাটার দরকারই ছিল না!
প্রথম কথা: আফগানিস্তান খুব ভালো দল। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার দৃষ্টিতে এতটাই ভালো যে, খারাপ খেললে বাংলাদেশ হেরে যাবে।
দ্বিতীয় কথা: সিরিজের তিনটি ম্যাচই জিততে চায় বাংলাদেশ।
মিরপুরে আজ শুরু তিন ওয়ানডের সিরিজে আফগানিস্তান দলকে বাংলাদেশ কোন দৃষ্টিতে দেখছে, সে নিয়ে আর কিছু বোধ হয় বলার দরকার নেই। আফগানিস্তানের জায়গায় হন্ডুরাস হলেও প্রথম কথাগুলো নিশ্চয়ই বলতেন বাংলাদেশ দলের কোচ-অধিনায়ক। এবং তখনো তিন ওয়ানডের সিরিজ ৩-০-এর বেশি ব্যবধানে জেতা সম্ভব হতো না।
তবু চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ও মাশরাফি বিন মুর্তজার সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনের স্থায়িত্বকাল প্রায় ১৭ মিনিট। কেন? দুই কথায় সব শেষ করে দেওয়ার পরও এত কী কথা!
আসলে প্রশ্ন-উত্তর সব বাংলাদেশ দলকে নিয়েই। বছর দেড়েক ধরে সব ম্যাচের আগেই বাংলাদেশ দলের মূল ভাবনা নিজেদের নিয়ে। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, সেরা খেলা খেলতে পারলে জেতা সম্ভব—এই বিশ্বাস এসে যাওয়ার পর এটাই অবশ্য স্বাভাবিক। অন্যের ঘরে উঁকি দিয়ে নিজের ঘর সামলানোর পরিকল্পনার দিন এখন আর নেই।
আজ থেকে শুরু সিরিজে বাংলাদেশের ভাবনা তাই নিজেদের নিয়েই। ঘরের ‘সমস্যা’র তালিকায় প্রধানতম, ‘একমাত্র’ সমস্যাও বলতে পারেন, বাংলাদেশ ওয়ানডে খেলতে নামছে প্রায় এক বছর পর। অনভ্যস্ততায় জয়ের অভ্যাসে মরচে পড়া স্বাভাবিক। আফগানিস্তান যতটুকুই গুরুত্বটুকু পাচ্ছে, তা এ কারণেই। কোচ হাথুরুসিংহে সরাসরিই বলে দিলেন, ‘দীর্ঘদিন না খেলাটাই আমাদের মাথাব্যথার একমাত্র কারণ।’ সমস্যাটা কাটিয়ে উঠতে পারলে লক্ষ্য পূরণ অসম্ভব মনে করেন না কোচ। লক্ষ্যটা কী, সেটাও গোপন করেননি—আফগানিস্তানকে ধবলধোলাই করা।
ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং—দলের কোনো জায়গাতেই দুর্বলতা দেখছেন না হাথুরুসিংহে। দুশ্চিন্তার সবটুকু আন্তর্জাতিক ওয়ানডের সঙ্গে সৃষ্ট দূরত্ব নিয়ে। সেটাও যত না খেলা নিয়ে, তার চেয়ে বেশি মানসিক প্রস্তুতিসংক্রান্ত। এত দিন পর ওয়ানডেতে ফেরা, ঘরের মাঠে গ্যালারিভর্তি দর্শকদের সামনে খেলা…অন্তত প্রথম ম্যাচে একটু অনভ্যস্ততার একটু ছায়া পড়তেই পারে। প্রস্তুতি পর্বে প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেছেন ক্রিকেটাররা। কিন্তু আন্তর্জাতিক ম্যাচের আবহ বরাবরই অন্য রকম। দীর্ঘদিন পর মাঠে ফিরে এসবের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাকেই বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন হাথুরুসিংহে।
অধিনায়ক মাশরাফির কথায় হয়তো সে কারণেই সতর্কতা, ‘খেলোয়াড় হিসেবে আমরা কেন ভাবব না যে, সিরিজটা কঠিন হবে? অবশ্যই আমাদের তা ভাবা উচিত এবং সেই চিন্তা নিয়েই মাঠে নামা উচিত।’
আফগানিস্তান সিরিজ শুরু হচ্ছে একটা বড় দুশ্চিন্তাকে বিদায় দিয়ে। তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানির বোলিং নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার সুখবর পাওয়া গেছে সিরিজ শুরুর দুই দিন আগে। কোচ-অধিনায়ক এই খবরে দারুণ স্বস্তিতে। মোস্তাফিজুর রহমানের অনুপস্থিতি ভুলতে কিছুটা হলেও সাহায্য করছে তাসকিনের ফেরা। মাশরাফি বললেন, ‘মোস্তাফিজকে অবশ্যই মিস করব। তবে ও থাকতেও যে চ্যালেঞ্জ ছিল না, সেটা নয়। এখনো একই চ্যালেঞ্জ। তবে দলে যারা আছে, তাদেরও ভালো করার সামর্থ্য আছে। ওরা পারবে না বা অন্য কিছু, এ রকম ভাবছি না।’
ব্যাটিং নিয়ে তো দুশ্চিন্তা আরও কম হওয়ার কথা। দলে নতুন যিনি এসেছেন, সেই মোসাদ্দেক হোসেনের ওপরও কোচের অনেক আস্থা। ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত পারফরমার, ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েই পরশু বিসিবি একাদশের হয়ে প্রস্তুতি ম্যাচে ৭৬ রান করে আরও একবার নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন ২০ বছর বয়সী এই তরুণ। একাদশে জায়গা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার যেটি প্রমাণও দিচ্ছে। হাথুরুসিংহের ভাষায়, ‘আমার ও নির্বাচকদের জন্য এটা স্বাস্থ্যকর একটা পরিস্থিতি।’
সিরিজটা ৩-০-তে শেষ হলে তা আরও ‘স্বাস্থ্যকর’ হবে। আয়নায় নিজেদের ভালো-মন্দ দেখে নেওয়ার এই সিরিজে জয়টাই তো শেষ কথা।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View