ভূঞাপুরে কয়েড়া-নিকরাইল ৪ কি.মি. রাস্তার বেহাল দশা

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬ at ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ

14458962_1696078777380325_1041957065_n

মোঃ ফরমান শেখ- টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ৪নং গোবন্দাসী ইউনিয়নের দক্ষিণে অর্থাৎ শেষ পার্ন্তে অবস্থিত কয়েড়া-নিকরাইল হাট পর্যন্ত দীর্ঘ ৪ কি.মি. রাস্তার যোগোযোগের অচল অবস্থা ও বেহাল দশায় পরিণিত হয়ে রয়েছে। এবং জনদুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলছে। সেই সাথে সামান্য বৃষ্টি হলেই দেখা দেয় নানা রকম ছোট বড় গর্তসহ পানির জলবদ্ধাতা। এই কয়েড়া-নিকরাইল সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত উপজেলার দুর-দুর্রান্তে থেকে বিভিন্ন পণ্যবাহী ছোট ছোট পিক-আপ, সিএনজি, অটো-ভ্যান দিয়ে চলাচল করে আসছে। এবং এতে কমে আসছে বেকার সমস্যা। কিন্তু ৪কি.মি.রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় অনেকেই পড়েছে চরম জনদুর্ভোগে। উপজেলার এই ব্যস্ততম সড়কটি আজ খানা-খন্দে ভরপুর। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যাচ্ছে কাঁদা-কর্দমায় ছোট বড় শত শত গর্ত মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই সড়কের পরিবহন সড়কের পরিবহন চালক ও যাত্রী সহ পথচারীদের। দৈনন্দিন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েড়া-নিকরাইল গ্রামবাসীসহ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের জনসাধারণের, প্রায়ই ছোট-বড় ঘটছে দূর্ঘটনা। সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েড়া ঠোপা চড়া নামক ব্রিজ পাড়, কয়েড়া মোল্লা মোড় এবং কয়েড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে সাবেক মেম্বার নুরুল ইসলামের বাড়ি হয়ে কয়েড়া আবেদিন মোড় সংলগ্ন তিন রাস্তার প্লাস পয়েন্ট হতে নিকরাইল হাট পর্যন্ত দীর্ঘ ৪ কি.মি. রাস্তায় খানাখন্দে ভরপুর সড়কে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত। এই কাচা রাস্তা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে যাত্রীবাহী সিএনজি, অটো-রিক্সা, অটো-ভ্যান ও পণ্যবাহী পিক-আপ প্রায় সময় বিকল হচ্ছে এবং ঘটছে দূর্ঘটনা। সেই সাথে অকালে পঙ্গুত্ব বরণসহ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে জনসাধারণ। এছাড়া বৃষ্টি এলে রাস্তার ছোট-বড় গর্তগুলো পানিতে ভরে যায়। ফলে পানি নিষ্কাশনের জন্য নেই কোনো ব্যবস্থা। এই সড়কের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা ও প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে গ্রামের আবদিনের মোড় হতে বিএনপি’র দলীয় ক্লাব সম্মুখ ভাগে, জব্বার হাঁজী, মো: লালু প্রধান, সাবেক ও প্রাক্তন মেম্বার আবুল কালাম, ঈদ গাহ্‌ মাঠ মোড়, মধ্যে পাড়ার মনছের আলী, নওসের আলী ও মো: ভোলা আকন্দ বাড়ীর পাশ পর্যন্ত। আবার নিকরাইল হাটে যাওয়ার বেশ কয়েকটা বাড়ীর পাশ সহ বিভিন্ন স্থানে। এলাকাবাসী এসব দুর্ঘটনার জন্য সড়কের বেহাল দশা কে দায়ী করছে। এবং সড়ক সংস্কার ও পাকা না করার অভাবে তা মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি এইসব গর্ত সৃষ্টি হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে এলাকার কিছু ক্ষমতাসীন লোকেরা প্রতিনিয়ত ট্রাক দিয়ে ইট, ইটের খোয়া, বালু, সিমেন্ট ইত্যাদি জিনিস আনায় রাস্তার দু’পাশে খানা-খন্দে ভরে গেছে। এখন বৃষ্টি হলে পানিতে তলিয়ে যায় গর্তগুলো। ফলে গর্ত দেখা না যাওয়ায় প্রায় দিনেই দুর্ঘটনা ঘটছে। এবং রাস্তায় ধানের চারা রোপনের উপযোগি হয়ে পড়েছে। স্থানীওরা আরো অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন এলে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা মধুমাখা কথা বলে ও নানা রকম উন্নয়নের মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে সাধারণ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তখন তারা উদাসী হয়ে যায়। থাকে ধরাছোয়ার বাহিরে। বিগত বছরের উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম আমিন, ২ বছরের মধ্যে ইউনিয়নের সকল রাস্তা ঘাটের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি এই কয়েড়া গ্রামের রাস্তার। যতটুকু হয়েছে তার পাশ্ববর্তী এলাকায় করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায় । এ কয়েড়া গ্রামের রাস্তার বিষয়ে নবনির্বাচিত ও বর্তমান চেয়ারম্যান জনাব মোস্তাফিজুর রহমান (তালুকদার) বাবলু প্রতিবেদক কে বলেন, ইতিমধ্যে এই রাস্তাটির পাকা করণের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও চেয়ারম্যানের কাছে রাস্তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এবং নিকরাইল হাট থেকে কয়েড়া পর্যন্ত কয়েক স্থানে, যেখানে বেশী গর্ত হয়েছে সেখানে বালি দিয়ে স্বাভাবিক চলাচলের উপযোগী করা হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে তা সরে যায়। এবং আমরা নিয়মিতভাবে গর্ত বন্ধে কাজ করছি। তবে ভারি যানবহন চলাচলের কারণে গর্তগুলো বড় হচ্ছে। যে পরিমাণ বরাদ্দ ছিল তার সম্পূর্ণ কাজ করা হয়েছে । চেয়ারম্যান আরো জানান, ইউনিয়নের কয়েড়া গ্রাম সহ সকল গ্রামের রাস্তার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দ্রুত করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহন নেওয়া হচ্ছে । সর্বশেষ এলাকাবাসীরা বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছে একটাই প্রাণের দাবি ও চাওয়া তারা যেন অতিদ্রুতম সময়ের মধ্যে কয়েড়া থেকে নিকরাইল হাট পর্যন্ত রাস্তাটি পাকা করে দেয়। যাতে করে আমাদের জীবিকা নির্বাহের আরো বেশী সুবিধা হবে। এবং তাতে জীবন উন্নয়নের মান বৃদ্ধি পাবে।

এ সম্পর্কিত আরও