Mountain View

জঙ্গি অর্থায়নে বাংলাদেশের নেওয়া পদক্ষেপ বিশ্বমানের

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৬ at ১:০৯ অপরাহ্ণ

জঙ্গি অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশের নেওয়া পদক্ষেপ বিশ্বমানের বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতোমধ্যে  বাংলাদেশের মানিলন্ডারিং সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিকমানের স্বীকৃতি দিয়েছে এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিং (এপিজি)। বাংলাদেশের এই অর্জনকে তুলে ধরতে বুধবার এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান  বলেন, ‘বাংলাদেশের যতগুলো বড় অর্জন রয়েছে, তার মধ্যে এটি অন্যতম।’ তিনি বলেন, ‘এপিজি কর্তৃক ৩য় পর্বের মিউচ্যুয়াল ইভ্যালুয়েশন প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ঝুঁকিমুক্ত হয়েছে। এই অর্জনের ফলে ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন রিভিউ গ্রুপভুক্ত (আইসিআরজি) প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, তা থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে ‘

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এপিজির বার্ষিক সম্মেলনে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে আসে বাংলাদেশ। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ৫ থেকে ৮ তারিখ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়াগো শহরে এপিজি’র বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, সন্ত্রাস, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, জঙ্গিবাদ, মুদ্রা পাচারসহ অন্যান্য অপরাধ দমনে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ অ্যাসেসমেন্ট টিম কর্তৃক প্রস্তাবিত রেটিংগুলোর মধ্যে দুটি ইমিডিয়েট আউটকামের (আইও) রেটিংয়ে উন্নত হয়েছে। কয়েকটি সদস্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক বাংলাদেশের চারটি রেটিং কমানোর যে প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা সভায় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এর ফলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশ নরওয়ে ও শ্রীলঙ্কা থেকে ভালো অবস্থানে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক উন্নত দেশ থেকেও ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। এতে সন্ত্রাস, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, জঙ্গিবাদ, মুদ্রা পাচারসহ অন্যান্য অপরাধ নির্মূলে বাংলাদেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হয়েছে।

অবশ্য ২০১৫ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ সফরে এসে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও বাস্তবায়ন খতিয়ে  দেখে এপিজি যে খসড়া মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করেছিল, তাতে বাংলাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

সর্বশেষ চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে এপিজির ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসেছিল। তখন অর্থ পাচার ও জঙ্গি অর্থায়ন প্রতিরোধসহ বিভিন্ন ইস্যুতে এপিজি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে টানা ১৬টি বৈঠক করে বিএফআইইউ।

এপিজি হচ্ছে ‘অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন’ বিষয়ে মানদণ্ড নির্ধারণকারী এশিয়া অঞ্চলের সংস্থা। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৪১টি দেশ এর সদস্য। এপিজি প্রতিনিধিদল সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করে থাকে। ২০০৩ সালে বাংলাদেশকে সংস্থাটি প্রথম মূল্যায়ন করে। এরপর বাংলাদেশ নিয়ে ২০০৮ সালে এ ধরনের মূল্যায়ন করা হয়েছিল। ওই সময়ে বাংলাদেশ সন্ত্রাসী অর্থায়ন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রমে খুব বেশি সফলতা দেখাতে পারেনি। ফলে বাংলাদেশকে কালো তালিকার আগের ধাপ ‘ধূসর’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তী নানা উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর সেখান থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে আসে। ২০১৪ সালে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশকে ‘মুক্তি’ দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালের অক্টোবরে মূল্যায়ন করে গেছে এপিজি।

এ সম্পর্কিত আরও