Mountain View

পৃথিবীর ভূস্বর্গ কাশ্মীরের অজানা কাহিনী

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৬ at ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ

জোবায়ের তুহিন, বিডি২৪টাইমস:-স্বর্গের সুখ কোথায় মুঘল সম্রাট আকবর কাশ্মীর ভ্রমনে এসে তার রূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে নাম দিয়েছিলেন ভূস্বর্গ। আজ সেই স্বর্গই যেন অগ্নীগর্ভ রুপ ধারণ করেছে। ধীরে ধীরে এই জনপদটি যেন আত্মমর্যাদার দাবী আদায়ের প্রতিবাদী লড়াইয়ের কীর্তন ভুমীতে পরিনত হতে চলেছে।14494717_905678222871163_322347127586690849_n

তৈরী হয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম মূখর পথ চলার ইতিহাস । প্রয় ৮৫/৮৬ বছরের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস তাদের রয়েছে। বাংলাদেশ স্বধীন হওয়ার জন্যেও এতো সময় লাগেনি। ১৯৩১ সালের ২১শে জুন থেকেই মূলত কাশ্মীর স্বাধীনতার পুঞ্জিভুত চেতনার তীব্রতা বাড়তে থাকে। কিন্ত আজ পর্যন্ত তারা স্বাধীনতার সুখ পাইনি। এর কারণ ভারত পাকিস্তান উভয়ই।

দুই দেশেরই ইচ্ছা ছিল নিজ নিজ অধীনে রাখতে। কাশ্মীর একটি স্বাধীন দেশ হোক কেউ তা চাইনি। সবাই চেয়েছে সামরিক ও রাষ্ট্রীয় শক্তি দিয়ে নিজেদের নিয়ন্তনে রাখতে। বর্তমানে গ্রেটার কাশ্মীরের ৩৭ ভাগ পাকিস্তানের ৪৩ ভাগ ভারতের ২০ ভাগ চীনের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। একসময় কাশ্মীর ভারতবর্ষের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরবর্তীতে অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির সময় কাশ্মীরের রাজা ছিল হরি সিং। দেশ ভাগের প্রশ্নে কাশ্মীরী জনগণের দাবী ছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হওয়ার। কিন্ত হিন্দু রাজা হরি সিং ভারতবর্ষের তৎকালীন শাসনকর্তা লর্ড-মাউন্ট ব্যাটেনের কাছে স্বায়ত্ব শাসনের মাধ্যমে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকার ব্যাপারে চিঠি পাঠান।

কিন্ত অধিকাংশ কাশ্মীরী জনগণের আশা ছিল গণভোটের মাধ্যমে নিজেদের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাধীন দেশ গঠনের।এদিকে কাশ্মীরের উত্তরাঞ্চল স্বাধীন হওয়ার চেষ্টাকালে পাকিস্তান দখলে নেয়। কিন্ত দক্ষিণাঞ্চল ভারতের অধীনে না থেকে স্বধীন হতে চাইলে বিরোধ লেগে থাকে। পরবর্তীতে জাতিসঙ্ঘের মধ্যস্থতায় কাশ্মীরের স্বয়ত্বশাসন বজায় রেখে গণভোট নেয়ার কথা থাকলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীর পাকিস্তানের খবরদারীর ব্যাপারে অভিযোগ থাকলেও তারা তাদের সাথে মোটামুটি মিশে গেছে। কিন্ত জম্মু এন্ড কাশ্মীরের জাতিসত্তা ও ধর্মীয় আদর্শ ভারতীয় সংস্কৃতির সাথে মিল না থাকার কারনে আজও তারা নিজেদের ভারতীয় হিসেবে মেনে নিতে পারিনি। যদিও কাশ্মীরে এককালে বৌদ্ধ, হিন্দু, মুসলিম একত্রে শান্তিপূর্ণ বসবাস ছিল। ভরত চাইছে সামরিক ও রাষ্ট্রীয় শক্তিদিয়ে যে কোন মূল্যে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে।

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান এ পর্যন্ত তিন বার (১৯৪৭; ১৯৬৫; ১৯৯৯সাল) যুদ্ধে জড়িয়েছে। তবুও কাশ্মীরী জনগনের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। কোন সমাধান হয়নি কাশ্মীর সংকটের। সুধু দীর্ঘ হচ্ছে মানব সভ্যতার ইতিহাসে নৃসংশ অধ্যায়। প্রতিদিন খুন হচ্ছে, গুম হচ্ছে, পঙ্গু হচ্ছে কত শত মানুষ সেসবের প্রতি যেন বিশ্ব কর্তাদের দৃষ্টি পড়ে না। কাশ্মীর ইস্যুটি ভারত-পাকিস্তান উভয়েরই ইজ্জতের প্রশ্ন।

কিন্ত তারা উভয় এটাকে জিইয়ে রাখতে চায়। ভারতের এক আলোচিত বাস্তববাদী লেখিকা অরুন্ধুতী রায় দিল্লীর এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘কাশ্মীর ইজ নট এ পার্ট অব ইন্ডিয়া’। কাশ্মীর ভারতের অংশ আছে বা থাকবে কি না, সেটা কাশ্মীর বা ভারত উনাদের ব্যাপার। কিন্ত সেটাকে ঘিরে যে রক্ত ঝরছে, কান্নার দিগ্বিদিক প্রকম্পিত হচ্ছে সে বিষয়ে বিশ্ব মড়ল বা দায়িত্বশীলদের কথা বলা উচিত।

যেখানে মায়ের সকাল হয় আতঙ্কের মাঝে, শিশুর ঘুম ভাঙ্গে বুলেটের আওয়াজে, স্কুল কলেজগুলি বন্ধ প্রায়, মসজিদগুলি তালাবদ্ধ। মুসলমানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব ঈদের নামাজে যেখানে একসাথে হতে পারে না। সেখানে মানুষ স্বাভাবিক আছে এ কথা বলা যায় না।

যে কোন দেশে অরাজকতা, সঙ্ঘাত-সঙ্ঘর্ষ থাকাটা কত যন্ত্রণাদায়ক বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে সেটা একেবারে অজানা নয়। এদেশেও ক্ষমতার পালা বদলে ২০০৬ সালে, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে যা ঘটে গেছে, বাংলাদেশের মানুষের সে যন্ত্রণা-পীড়া ভুলে যাবার কথা নয়।

তাই আমরা এটাই আশা করি, আগামীর পৃথিবী হোক শান্তিময়। কোন জনপদ যেন মৃত্যুকূপে পরিনত না হয়। আর কোন হানাহানি সঙ্ঘাত নয়। পৃথিবীতে শান্তি চায়। শুধু কাশ্মীর নয় পৃথিবীর সকল যাগায় হোক মানবতার বিজয়। যেখানে ধনী গরীব, জাতি ধর্ম বর্ণ গোত্র সকলে ফিরে পাবে আপন পরিচয়।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View