যেকোন সময়ে যুদ্ধ,সীমান্তবর্তী থেকে বেসামরিক জনগণকে সরিয়ে নেয়া শুরু

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৬ at ৭:০৩ অপরাহ্ণ

varot

গত ১৮ সেপ্টেম্বর কাশ্মীরের উরিতে সেনা চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলার পরপরই পাকিস্তানকে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুমকি ও কথার লড়াই চললেও এই সময়ে অবশ্য সীমান্তে চলেনি কোনো গুলি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছিলো, পাকিস্তানকে ‘উচিত’ শিক্ষা দিতে ভারতের হুমকি ফাঁকা আওয়াজই থেকে যাবে।

তবে সমালোচকদের সব মুখ বন্ধ করে দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে সত্যিই সত্যিই পাকিস্তানের মাটিতে ঢুকে হামলা চালিয়ে আসে ভারতীয় বাহিনী। এ ঘটনায় পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস করার পাশাপাশি ৩৮ সন্ত্রাসীকে হত্যার দাবি করে ভারতীয়রা।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরও জোরেশোরে নামছে ভারত। ইঙ্গিত মিলেছে তেমনটাই। ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার সেদেশের মিডিয়া জানিয়েছে, এই ‘সার্জিক্যাল অ্যাটাক’ এর মধ্য দিয়ে ভারতের জবাব দেয়া কেবল শুরু হলো মাত্র। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের অভিযান চালানো হতে পারে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জম্মু কাশ্মীর ও পাঞ্জাব সীমান্তবর্তী ভারতীয় গ্রামগুলো থেকে বেসামরিক জনগণকে সরিয়ে নেয়া শুরু করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, ইতোমধ্যেই সেখানে অবস্থান নিতে শুরু করেছে ভারতীয় সেনারা। এছাড়া কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা সংলগ্ন ভারতীয় এলাকার স্কুলগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার পাঞ্জাবের রাজ্য সরকারকে সীমান্ত থেকে দশ কিলোমিটার সীমার ভেতরে থাকা গ্রামগুলো খালি করার প্রস্তুতি নিতে বলেছে। এ ব্যাপারে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ সিং বাদল বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। পাশাপাশি গুজরাট থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত পাকিস্তান সীমান্ত বরাবর সর্বোচ্চ অ্যালার্ট জারি করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

সব মিলিয়ে ভারতে এখন যুদ্ধ যুদ্ধ সাজ। পরিস্থিতি এখন আরও বড় ধরনের অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্বভাবতই ভারতীয় হামলায় মুখ বুঝে বসে থাকবে না পাকিস্তান। জবাব দিতে শুরু করবে তারাও। ফলে যে কোনো মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যে পুরোদস্তুর লড়াই শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ সম্পর্কিত আরও