ঢাকা : ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, রবিবার, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

বাংলাদেশী তরুণীদের পাচার করে কোটিপতি সুজয় বিশ্বাস

নিউজ ডেস্ক : বয়স সবে ৩৩। পড়াশোনা ক্লাস এইট। এখনই কোটিপতি সুজয় বিশ্বাস। লটারি নয়, পারিবারিক সম্পত্তির জোরেও নয়। কেবল তরুণীদের পাচার করে সুজয়ের আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ।

 

পশ্চিমবঙ্গের আনন্দবাজারের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ওঠে আসে এমন চমকে দেয়া তথ্য। আর সুজয়ের এই নারী পাচার ব্যবসার বড় শিকার বাংলাদেশী তরুণীরা।

 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা ব্লকের লক্ষ্মীপুর গ্রামে সুজয়ের বাড়ি। গ্রামটি ভারতের মূল জনপদ থেকে বিচ্ছিন্ন। অনেকটা দ্বীপের মতো। তিন দিকে সংকীর্ণ কপোতাক্ষ নদী, এক দিকে গদাধরপুর বাওড়।

 

নদীর ওপারে বাংলাদেশের যশোরের চৌগাছা থানার শাহাজাদপুর গ্রাম। ৫০০ মিটারের মধ্যে রয়েছে পাকা রাস্তা। লক্ষ্মীপুর গ্রামে যে দু-তিনটি একতলা পাকা বাড়ি রয়েছে, তার একটি সুজয়দের। তবে, বাড়ির চাল অ্যাসবেসটসের। খালি চোখে কোটিপতির বাড়ি মনে হওয়া কঠিন।

 

সুজয়ের বাবা সুশান্তবাবু বাগদা পঞ্চায়েত সমিতির দুবারের প্রাক্তন সিপিএম সদস্য। তিন ভাইয়ের মধ্যে সুজয় ছোট। বড় ভাই বাসচালক। গ্রামের বাইরে

 

 

বয়রা বাজারে বিশ্বাস পরিবারের একটি প্রসাধনী সামগ্রীর ছোট দোকান রয়েছে। মেজো ভাইয়ের সঙ্গে সেই দোকান চালাত সুজয়।

 

বছর তিনেক আগে বিয়ে করে সুজয়। দুবছরের একটি ছেলেও রয়েছে তার। নিজ গ্রামে ‘নিরীহ’ হিসেবে এই যুবক যে আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রে জড়িত, তা শেষ পর্যন্ত টের পায় পুলিশ।

 

রাজস্থানের জোধপুরের উদয় মন্দির থানা সূত্রে জানা গেছে, দিন কয়েক আগে স্থানীয় এক জায়গা থেকে ফোনে বলা হয়, একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে মেয়েদের চিৎকার শোনা যাচ্ছে।

 

এরপর পুলিশ তালা ভেঙে ১৪ বছরের এক কিশোরী ও ১৮ বছরের এক তরুণীকে উদ্ধার করে। পরে জানতে পারে তারা বাংলাদেশী। কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের চোরাপথে প্রথমে পশ্চিমবঙ্গে এবং পরে রাজস্থানে নিয়ে আসে নন্দিনী।

 

নন্দিনী নামটা উদয় মন্দির থানার পুলিশ আগেই জানতো। কয়েক মাস আগে তিন বছরের একটি মেয়েকে অপহরণের মামলার সূত্রে। তখন তাকে ধরা যায়নি। এবার অবশ্য নন্দিনী ধরা পড়েছে। তাকে জেরা করেই খোঁজ মিলে সুজয়ের বাড়ির।

 

আর অভিযানে তালাবদ্ধ ওই ঘর থেকে পুলিশ একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হদিস পায় যার মালিক সুজয়। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নারী পাচার করেই সুজয় নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি টাকা জমিয়ে ফেলেছে।

 

ওই দুই বাংলাদেশী কিশোরী ও তরুণীকে উদ্ধারের পরে পুলিশ সুজয়কে গ্রেফতার করে। সুজয়ের আগে জোধপুর থেকে তার বাংলাদেশী সঙ্গিনী নন্দিনী ওরফে রুবিনাকে ধরা হয়।

 

উদয় মন্দির থানার তদন্তকারী অফিসার মদন বেনিওয়ালের দাবি, দুজনেই আন্তর্জাতিক নারী ও শিশু পাচার চক্রে জড়িত। জেরায় দুজনেই অপরাধ স্বীকার করেছে। শুধু মেয়ে পাচার করেই সুজয় কোটিপতি হয়েছে বলে জানিয়েছে।

 

গত ছয় মাসে সুজয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

 

সুজয়ের পরিবারের অবশ্য দাবি, তাকে ফাঁসানো হয়েছে। আর প্রতিবেশীদের অনেকেও বিশ্বাস করতে পারছেন না, ‘টোকো’ (সুজয়ের ডাকনাম) নারী পাচারে জড়িত।

 

তদন্তকারী অফিসারের দাবি, সুজয়কে ধরার পর যে তথ্য পেয়েছেন তা রীতিমতো ভাবাচ্ছে। ভারত-বাংলাদেশ ছাড়া আর কোনো দেশেও চক্রটি সক্রিয় কি না, তার খোঁজ চলছে।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

আগামী বছর ভারত যেতে চান প্রধানমন্ত্রী

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা সফররত দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *