ঢাকা : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, সোমবার, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > শীর্ষ সংবাদ > দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দুই রয়েল বেঙ্গল টাইগার আসছে

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দুই রয়েল বেঙ্গল টাইগার আসছে

tiger-2

চার বছর পর চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বাঘের অভাব ঘুচছে।  দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দুটি বাঘ কেনার জন্য দরপত্রের ভিত্তিতে একটি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে নভেম্বরের মধ্যে দুটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এসে পৌঁছবে।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা.মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর ফেলকন গ্রুপকে ৩৪ লাখ টাকায় দুটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার কেনার কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। দেড় মাসের মধ্যে অর্থাৎ নভেম্বরের মাঝামাঝিতে বাঘ দুটি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় পৌঁছানোর শর্ত দেয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ২০০৩ সালে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে দুটি বাঘ আনা হয়েছিল।  ২০০৬ সালে বাঘ ‘চন্দ্র’ মারা যায়।  ২০০৯ সালে তার সঙ্গী ‘পূর্ণিমার’ ক্যান্সার ধরা পড়ে।  ২০১২ সালের ৩০ অক্টোবর পূর্ণিমা মারা যায়।  এরপর থেকে গত চার বছর বাঘহীন অবস্থায় আছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা।

মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, পূর্ণিমার ক্যান্সার ধরা পড়ার পরই বাঘ ও বাঘিনী চেয়ে ঢাকা চিড়িয়াখানা ও ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছিল।  কিন্তু তাতে সাড়া মেলেনি।  এরপর মন্ত্রণালয়েও বেশ কয়েকবার চিঠি দেয়া হয়েছিল।

বারবার চিঠি লিখে সাড়া না মেলায় চলতি বছরের ২৫ জুন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার নির্বাহী কমিটির সভায় প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমতিসাপেক্ষে নিজেরাই বাঘ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়।

মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাবার পর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দুটি বাঘ কেনার জন্য চলতি বছরের ১৯ আগস্ট আর্ন্তজাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়।  চারটি প্রতিষ্ঠান বাঘ আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করে দরপত্রে অংশ নেয়।

সর্বনিম্ন ৩৪ লাখ টাকায় ২৬ সেপ্টেম্বর বন্যপ্রাণী আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ফেলকন গ্রুপকে কার্যাদেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।বাঘ কেনার পুরো টাকা চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার তহবিল থেকে দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডা.মঞ্জুর মোর্শেদ।

তিনি বলেন, যে কোন বন্যপ্রাণী আমদানির ক্ষেত্রে সাইটস (CITES) নামে একটি আর্ন্তজাতিক সংগঠনের অনুমতি নিতে হয়।  দেশে প্রধান বন সংরক্ষকের অনুমতি এবং প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবহিত করতে হয়।  দরপত্রের শর্তে বলা হয়েছে এসব কাজ কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠান সম্পন্ন করবে।

‘প্রশাসনিক এসব কার্যক্রম এবং বাঘ আনা-নেয়ায় যতটুকু সময় লাগে সেটার জন্যই এখন শুধু অপেক্ষা।  নভেম্বরের মধ্যেই দুটি বাঘ আমাদের চিড়িয়াখানায় ঢুকবে বলে আশা করছি। এর বেশি সময় লাগবে না বলে প্রতিষ্ঠানটি আমাদের আশ্বস্ত করেছে- বলেন মঞ্জুর মোর্শেদ।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বর্তমানে ৬৭ প্রজাতির ৩০৭টি প্রাণী ও পাখি আছে। প্রাণীর মধ্যে আছে দুইটি সিংহ, দুইটি পুরুষ ভাল্লুক, ১৯টি কুমির ছানা, তিনটি কুমির, নয়টি চিত্রা হরিণ, পাঁচটি মায়া হরিণ, ৪টি উল্টোলেজী বানর, উল্লুক একটি, হনুমান একটি, চিতা বিড়াল ৪টি।

এই রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের সম্পদ হলেও আফ্রিকান কর্তৃপক্ষ এ দেশ থেকে নিয়ে সেখানে প্রজনন ঘটাচ্ছে। আর সেখান থেকেই আবার বাংলাদেশ সেটা কিনে নিয়ে আসছে।

এ সম্পর্কিত আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *