ঢাকা : ২৬ মে, ২০১৭, শুক্রবার, ১০:৪১ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

সিঙ্গাপুরে জিকা আক্রান্ত বাংলাদেশিরা ঝুঁকি মুক্ত

zik-sm20161001084506

সিঙ্গাপুরে এখন পর্যন্ত ১৯ জন বাংলাদেশি জিকায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তারা প্রায় সবাই এখন সুস্থ। ধীরে ধীরে ভাইরাসের অস্তিত্ব নেগেটিভ হয়ে আসছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামণ রোগ নিয়ন্ত্রণের (সিডিসি) লাইন ডিরেক্টর ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অধ্যাপক শামসুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে যে ক’জন বাংলাদেশি জিকায় আক্রান্ত হয়েছেন, তারা সে দেশে ভালো চিকিৎসা পেয়েছেন। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। এখনো তারা মনিটরিংয়ে রয়েছেন। ফলে তাদের মাধ্যমে সংক্রমণের ভীতি নেই।

সিঙ্গাপুরে জিকায় বাংলাদেশি নাগরিক আক্রান্তের খবর প্রকাশের পর গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে স্ক্যানিং মেশিন বসানো হয়েছে। এরপর মালয়েশিয়ায়ও এ ভাইরাসে আক্রান্তের খবর মেলে। ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে আসা যাত্রীদেরও স্ক্যানিং করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সমন্বিত বিশেষ টিম বিমানবন্দরে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করে।

এছাড়া সিঙ্গাপুর বা অন্য কোনো দেশে জিকায় আক্রান্ত কোনো বাংলাদেশিকে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে না বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে ডা. শামসুজ্জামান বলেন, সব যাত্রীকে চেক-আপ করা সম্ভব নয়। কারণ জিকায় আক্রান্ত রোগীদের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশেরই কোনো উপসর্গ থাকে না বা জ্বর বোধ হয় না। এরপরও যাদের জ্বর ভাব রয়েছে তাদের চেক আপ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে শাহজালাল বিমানবন্দরে বেশ কয়েকজন যাত্রীর রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত জিকা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। উপসর্গ না থাকলেও শরীরে বয়ে আনা বাহক থেকে পরবর্তী সময়েও জিকার প্রকাশ ঘটতে পারে। এ কারণে এসব দেশ থেকে অাসা যাত্রীদের হেলথ কার্ড দেওয়া হচ্ছে। যেখানে উপসর্গ এবং লক্ষণ উল্লেখ করা রয়েছে।

কোন ধরনের লক্ষণ দেখলেই সেই কার্ড নিয়ে তারা নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলে যাবেন। যদি জিকা শনাক্ত হয় তবে তাদের চিকিৎসার জন্য সরকারের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা করা আছে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় আমরা ঝুঁকিমুক্ত নই।

তবে দেশে শীত পড়তে শুরু করলে জিকার ঝুঁকি কিছুটা কমে যাবে বলেও মনে করেই অধ্যাপক শামসুজ্জামান। তিনি বলেন, এই অক্টোবরেই বৃষ্টি কমে যাবে আশা করা যায়। জিকা ও ডেঙ্গুর বাহক হিসেবে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে আসবে অনেকটা।

গত ১ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে অন্য দেশের নাগরিকদের সঙ্গে ১০ জন বাংলাদেশির জিকায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর একদিন পরেই আরো ৬ জনের এবং পরে আরো তিনজন বাংলাদেশি সিঙ্গাপুরে জিকা আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়।

চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশ্বের ২৩টি দেশে মশকবাহিত ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া নিয়ে উত্কণ্ঠায় পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশও। তবে তখন বাংলাদেশে বা প্রবাসী কোনো বাংলাদেশি জিকায় আক্রান্ত না হলেও নানামুখী সতর্কতা ও প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নেয় সরকার। গত মার্চ মাসে চট্টগ্রামে জিকায় আক্রান্ত এক রোগী শনাক্ত হয়। চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

এ সম্পর্কিত আরও

Best free WordPress theme

Check Also

শূন্য থেকে ‘স্বর্ণ মাফিয়াডন’ হয়ে উঠা দিলদারের গল্প!

ঢাকা: পুরান ঢাকার শাঁখারি বাজারের একটি স্বর্ণের দোকানে চাকরি করতেন। পাশাপাশি চোরাই স্বর্ণ কিনতেন, সেসব …

আপনার-মন্তব্য