Mountain View

‘কোনও মতেই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হতে দেবো না’

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২, ২০১৬ at ১:২৬ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আমরা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। কোনও মতেই আমরা বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হতে দেব না। এ ধরনের সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে যারা সম্পৃক্ত থাকে তাদের শনাক্ত করতে এই স্মার্ট কার্ড যথেষ্ট সহযোগিতা করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘যে কোনও ধরনের অপরাধীকে দ্রুত শানাক্ত ও গ্রেফতার করা সহজ হবে। কাজেই আমি মনে করি স্মার্ট কার্ড অধিকতর নিরাপদ। আমি নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করবো যে ডাটাগুলো নেওয়া হয়েছে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একান্তভাবে প্রয়োজন। কোনও মতে কেউ যেন এর অপব্যবহার করতে না পারে।’

রবিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পরিচয়পত্র স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে যে কোনও ধরনের অপরাধীকে শনাক্ত করা সহজ হবে। এছাড়া প্রতারণা ও জালিয়াতিও কমে আসবে। কেউ অপরাধ করলে পার পাওয়া যাবে না।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত ও প্রতিবন্ধীদের সবার পরিচয়পত্র করা হবে। তাদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। যাতে দণ্ডপ্রাপ্তরা পালিয়ে যেতে না পারে।’

তবে নির্বাচন কমিশনকে এর ডাটা সংরক্ষণের জন্য যথেষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষ উন্নত জীবনযাপন করবে এটাই আমরা চাই। এই স্মার্ট কার্ড জাতি হিসেবে বিশ্বে আমাদের মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দেবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কারও কাছে মাথা নত করে বা হাত পেতে নয়, নিজেদের যে সম্পদ আছে তার সদ্ব্যবহার করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এশিয়ার মধ্যে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্মার্ট কার্ড বিতরণের মধ্য দিয়ে ২০০৮ সালের আমরা যে দিন বদলের অঙ্গীকার করেছিলাম তা বস্তবায়ন করলাম। স্মার্ট কার্ড প্রমাণ করেছে ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন বাস্তব। এই স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে মানুষ বহুমুখী সেবা পাচ্ছে। তাই এই স্মার্ট কার্ড ব্যবহারে মানুষের আগ্রহ বাড়বে। আমরা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে জাতীয় পরিচয়পত্র যাতে বহুবিদ কাজে ব্যবহার করা যায় এজন্য কাজ শুরু করি। এর মধ্য দিয়ে মানুষ ভর্তুকি ও সার পাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি তোমাদের কালকের খেলা দেখেছি।’

সব শেষে রাষ্ট্রপতির জাতীয় পরিচয়পত্রের স্মার্ট কার্ড প্রধান নির্বাচন কশিনার কাজী রকিবউদ্দিনের হাতে তুলে দিয়ে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর কাগজে মুদ্রিত জাতীয় পরিচয়পত্র ফিরিয়ে দিয়ে নিজের স্মার্ট কার্ড গ্রহণ করেন তিনি। পরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

খেলোয়াড়দের মধ্যে মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান, তামিম কবাল, মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির, তাসকিন, সৌম্য সরকার, নাসির হোসেন, ইমরুল কায়েস ও তাইজুল ইসলাম এ স্মার্ট কার্ড গ্রহণ করেন। তারা প্রত্যেকে পুরনো জাতীয় পরিচয়পত্রটি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হাতে ফিরিয়ে দেন।

এ সম্পর্কিত আরও