আজ মাত্র ১৯.১২ শতাংশ মানুষ স্মার্ট কার্ড নিতে এসেছে

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৩, ২০১৬ at ৯:৩০ অপরাহ্ণ

cymera_20161003_113758

নানা অব্যবস্থাপনা, গাফিলতির মধ্যে দিয়ে শুরু হলো উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা স্মার্টকার্ড বিতরণ। ফলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্থাপিত কার্ড বিতরণ ক্যাম্পে ভোটারের উপস্থিতি ছিল হতাশাব্যঞ্জক। গাণিতিক হিসেবে যা ১৯ দশমিক ১২ শতাংশ। অর্থাৎ ৮০ শতাংশ ভোটার স্মার্টকার্ড নিতে আসেননি।

গত ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এরপর ৩ অক্টোবর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১ নম্বর ওয়ার্ড এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) রমনা থানাধীন ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডে কার্যক্রম শুরু করে ইসি।

কিন্তু রাজধানীর ক্যাম্প দুটোতে সরেজমিন ঘুরে ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্যাম্পের অধীনে যত সংখ্যক ভোটারের কার্ড সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ইসি, তার ধারে কাছেও পৌঁছতে পারেনি সংস্থাটি।

নির্বাচন কমিশনের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট এসএম রকিবুজ্জামান নিয়ন জানিয়েছেন, ডিএসসিসি’র সিদ্বেশ্বরী গার্লস কলেজ ক্যাম্পে প্রথমদিনে (সোমবার) (কাকরাইল, রমনা থানার অংশ), ডিআইটি কলোনি, নিউ বেইলী রোড ও কাকরাইলের (মতিঝিল থানার অংশ) ৪ হাজার ১২৬ জনের স্মার্টকার্ড বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু বিতরণ হয়েছে মাত্র ৮৯১ জনের স্মার্টকার্ড। যা মোট ভোটারের ২১ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

এ ক্যাম্পে ৩০ জন অপারেটর সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৯ ঘণ্টা কাজ করেছেন। যাদের গড়ে ঘণ্টায় ৬শ’ কার্ড সরবহার করার সক্ষমতা ছিল। কারণ প্রতি তিন মিনিটে একজন অপারেটর একজনের স্মার্টকার্ড দিতে পারবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিল ইসির এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দিন।

আর ভোটার সংখ্যার হিসেবে প্রতিঘণ্টায় কার্ড সরবরাহ হওয়ার কথা ছিল ৪৫৮ জনের। কিন্তু প্রতি ঘণ্টায় গড়ে কার্ড বিতরণ হয়েছে ৯৯টি। অর্থাৎ সক্ষমতার চেয়ে ভোটার সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও কার্ডগ্রহণে ভোটারদের ক্যাম্পে টানতে পারেনি ইসি।

এদিকে, ডিএনসিসি’র উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পে সোমবার (০৩ অক্টোবর) উত্তরা মডেল টাউন সেক্টর-১ ও ২-এর ৪ হাজার ৭১৪ জন ভোটারকে কার্ড দেওয়ার কথা ছিল। সেখানে সকাল ৯টা থেকে বিকেল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৯ ঘণ্টায় স্মার্টকার্ড সরবরাহ করা হয়েছে ৮শ’। যা মোট ভোটারের ১৭ শতাংশ।

এই ক্যাম্পে কাজ করেছেন ২০ জন অপারেটর। যাদের ঘণ্টায় ৫২৪টি কার্ড সরবরাহের কথা ছিল। কিন্তু কার্ড বিতরণ হয়েছে ৮৯টি।

দুইটি ক্যাম্পে ভোটারসংখ্যা ও কার্ড বিতরণের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৮ হাজার ৮৪০ জন। আর কার্ড নিয়েছেন ১ হাজার ৬৯১ জন। যা মোট ভোটারের ১৯ দশমিক ১২ শতাংশ। যার অর্থ ৮০ শতাংশ ভোটার প্রথমদিন ক্যাম্পেই আসেননি।

ইসি কর্মকর্তারাই বলছেন, পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকায় ভোটাররা সঠিক তথ্য পাননি। ফলে অনেক আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও নাগরিকরা ক্যাম্পে আসেননি। এক্ষেত্রে মাইকিং করা কিংবা মোবাইলে মেসেজ দিয়ে জানিয়ে দেওয়ার মতো কার্যক্রম হাতে না নেওয়াকে দায়ী করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাইকিং করে ঢাকায় প্রকৃত পক্ষে কতটুকু ফলপ্রসু হতে পারে! তবে আমরা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে, মসজিদে ইমামদের মাধ্যমে তথ্য জানিয়েছি। হয়ত সরকারি বন্ধের দিন ভোটারদের উপস্থিতি বেড়ে যাবে।

সোমবার কুড়িগ্রামের ফুলবাড়িতেও স্মার্টকার্ড বিতরণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।

এ সম্পর্কিত আরও