Mountain View

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় নেত্রকোনার মঞ্জু কারাগারে

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৩, ২০১৬ at ৮:৩১ অপরাহ্ণ

manju

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নেত্রকোনার এনায়েত উল্লাহ ওরফে মঞ্জুকে (৭০) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রোববার মঞ্জুকে গ্রেফতারের পর সোমবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির সমন্বয়ে বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেয়।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন মুন্নী। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাসুদ রানা।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় নেত্রকোনার আটপাড়া থানার কুলশ্রীর গ্রামের বাড়ি থেকে মঞ্জুকে গ্রেফতার করা হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধে শান্তি কমিটির সদস্য ও রাজাকার হেদায়েত উল্লাহ ওরফে মো. হেদায়েতুল্লাহ ওরফে আঞ্জু বিএসসি (৮০), আঞ্জুর ভাই এনায়েত উল্লাহ ওরফে মঞ্জু (৭০) এবং সোহরাব ফকির ওরফে সোহরাব আলী ওরফে ছোরাপ আলীর (৮৮) বিরুদ্ধে গত ৮ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ওইদিনই সোহরাব ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়। এ মামলায় এখনও হেদায়েত উল্লাহ ওরফে মো. হেদায়েতুল্লাহ ওরফে আঞ্জু বিএসসি পলাতক রয়েছেন।

তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগ- ১৯৭১ সালের ২৯ মে বেলা ১০-১১টার দিকে নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া থানার মধুয়াখালী গ্রামে ২০-৩০টি ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ।

দ্বিতীয় অভিযোগ, ১৯৭১ সালের ২৩ আগস্ট বেলা ১১টা থেকে নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া থানার মোবারকপুর গ্রামের শহীদ মালেক তালকুদার ও কালা চান মুন্সিকে অপহরণ, হত্যা এবং লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ।

তৃতীয় অভিযোগ, ১৯৭১ সালের ৩০ আগস্ট বেলা অনুমানিক ১২টা হতে বিকেল পর্যন্ত নেত্রকোনা জেলার মদন থানার মদন গ্রামের শহীদ হেলিম তালুকদারকে অপহরণ, হত্যা এবং লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ।

চতুর্থ অভিযোগ, ১৯৭১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বেলা ১টা হতে রাত পর্যন্ত নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া থানার সুখারী গ্রামের শহীদ দীনেশ চন্দ্র, শৈলেশ চন্দ্র, প্রফুল্ল বালা, মনোরঞ্জন বিশ্বাস, দূর্গা শংকর ভট্টাচার্য, পলু দে, তারেশ চন্দ্র সরকারকে অপহরণ, গণহত্যা, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ।

পঞ্চম অভিযোগ, ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাতে নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া থানার সুখারী গ্রামের সরকারপাড়ার বিধান কুমার সরকার (সজিব), বাদল চন্দ্র ঘোষকে সপরিবারে, কল্যাণী রানী সরকার, জীবন চন্দ্র সরকার, প্রণতি সরকার, অজিতা বিশ্বাসসহ আরও হিন্দু পরিবার দেশত্যাগে বাধ্য করা।

ষষ্ঠ অভিযোগ, ১৯৭১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল অনুমানিক ১০-১১টা থেকে দুপুর আনুমানিক ৩টা পর্যন্ত নেত্রকোনা জেলার মদন থানার মদন গ্রামের ১৫০-২০০ ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ।

ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ৫ মে এ তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে ১ বছর ৪ মাস ৩ দিন পর তদন্ত শেষ করেন তদন্ত সংস্থা। সংস্থার কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রশিদ মামলার তদন্ত করেছেন।

আসামিদের তিনজনই একাত্তরে জামায়াতের কর্মী ছিলেন। এদের মধ্যে আঞ্জু-মঞ্জু এখনও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে ৪০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও