Mountain View

রাষ্ট্রপতি মোশতাক-জিয়া-এরশাদ অবসর সুবিধা পাবেন না

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৪, ২০১৬ at ১০:১৫ অপরাহ্ণ

mostak-jia

জাতীয় সংসদে ‘রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন-২০১৬’ বিল পাস হয়েছে। আইন অনুযায়ী ছয় মাস রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলেও রাষ্ট্রপতিরা এসব সুবিধার অধিকারী হবেন। তবে বিলের ৬ অনুচ্ছেদে বর্ণিত, ‘কতিপয় ক্ষেত্রে অবসর ভাতার অধিকারের অপ্রয়োজ্যতা’ শর্ত অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতির দায়িত্বপালনকারী মোশতাক আহমেদ, জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এসব সুবিধাপ্রাপ্ত হবেন না।

আজ (মঙ্গলবার) ৪ অক্টোবর জাতীয় সংসদে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।বিলটি পাসের বিরোধিতা করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্যরা।

তারা ‘সর্বোচ্চ আদালত ঘোষিত অবৈধ রাষ্ট্রপতিরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন’ এই বিধান রাখার বিষয়ে জোর আপত্তি জানান। অবশ্য তাদের আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। পরে সর্বসম্মতিতে বিলটি পাস হয়।

বিলটির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ফখরুল ইমাম বলেন, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসার জন্য জাতীয় পার্টি তিনবার সহযোগিতা করেছে। তাই তারা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের সুযোগ সুবিধা কেড়ে নিতে পারেন না।

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, একটি মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট এরশাদের ১৯৮৬ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত শাসন আমলের বৈধতা দিয়েছে। ফলে তাকে (এরশাদ) বঞ্চিত করা ন্যায়সঙ্গত হবে না।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির তালিকায় মোশতাক আহমেদের নাম থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রওশন আরা মান্নান।

জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, যার মনে যা, লাফ দিয়ে ওঠে তা। এই বিলে কোথাও তাদের রাষ্ট্রপতির কথা হয়নি। তারপরও তারা এই বিষয়টি নিয়ে আসলেন কেন? ওই তাদের দ‍ুর্বলতার দিক। বিষয়টি সংসদে না উত্থাপন করলেই পারতেন। তারাই প্রমাণ করলেন তাদের নেতা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র ও মার্শাল ল’ একসঙ্গে চলতে পারে না। জাতীয় পার্টি এখন তা মেনেই সংসদে এসেছে।

পাস হওয়া বিলে রাষ্ট্রপতির পেনশন ভাতা ধরা হয়েছে মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ। বর্তমান রাষ্ট্রপতির ৬১ হাজার ২০০ টাকা বেতন হিসেবে অবসর ভাতা হয় ৪৫ হাজার ৯০০ টাকা। আনুতোষিকের পরিমাণ এক বছরের জন্য প্রদেয় অবসরভাতা তত গুণ হবে, যত বছর কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। আর অন্যান্য সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন অ্যাটেন্ড্যান্ট ও দাপ্তরিক ব্যয় পাবেন।

এছাড়া একজন মন্ত্রীর প্রাপ্য চিকিৎসা সুবিধা, সরকারী অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বিনামূল্যে যানবাহন ব্যবহার, টেলিফোন সংযোগ, কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং দেশের অভ্যন্তরে সার্কিট হাউস ও রেস্ট হাউস ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

বিলে বলা হয়েছে, কমপক্ষে ৬ মাস রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এমন ব্যক্তি এই সুযোগ-সুবিধা পাবেন। আর অবসরভাতা গ্রহণ করে কোনো রাষ্ট্রপতি মৃত্যুবরণ করলে তার বিধাব স্ত্রী বা ক্ষেত্র মতে বিপত্নীক স্বামী মাসিক অবসর ভাতা দুই-তৃতীয়াংশ হারে আমৃত্যু মাসিক ভাতা পাবেন।

তবে নৈতিক স্খলন বা অন্য কোনো অপরাধে আদালতে দণ্ডিত হলেও কোনো রাষ্ট্রপতি অবসর ভাতা পাবেন না।এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক অসাংবিধানিক পন্থায় অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন বা হয়েছিলেন মর্মে ঘোষিত কোনো ব্যক্তি অবসর ভাতা বা অন্যান্য সুবিধা লাভের অধিকারী হবেন না বলেও প্রস্তাবিত আইনে বিধান রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল থেকে ১৯৮১ সালের ৩০ মে পর্যন্ত ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ দুই সাবেক সেনা  কর্মকর্তার শাসনামলকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।

তাই বিলের বিধান অনুযায়ী, সাবেক রাষ্ট্রপতি অবসর ভাতা থেকে বঞ্চিত হবেন। গত বছরের ৯ নভেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। এর আগে গত ৩ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিলটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View