Mountain View

সব দিক দিয়েই সতর্ক টাইগাররা

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৪, ২০১৬ at ৮:৪১ পূর্বাহ্ণ

c8da58eb5d3c7218bf01a26c7490215cx480x320x64

আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতেই স্বরূপে ফিরেছে বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে জেতা হলো ৬টি ওয়ানডে সিরিজ। বাংলাদেশ দল কেন ফুরফুরে মেজাজে সেটি বুঝতেই পারেন। শামসুল হক শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে এমন দৃশ্য নিয়মিতই দেখা যায়। কেউ একজন দৌড়ে মাঠ প্রদক্ষিণ করছেন। খেলোয়াড়েরা তো করেনই, অনেক সময় কোনো আম্পায়ার বা বিসিবির লোকজনকেও মাঠে দৌড়াতে দেখা যায়। কর্মস্থলেই যখন অবারিত সবুজ প্রান্তর, স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে জগিংটা সেখানেই সেরে ফেললে দোষ কী!

 

কাল দুপুরের দিকেও একজন দৌড়াচ্ছিলেন। পুরো মাঠ কয়েক চক্কর দিলেন। অন্য কেউ হলে তা নিয়ে লেখার কিছু থাকত না। কিন্তু যিনি দৌড়াচ্ছেন, তাঁকে যে সচরাচর এটা করতে দেখা যায় না! দৌড়াচ্ছিলেন সাকিব আল হাসান।

 

সাকিবের ঘনিষ্ঠরা বলেন, ‘ও জানে কখন কী করতে হবে।’ ম্যাচের আগের দিন অন্যরা যখন অনুশীলনে ঘাম ঝরান, সাকিব তখন ড্রেসিংরুমে এলায়িত ভঙ্গিতে বসে থাকলেও তাই সেটা নিয়ে কথা হয় না। কারণ, তিনি জানেন কখন কী করতে হবে।

ইংল্যান্ড সিরিজের আগে প্রথম অনুশীলনের দিন বাড়তি কিছু করার প্রয়োজনীয়তা হয়তো এই সাকিবও উপলব্ধি করেছেন। ভরদুপুরে সে কারণেই ওই ‘জগিং’। বিকেলের দিকে ইনডোরে বলা প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনের কথায়ও ধরা পড়ল এই সিরিজের গুরুত্বটা, ‘মাঝে আফগানিস্তান সিরিজ হলেও ইংল্যান্ড সিরিজটা সব সময়ই আমাদের মাথায় ছিল।’

 

ইংল্যান্ডের এই দলের অন্তত তিন-চারজন খেলোয়াড় আছেন যাঁদের সম্পর্কে খুব ভালো

 

 

ধারণা নেই বাংলাদেশ দলের। ফতুল্লার আজকের প্রস্তুতি ম্যাচ তাঁদের দেখে নেওয়ার একটা সুযোগ। অবশ্য বাংলাদেশ দলের নেট প্র্যাকটিসের মনস্তত্ত্বেও কাল ছিল প্রতিপক্ষকে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা। তবে সেটা একটু অন্যভাবে।

 

নেট বোলারদের মধ্যে দীর্ঘকায় এক পরিচিত বাঁহাতি পেসারকে দেখা গেল বল করতে। বোলারের নাম শাফাক আল জাবির। ব্যাপারটা একটু বিস্ময়করই কারণ, খেলা ছেড়ে শাফাক এখন বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্টের কর্মকর্তা। তাঁকে নেট বোলার হিসেবে আনার রহস্য ভেদ করলেন মিনহাজুল, ‘ইংল্যান্ড দলে বাঁহাতি পেসার আছে। সে জন্যই নেটে শাফাককে আনা হয়েছে।’

 

প্রধান নির্বাচকের কথায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ সম্পর্কেও একটু ধারণা পাওয়া গেল। একাদশ ম্যাচের আগের দিন বা ম্যাচের দিন সকালেই ঠিক হবে। তবে এখন পর্যন্ত কোচ-নির্বাচকদের সম্ভবত তিন পেসার রেখে দল করারই চিন্তা ঘুরছে কোচ-নির্বাচকদের মাথায়।

 

১৪ জনের দলে থাকা পেসারদের নিয়ে বেশ আশাবাদী মনে হলো মিনহাজুলকে, ‘সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া সাফল্যগুলো পেসাররাই এনে দিয়েছে। আমাদের পেস আক্রমণে বৈচিত্র্য আছে। আমরা তাই একই ধরনের দুজন বোলার রাখতে চাই না। রুবেল, আল আমিন দুজনের বলেই ন্যাচারাল ইনসুইং আছে। রুবেল পারফর্ম না করায় সে জন্য আল আমিনকে নিয়েছি। তাসকিন জোরের ওপর সোজা বল করে। মাশরাফি, শফিউল দুজনের বলেই ন্যাচারাল আউটসুইং হয়।’

 

আফগানিস্তান সিরিজের দল থেকে বাদ পড়ার পেছনে আল আমিনের ফিটনেস আর ফিল্ডিং দুর্বলতার কথাই বলা হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় লিগে এক দিনে ১৭ ওভার বল করার পর অন্তত ফিটনেস নিয়ে প্রশ্নটা আর থাকা উচিত না। মিনহাজুলের মুখেও কাল তাই শোনা গেল এই পেসারের ফিটনেসের প্রশংসা।

 

আফগানিস্তানের বিপক্ষেই বাংলাদেশ কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যায়নি। আর এই সিরিজে তো প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড! মিনহাজুল জানা কথাটাই আরও স্পষ্ট করে বললেন, ‘সঠিক সময়ে যার কাছ থেকে পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে বলে মনে হবে, আমরা তাকেই দলে বিবেচনা করব। সম্ভাব্য সেরা দলটাই নামানো হবে মাঠে।’

 

ইংল্যান্ড সিরিজ নিয়ে বাংলাদেশ দলের মতোই সতর্ক বিসিবি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে এক দর্শকের মাঠে ঢুকে পড়া নিয়ে যে তুলকালাম হলো, অতিস্পর্শকাতর ইংল্যান্ড সিরিজে সেটার পুনরাবৃত্তি আশা করে না কেউই। কাল বিকেলে তাই আলোচিত-সমালোচিত অপেশাদার নিরাপত্তাকর্মীদের দলটাকে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে বসিয়ে ছোটখাটো বক্তৃতা দিলেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী ও নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান সাবেক সেনা কর্মকর্তা হোসেন ইমাম। বক্তৃতার সারমর্ম, ইংল্যান্ড সিরিজে ও রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কারও কোনো অজুহাত শোনা হবে না। যত ক্ষমতাশালী আর পরিচিতই হোন না কেন, বিনা টিকিটি বা অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডে কাউকেই ঢুকতে দেওয়া যাবে না মাঠে।

 

মাঠের সঙ্গে মাঠের বাইরেও সাফল্য পেতে ইংল্যান্ড সিরিজে এ রকম সতর্কতা বড় বেশি জরুরি।

এ সম্পর্কিত আরও