প্রচ্ছদ » জাতীয়,শীর্ষ সংবাদ » বিস্তারিত

Mountain View

সুন্দরবনের রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা মানুষ চোখেও দেখবে না

প্রকাশিত :

rampal

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্যে আমদানি করা কয়লা মানুষ চোখেও দেখবে না বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ খন্দকার সুফি সালেক।আজ (মঙ্গলবার) ৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় ‘ইয়েস টু রামপাল’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। জেলা পরিষদ মিলনায়তনে মহানগর সুচিন্তা স্টুডেন্টস অ্যান্ড ইয়ুথ উইং ‘সুন্দরবন সুন্দর থাক, বাংলাদেশ এগিয়ে যাক’ স্লোগানে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিকে আল্ট্রা সুপার পাওয়ার প্ল্যান্ট আখ্যা দিয়ে সুফি সালেক বলেন, এখানে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিলের মতো দেশ থেকে উন্নতমানের কয়লা আমদানি করা হবে। আমরা কম কয়লা পুড়িয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করব।

৬০-৮০ হাজার টন ধারণ ক্ষমতার প্যানাম্যাক্স জাহাজে কয়লা বহির্নোঙরে আনা হবে। সেখান থেকে কাভার্ড (ঢাকনাযুক্ত) লাইটার জাহাজে পশুর নদী দিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গুদামে কয়লা আনা হবে। ওই কাভার্ড গুদামটিতে ছয় মাসের কয়লা মজুদ থাকবে। তাই বড় ধরনের ভূমিকম্প কিংবা সুনামি না হলে মানুষ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা দেখতে পাবে না।

মুক্তিযুদ্ধের সময় সুন্দরবনে যুদ্ধ করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৪০ বছর পর সম্প্রতি আমি সুন্দরবন পরিদর্শন করেছি। সুন্দরবনের প্রান্তিক সীমা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে। ১ হাজার ৮২০ একর জায়গা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯০০ একর জায়গায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র হবে। কেন্দ্রের পাশে ৬ লাখ গাছ লাগানো হবে।

ইতিমধ্যে ৫০ হাজার গাছের চারা লাগানো হয়েছে। আমি দেখে এসেছি। পরিবেশ দূষণ যাতে না হয় সে লক্ষ্যে এ কেন্দ্রে লো নক্স বার্নার ব্যবহার করা হবে। অ্যাশ ও মার্কারির প্রতিরোধক ব্যবস্থা হিসেবে ইএসপি ব্যবহার করা হবে। ব্যাকআপ ওয়াটার হিসেবে শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশ পানি নেওয়া হবে পশুর নদী থেকে। আবার সেই পানি পরিশোধন করে ওই নদীতে ছাড়া হবে।

তিনি বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরোধিতাকারীদের সামনে এসে বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর কথা বলার আহ্বান জানিয়েছি। তারা আসেনি। একশ্রেণির বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আছেন যারা তথ্য সন্ত্রাস চালিয়ে মগজ ধোলাই করছেন। তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কি বিদ্যূৎ পাওয়ার অধিকার নেই?

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর কামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে, কিন্তু পারেনি। এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাতে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে না পারে সে জন্য ষড়যন্ত্র করছে। কিছু সাম্রাজ্যবাদী পেইড এজেন্ট এ প্রকল্পের বিরুদ্ধে লেগেছে। রামপাল ইস্যুতে বামপন্থীদের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত এক হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম চট্টগ্রামের চেয়ারপারসন এসএম আবু তৈয়ব বলেন, দেশের বুদ্ধিজীবীদের কিছু ফ্যাশন আছে। একসময় টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে মুখে ফেনা তুলতে দেখতাম। চট্টগ্রামের জাহাজ ভাঙা শিল্পের বিরুদ্ধে বলাটা ফ্যাশন ছিল। এখন রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরোধিতা করাটা ফ্যাশন হয়েছে। তুমি রামপাল নিয়ে চিন্তা করবে কিন্তু সিগারেট খাও!

সুচিন্তা স্টুডেন্টস অ্যান্ড ইয়ুথ উইং’র সদস্য এইচএম তারেকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে আলোচনা করেন স্থপতি আশিক ইমরান, সুচিন্তার চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক ড. মো. আশরাফুল ইসলাম সজীব, যুগ্ম সমন্বয়ক আবুল হাসনাত মো. বেলাল, কার্যকরী সদস্য আবু হাসনাত চৌধুরী, হোসাইন আহমদ, মোহাম্মদ বোখারী আজম প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ।

ড. মো. আশরাফুল ইসলাম সজীব বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সঙ্গে, মাটি ও মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারেন না। এ আস্থা এদেশের মানুষের আছে। সরকার জোর করে কিছু করতে চায় না। তবে অযৌক্তিক কিংবা কোনো শক্তির প্ররোচনায় যদি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অহেতুক সমালোচনা হয় তা মেনে নেবে না। এ কেন্দ্র হলে দক্ষিণাঞ্চল আলোকিত হবে, শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, মানুষ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার প্রবণতা কমবে।

তিনি বলেন, ২০০১-২০০৫ সালে দৈনিক এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হতো। এর থেকে মুক্তি দিয়েছে বর্তমান সরকার। তাই সরকারের কথা ও কাজে আস্থা রাখতে চাই আমরা।

এ সম্পর্কিত আরও


   অফিস:২৮১/৪ জাফরাবাদ,শংকর,ধানমন্ডি-১২০৯
       এডিটর-ইন-চিফ : মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম
            ইমেইল : [email protected]
               বিজ্ঞাপণ : +8801687328436
                  কপিরাইট: BD24Times Pvt.Ltd