Mountain View

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৫, ২০১৬ at ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ

আল আমিন সুজন: জীবনের মাঠে নিরন্তর ভুলে ভরা যাবতীয় পথের ধূলো দূর করার নির্দেশক হিসেবে পাশে পাওয়া, কথা বলা প্রথম শিক্ষক মমতাময়ী “মা” হতে শুরু করে কতজন গুরুর সান্নিধ্য যে অর্জন করেছি তা ভাবলেই নিজেকে অনেক জ্ঞানী মনে হয়, গর্বে হৃদয় প্লাবিত হয়।

জ্ঞান— এমন একটি বিষয় তা যত স্বল্পই হোক না কেন, সেটি অর্জনের জন্য নির্দেশনা মেনে চলতে হয়। যা দিয়ে থাকেন কেবল শিক্ষক। শিক্ষক হলেন সমাজের আলোকিত, মহান ব্যক্তি। মাটির মানুষের মধ্যে মানব সমাজের সকল সুন্দরের শৈল্পিক গড়ন দিয়ে থাকেন যিনি…. শিক্ষক আমাদের হৃদয়ে গেঁথে থাকেন নতুন পলেস্তারা করা ইটের দেয়ালে হাতের থাপের মতো। সেখানে যে যত সুন্দর করে হাতের তালুর ছাপ বসাতে পারেন, তাঁর হস্তরেখাও চোখে ধরা পড়ে তত নিপুণ করে। প্রত্যেক শিক্ষকের দেখা পাওয়া প্রথম ক্লাসটা হয়ে থাকে প্রথম প্রেমের মতো।

শিক্ষকরা হয়ে থাকেন শিকড়ের মতো, তাঁদের সবকিছুই আমাদের মনে, মননে ভেতর থেকে প্রোথিত হয় পরম পরশে বৃক্ষের আদলে। শিক্ষকতা পেশা হিসেবে সবাই পছন্দ করলেও ভালোবাসতে পারেন খুব কম ব্যক্তিই। “শিক্ষক হতে চাও, ভাল কথা, মনে রেখ তুমি সারা জীবনের জন্য ছাত্র হলে”— ‘ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র এই উক্তিটিতে বিশ্বাস রেখেই শিক্ষকরা পরব্রতের এই পেশা বেছে নেন। শিল্পের অতুলনীয় সৌন্দর্যের বৈভবে আমরা যেমন মুগ্ধ হয়ে ভুলে যাই শিল্পীর কথা, তেমনি শিক্ষকরা প্রতিনিয়ত মানবতার বটবৃক্ষ গড়ে চলেছেন নীরবে। যা আমাদের নয়নে ধরা পড়ে না। ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’ বলে গেছেন, “গায়ের জোঁরে মোড়ল হওয়া যায়, সন্ত্রাসীও বটে কিন্তু গুরু হওয়া যায় না”।

মানুষের মাঝেই বাস করে আমাদের মনের চিন্তা-ভাবনা, কল্পনা-কথা, ব্যথা-ভালোবাসা, আশা-স্মৃতি, রীতি-আবেগ, আনন্দ-মিথ্যা, মানবতা-সত্য, মনুষ্যত্ব-মৃত্যু। সবকিছুরই মার্জিত স্বরূপ শিক্ষা দিয়ে থাকেন শিক্ষক। শৈশব হতেই সকলের বিশ্বাস করার,অবাক হবার অপরিমেয় শক্তি থাকে মানুষের। সেই শক্তি সারাটা জীবন বাঁচিয়ে রাখে মানুষকে। কালোর কবল হতে ভালোর জন্য আলোর সেই শক্তির ভিত্তি গড়ে দেন শিক্ষক। তিনি পরিবর্তন নিয়ে আসেন; সে পরিবর্তন সমাজে মানুষকে গড়ে তোলে মানুষের চেয়ে বড় করে। কেবল ভেতরে, বাইরে নয়। পৃথিবীর ভুলে শুধু কথার ফুলে সাজিয়ে তোলা মনুষ্যত্বের প্রতিটি ফুলদানিকে জানাই মনের মঞ্চ হতে অননুভবনীয় অভিনন্দন।

এ সম্পর্কিত আরও