Mountain View

আজ মাশরাফি ও সাহেলের জন্মদিন

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৫, ২০১৬ at ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ

full_586734855_1475624832

৩৩টি বসন্ত পার করলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের আইকন মাশরাফি বিন মর্তুজা। আর দু’টি বসন্ত পার করেছে মাশরাফিপুত্র সাহেল মর্তুজা। আজ ৫ অক্টোবর, পিতা-পুত্রের জন্মদিন। শুভ জন্মদিন মাফরাফি, শুভ জন্মদিন সাহেল।

অসামান্য এক প্রতিভাধর ক্রিকেটার তিনি। যেমনই প্রতিভা, তেমনই ব্যক্তিত্ব। সহজে মানুষকে আপন করে নেয়ার সবগুলো গুণ তার মধ্যে বিদ্যমান। নড়াইলের চিত্রা নদীতে সাঁতরে বেড়ানো সেই দুরন্ত কিশোর কৌশিক কখন যে হয়ে উঠলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের আইকন, পোস্টারবয়- সেটা বোধকরি তার নিজেরও জানা নেই।

১৯৮৩ সালের আজকের এই দিনে নড়াইলের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা। তবে শুধু মাশরাফিরই নয়, মজার বিষয় হলো ছেলে সাহেলের জন্মও একই দিন। মাশরাফি নিজেই বেশ কয়েকবার বলেছিলেন, ভাগ্যবান বাবা তিনি। ২০১৪ সালের একই দিন ঢাকায় জন্ম তার ছেলে সাহেলের।

স্কুল ফাঁকি দিয়ে ক্রিকেট খেলতে যাওয়া ছেলেটি আজ বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক। পাড়ার মাঠে বল হাতে গতি ছোটানো মাশরাফি প্রথমে সুযোগ পান অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। সেখান থেকেই তিনি চোখে পড়েন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং কোচ অ্যান্ডি রবার্টসের। তার হাতে পড়েই ক্যারিয়ার বদলে যায় মাশরাফির। তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি প্রথম শ্রেণির কোনো ম্যাচ না খেলেই টেস্টে অভিষিক্ত হন।

ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ২০০১ সালের ৮ নভেম্বর শুরু হওয়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেকেই নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। বৃষ্টিবিঘ্নিত হওয়ার কারণে বোলিং করার সুযোগ পেলেন মাত্র এক ইনিংসে, ৩৬ ওভার। একই বছর ২৩ নভেম্বর ওয়ানডে ক্রিকেটে মাশরাফির অভিষেক হয় ফাহিম মুনতাসির ও তুষার ইমরানের সঙ্গে। অভিষেক ম্যাচে মোহাম্মদ শরীফের সঙ্গে বোলিং ওপেন করে তিনি ৮.২ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট। ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেটে দুই ফরম্যাটেই গ্রান্ট ফ্লাওয়ার ছিলেন মাশরাফির প্রথম শিকার! সেই যে শুরু পথচলা, এরপর নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ১৫টি বছর পার করে ফেলেছেন ক্যারিয়ারের।

ইনজুরির কারণে টেস্ট ক্যারিয়ার দীর্ঘ হয়নি মাশরাফির। মাত্র ৩৬ টেস্ট খেলে নিয়েছেন ৭৮ উইকেট। একই সঙ্গে তিনটি হাফ সেঞ্চুরিসহ রান করেছেন ৭৯৭। বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওয়ানডে খেলেছেন তিনি- ১৬৩টি। উইকেট পেয়েছেন ২০৮টি, আর রান ১ হাজার ৪৫০।

ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ২০০১ সালের ৮ নভেম্বর শুরু হওয়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেকেই নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। সেই যে পথচলা শুরু, এরপর নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ১৫টি বছর পার করে ফেলেছেন ক্যারিয়ারের। ২০০৬ সালে এক পঞ্জিকাবর্ষে মাশরাফি ছিলেন একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিশ্বের সর্বাধিক উইকেট শিকারি বোলার। তিনি ওই বছর নিয়েছিলেন ৪৯ উইকেট। তারই নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশ খেলেছে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল।

দক্ষ নেতৃত্বে পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পরাশক্তিকে মাটিতে নামিয়ে দিয়েছেন ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের স্বাদ। তার হাত ধরে টানা ৬টি সিরিজ জয় এসেছে ঘরে। সামনে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে ক্ষণ গুনছেন নড়াইল এক্সপ্রেস ও তার সতীর্থরা।

এ সম্পর্কিত আরও