ঢাকা : ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, রবিবার, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

ইমরুলের পর ইবাদত

2314f611a7eb7f4c2c57b4ad05c9ec8a-untitled-2আল আমিন জুনিয়রের প্রথম বলটিকে সীমানা পার করিয়েই আনুষ্ঠানিকতা সারলেন ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলার। বিসিবি একাদশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে শুভসূচনা হলো ইংল্যান্ড দলের।

এইটুকুতেই ম্যাচ রিপোর্ট শেষ হয়ে যেতে পারত। তাহলে বলা হতো না ইবাদত হোসেনের কথা, ইমরুল কায়েসের অসাধারণ আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ের কথা, কীভাবে সুযোগ হাতছাড়া করলেন সৌম্য সরকার, আল আমিনরা কিংবা ম্যাচের সবচেয়ে অদ্ভুত ঘটনাটির কথা।

শেষটি দিয়েই শুরু করা যাক। শুভাগত হোমের বলে রিভার্স সুইপ করতে গেলেন বেন ডাকেট। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে উড়ে গেল ব্যাট, সেদিকে তাকাতে তাকাতে বল যে ডাকেটের প্যাডকে ফাঁকি দিয়ে স্টাম্প ভেঙে দিল, সেটা বোঝা গেল একটু পর। বোল্ড!

তবে এর আগেই দৃষ্টি কেড়েছেন নবাগত ইবাদত হোসেন। মোবাইল সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠান রবি আয়োজিত পেসার হান্টের আবিষ্কার এই ইবাদত হাই পারফরম্যান্স ইউনিট হয়ে কাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলে ফেললেন। মুগ্ধ করলেন গতির ঝড় তুলে। বোলিংয়ে এলেন নবম ওভারে। চতুর্থ বলেই উইকেট, জেসন রয়ের। ডাকেটকে করা ইবাদতের প্রথম বলটিও ছিল অসাধারণ। সেটি একটুর জন্য ডাকেটের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে যায়নি। ১৩তম ওভারে বল হতাশ করেনি ইবাদতকে। উইকেটকিপার নুরুল হাসানের কাছে যাওয়ার আগে ঠিকই ছুঁয়ে গেল জেমস ভিনসের ব্যাট। বোলিংয়ে বিসিবির হাইলাইট হয়ে থাকল ইবাদতের ৫ ওভারে ২৬ রানে ২ উইকেটের এই স্পেলটাই।

ব্যাটিংয়ে অবশ্য পুরো আলো কেড়েছেন ইমরুল। ইংল্যান্ড সিরিজে একাদশে জায়গা পেতে কাল তাঁকে কিছু করে দেখাতে হতো। তা ‘কিছু’ করে দেখালেন ইমরুল। ইনিংসের প্রথম বলেই ক্রিস ওকসকে কাভার দিয়ে চার মেরে শুরু করলেন। তৃতীয় বলেই আবার, এবার পয়েন্ট দিয়ে। পরের ওভারে ডেভিড উইলিকে দুই চার। এটা চলল ইনিংসের শেষ পর্যন্ত। ১১তম ওভারে লিয়াম প্লাঙ্কেটের বলে শর্ট কাভারে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে গেলেন। ব্যস, এরপর আর ফিরে তাকাননি।

ব্যাটিংয়ে অবশ্য পুরো আলো কেড়েছেন ইমরুল। ইংল্যান্ড সিরিজে একাদশে জায়গা পেতে কাল তাঁকে কিছু করে দেখাতে হতো। তা ‘কিছু’ করে দেখালেন ইমরুল। ইনিংসের প্রথম বলেই ক্রিস ওকসকে কাভার দিয়ে চার মেরে শুরু করলেন। তৃতীয় বলেই আবার, এবার পয়েন্ট দিয়ে। পরের ওভারে ডেভিড উইলিকে দুই চার। এটা চলল ইনিংসের শেষ পর্যন্ত। ১১তম ওভারে লিয়াম প্লাঙ্কেটের বলে শর্ট কাভারে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে গেলেন। ব্যস, এরপর আর ফিরে তাকাননি।

একের পর এক চোখ জুড়ানো সব কাভার ড্রাইভ, সুইপ আর সেই সঙ্গে দ্রুত প্রান্ত বদল করে সিঙ্গেলস-ডাবলস। ইংল্যান্ড তাতেই ব্যাকফুটে। ইংলিশ স্পিনারদের রীতিমতো পাড়ার বোলারদের পর্যায়ে নামিয়ে আনলেন। ২৭তম ওভারে যখন সেঞ্চুরি পেলেন, তাঁর নামের পাশে ৯টি চার, ৪টি ছক্কা। বল? মাত্র ৮১! সেঞ্চুরির পর অবশ্য বেশিক্ষণ থাকেননি। দুই স্পিনারকে একটি করে চার ও উইলিকে এক ওভারেই দুই ছক্কা মেরে ৯০ বলেই পৌঁছে যান ১২১ রানে। দুই ছক্কার ওই ওভারেই একটা ফুলটসে নিজেকে ‘ইয়র্কড’ করে ফিরলেন ২৯তম ওভারে।

এরপর সবাইকে অবাক করে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলতে নামা মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক নাসির হোসেনের ব্যাটে ৩০০ পেরোয় দল। ফর্মে ফেরার চেষ্টাটা ভালোই কাজে লাগিয়েছেন মুশফিকুর, ৫৭ বলে ৫১ রান করেছেন। ৪৫ বলে ৪৬ রান নাসিরের। কিন্তু বিসিবির ৩০৯ রান ২৩ বল বাকি রেখেই টপকে যায় ইংল্যান্ড। জস বাটলার (৬৪ বলে ৮০*) ও মঈনের (৫১ বলে ৭০) ঝড় ইংল্যান্ডকে কখনোই চিন্তায় ফেলতে দেয়নি।

ওহ্‌, সুযোগ হাতছাড়ার গল্প তো বলাই হলো না। ইমরুল ও নাসির একাদশে ফেরার দাবিটা জানিয়ে রাখলেও সৌম্য ও আল আমিন তা পারেননি। আল আমিন ৯ ওভার বোলিং করে ৬৪ রানে ১ উইকেট পেয়েছেন। আর সৌম্য ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতা (৭ রান) ভুলতে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর প্রথম বল হাতে নেন, ২ ওভারে দেন ১৮ রান।

হতাশাই তো!

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বিসিবি একাদশ: ৫০ ওভারে ৩০৯/৯ (ইমরুল ১২১, সৌম্য ৭, নাজমুল ৩৬, মুশফিক ৫১, নাসির ৪৬, শুভাগত ১১, নুরুল ৮, আল আমিন জু. ৮, সানজামুল ৪*, আল আমিন ৩, কামরুল ১*; ওকস ৩/৫২, উইলি ২/৬৩, মঈন ০/৪১, প্লাঙ্কেট ০/৩৪, স্টোকস ২/৩৬, রশিদ ১/৭৬)।

ইংল্যান্ড: ৪৬.১ ওভারে ৩১৩/৬ (রয় ২৮, ভিন্স ৪৮, ডাকেট ২৯, বেয়ারস্টো ১১, স্টোকস ২৮, বাটলার ৮০*, মঈন ৭০, ওকস ০*; আল আমিন ১/৬৪, কামরুল ১/৭২, আহমেদ ০/২৯, ইবাদাত ২/২৬, শুভাগত ১/৪২, সৌম্য ০/১৮, নাসির ০/২৫, সানজামুল ১/২৩, আল আমিন জু. ০/৪) ।

ফল: ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বিশাল ১০ টি ছক্কা (ভিডিও)

জাহিদুল ইসলাম, বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমস : ক্রিকেটকে বলা হয় রানের খেলা। আর সেই রানের সবচেয়ে …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *