ঢাকা : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, শুক্রবার, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

এই মাসেই আসছে সংসদ ভবনের মূল নকশা

songsod

জাতীয় সংসদ ভবনসহ পুরো আগারগাঁও এলাকার মূল নকশা চলতি অক্টোবরেই হাতে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনির্ভাসিটি অব পেনসিলভানিয়ার আর্কাইভ থেকে উড়োজাহাজযোগে এ নকশা পাঠানো হবে।

এরইমধ্যে সংসদ এলাকার সঙ্গে যুক্ত নকশাগুলো চিহ্নিত করেছে ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ। এমনকি প্রিন্টিংও শেষ করেছে তারা। সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গত ৬ জুন মার্কিন বিখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের করা জাতীয় সংসদের মূল নকশা বাছাই করতে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রে যায়।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংসদের অতিরিক্ত সচিব আ ই ম গোলাম কিবরিয়া, স্থ‍াপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (উন্নয়ন শাখা-৯) মো. মনিরুজ্জামান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব, স্থাপত্য অধিদপ্তরের সহকারী স্থপতি সাইকা বিনতে আলম।

প্রতিনিধি দলটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৬  জুন দেশে ফিরে জানায়, তারা সংসদের মূল নকশা শনাক্ত করতে পেরেছে। এখন সেই নকশা পাঠানোর চূড়ান্ত কাজ চলছে।

প্রতিনিধি দলে থাকা একজন কর্মকর্তার  মতে, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার আর্কাইভে সংরক্ষিত ৮ হাজার নকশার মধ্যে ৮৩৫টি রয়েছে সরাসরি বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

এসব নকশা চার সেট করে পাঠানো হচ্ছে। এরমধ্যে প্রথমে দুই সেট নমুনা পাঠানো হবে। এরপর উড়োজাহাজযোগে পাঠাতে যে খরচ হবে তা কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেবে সংসদ সচিবালয়কে।

সূত্রমতে, নকশা পাওয়ার জন্য সেই খরচ আর্কাইভ কর্তৃপক্ষের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে সংসদ সচিবালয়।

এর আগে, যোগাযোগ করা হলে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের আর্কাইভে ৮ হাজার নকশা রয়েছে বলে বাংলাদেশকে জানায়। এরমধ্যে সরাসরি সংসদ সচিবালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৮৩৫টি সহ মোট ৮৫৩টি নকশার প্রয়োজনীয়তা আছে বলে সেগুলো নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এছাড়া আরও ৫৬টি ডকুমেন্ট গ্রহণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। এসব নকশা আনতে প্রতিটিতে খরচ হচ্ছে ১৯ ডলার।

এ বিষয়ে স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির বাংলানিউজকে বলেন, নকশা পাঠানোর সব প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। ওরা এখন প্লেনযোগ প্রথমে আমাদের দু’টি নমুনা সেট পাঠাবে। পরে ওরা জানাবে প্লেনযোগে সব নকশা পাঠাতে কতো খরচ লাগবে। সেটা জেনে ওদের অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দিয়ে দিলেই চলে আসবে নকশা। আশা করছি চলতি মাসেই সবগুলো নকশা হাতে পাবো।

সরকার তোপখানা রোড থেকে সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় উদ্যোগী হলে সংসদ ভবনের মূল নকশা সংগ্রহের বিষয়টি অনুধাবন করেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেজন্য তিনি ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি লুই আই কানের করা মূল নকশা সংগ্রহের নির্দেশ দেন সংসদ সচিবালয়কে। পরের বছরের ১৩ অক্টোবর একনেকের সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে লুই আই কান যখন মূল নকশাটি করেন, তখন ২৭টি মন্ত্রণালয়ের জায়গা ছিল সেখানে। ওই নকশায় ছিল মসজিদ, মাঝে বাগান, চন্দ্রিমা উদ্যান, তার মধ্যে একটি বড় সড়ক, এর সামনে লেক। তারপরই ছিল সংসদ ভবন। তাই অনুলিপি ধরে নয়, ১৯৭৪ সালের মূল নকশা ধরেই সচিবালয় স্থানান্তরসহ সব কিছু করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

১৯৭৪ সালে শেরেবাংলা নগরে ৪২ একর জায়গায় জাতীয় সচিবালয় নির্মাণের জন্য সরকার ও মার্কিন কোম্পানি ডেভিড উইসডম অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের সঙ্গে চুক্তি হয়। এরপর বিষয়টির কোনো অগ্রগতি হয়নি।

সেই নকশাভুক্ত এলাকার মধ্যেই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জিয়াউর রহমানের কবর গড়ে তোলা হয়। সংসদ ভবনের উত্তরে ৭৪ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা চন্দ্রিমা উদ্যানের মধ্যখানে  বিশাল এলাকা নিয়ে নির্মাণ করা হয় জিয়ার মাজার কমপ্লেক্স। আর জিয়াউর রহমান ও আরেক সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামল মিলিয়ে সংসদ ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিমপ্রান্ত লাগোয়া এলাকার পাঁচ বিঘারও বেশি জায়গাজুড়ে ‘জাতীয় কবরস্থান’ নাম দিয়ে আরও অন্তত সাতজনকে সমাধিস্থ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, লুই আই কানের মূল নকশার প্রথম ধাপ ছিল ২০৮ একর জায়গার ওপর জাতীয় সংসদ ভবন নির্মাণ। যার সামনে ও পেছনে বিস্তীর্ণ সবুজ খোলা মাঠ থাকবে। চারদিকে থাকবে আট লেনের সড়ক এবং মাঝখানে লেক। দ্বিতীয় ধাপে লেকের পর থাকবে বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ। এছাড়া বাকি জায়গায় গড়ে তোলা হবে সচিবালয়, লাইব্রেরি, জাদুঘর, হাসপাতালসহ প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক বলয়।

জিয়া ও এরশাদের শাসনামলের পর ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর আরও বদলে যায় সংসদ ভবন এলাকা। ওই এলাকায় ১০ একর জমিতে নির্মাণ করা হয় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র। সে সরকারের গণপূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাস মূল নকশা ভেঙে আসাদগেটের উল্টো দিকে সংসদ ভবনের জায়গায় পেট্রোল পাম্প স্থাপনের জন্য তার ছোট ভাই মির্জা খোকনকে জায়গা বরাদ্দ দেন। সেসময় সংসদ ভবনের মূল ভবনের পাশেই খোলা সবুজ চত্বরে নির্মাণ করা হয় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

সূর্য আকারে বেড়ে যাবে ১০০ গুন , পৃথিবী হারাবে প্রাণিকুল

সূর্য আকারে বেড়ে যাবে ১০০ গুন। আর পৃথিবীর যাবতীয় প্রাণিকুল পুড়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। মহাকাশবিজ্ঞানীরা …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *