Mountain View

তীরে এসে তরী ডুবল বাংলাদেশের

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৭, ২০১৬ at ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

 har

এ যেন রূপকথা কেও হার মানিয়ে ফেলল বাংলাদেশ।নিজেদের জেতা ম্যাচ নিজেরাই হেরে আসল।নিজেরাই অনেক কষ্ট করে তরীকে তীরে আনল কিন্তু তীরে ভেড়ার আগেই নিজারাই ডুবাল।সহজ জেতা ম্যাচ কঠিন করে মাত্র ২১ রানে হার মানতে বাধ্য হলো ইংল্যান্ডের কাছে। sakib

ইমরুল সাকিব ঝুটি যখন জয়ের দিকে যাচ্ছিল ঠিক তখনই সাকিবের ভুল শর্টেই বলটা ক্যাচে পরিণত হওয়ার পর থেকেই একের পর এক বিপদ আসতে শুরু করে বাংলাদেশের।সাকিব আল হাসান ৫৫ বলে ৭৯ রানের মারকুটে ইনিংস খেলেন।জেইক বলের বলে ডেভিড উইলির ক্যাচে পরিণত হয়ে তিনি ফিরে গেলে ভাঙে ১১৮ রানে জুটি। পরের বলে মোসাদ্দেক হোসেনকে বোল্ড করে ইংল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরান বল।

এরপর টাইগার অধিনায়ক ক্রিজে আসলেও বেশিক্ষন সঙ্গ দিতে পারেননি,আদিল রশিদের বলে উইকেটরক্ষক জস বাটলারের গ্লাভসে জমা পড়েন বাংলাদেশের অধিনায়ক।

আদিল রশিদের তার পরের ওভারের প্রথম বলই ওয়াইডে স্টাম্পড হয়ে ফিরেন ইমরুল কায়েস (১১৯ বলে ১১২)। ছন্দে থাকা ইমরুল কায়েস পান ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক। তাকে রান আউটের চেষ্টায় ডেভিড উইলির থ্রো স্টাম্পে লেগে চার হলে ১০৫ বলে তিন অঙ্কে পৌঁছান এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।শফিউল এবং সব শেষে তাসকিন মাঠে নামলেও আউট হয়ে যান।

পঞ্চম উইকেটে অর্ধশত রানের জুটি গড়েন ইমরুল কায়েস ও সাকিব আল হাসান। তাদের দৃঢ়তায় ম্যাচে ভালো অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ।বাঁ পায়ে পায়ে টান লেগেছে ইমরুল কায়েসের। ঠিকমতো দৌঁড়াতে না পারলেও বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান দলকে কক্ষপথে রাখতে ব্যাটিং চালিয়ে যান।

মুশফিকুর রহিম প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করলেও তিনি এই ম্যাচে উইকেট বিলিয়ে দেন  ১২ বলে মাত্র ১২ রান করে। আদিল রশিদের বলে চড়াও হতে গিয়ে স্যাম বিলিংসের ক্যাচে পরিণত হন ছন্দ হারিয়ে ফেলা এই ব্যাটসম্যান।

ইমরুল কায়েসের সঙ্গে অর্ধশত রানের জুটি গড়ে ফিরেন মাহমুদউল্লাহ (২৬ বলে ২৫)। লেগ স্পিনার আদিল রশিদের বলে সীমানায় বদলি ফিল্ডার স্যাম বিলিংসের হাতে ধরা পড়েন তিনি।strc

জেইক বলের বলে ডেভিড উইলির দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরেন সাব্বির রহমান (১১ বলে ১৮)। সাব্বিরের পুল ডিপ মিডউইকেট দিয়ে ছক্কার পথে ছিল। দড়ির ঠিক সামনে থেকে ছো মেরে বল ধরে উপরের দিকে ছুড়ে বাইরে চলে যান উইলি। সীমানার ভেতরে ঢুকে বল তালুবন্দি করলে টিভি আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে সাব্বিরের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়।

শুরু থেকে অস্বস্তির মধ্যে থাকা তামিম ইকবাল (১৭) ফিরেন জেইক বলকে আক্রমণ করতে গিয়ে। জেমস ভিন্স সহজ ক্যাচ তালুবন্দি করতে ভুল করেননি। ৩১ বলের ইনিংসে অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে বেশিরভাগ সময় ব্যাটে বল ছোঁয়াতে পারেননি তিনি।

শুরু থেকেই অফস্টাম্পের বাইরে টানা বল করেন ইংল্যান্ডের দুই পেসার ক্রিস ওকস ও ডেভিড উইলি। সজোর হাঁকানোর চেষ্টায় বেশিরভাগ সময় বলেই ব্যাট লাগাতে পারেননি তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস।

ক্রিস ওকসের করা ম্যাচের তৃতীয় বলটি দুর্দান্ত এক ফ্লিকে গ্যালারিতে নিয়ে ফেলেন ইমরুল কায়েস। শেষ বলে হাঁকান চার। বড় রানের লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম ওভারটা ভালো করে বাংলাদেশ।

অভিষেক হওয়া নতুন খেলোয়াড় জেইক বল ৯ ওভার ৫ বলে ৫১ রান দিয়ে ৫ টি উইকেট পেয়ে ম্যান অব দ্যা মায়চ নির্বাচিত হন।

এর আগে দুই বার জীবন পেয়ে বেন স্টোকসের প্রথম শতক আর বেন ডাকেট ও জস বাটলারের অর্ধশতকে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে বড় সংগ্রহ গড়েছে ইংল্যান্ড। ফিল্ডিংয়ে বাজে দিন কাটানো স্বাগতিকদের জয়ের জন্য চাই ৩১০ রান।

শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ৩০৯ রান করে ইংল্যান্ড।

জেমস ভিন্সের সঙ্গে অতিথিদের ভালো শুরু এনে দেন জেসন রয়। শুরু থেকে আঁটসাঁট বোলিং করা শফিউল ইসলামের বলে তুলে মারতে গিয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজার তালুবন্দি হন ভিন্স। ভাঙে ৪১ রানের জুটি।

পঞ্চম ওভারে আক্রমণে আসা সাকিব আল হাসান প্রান্ত বদল করেই ফেরান বিপজ্জনক রয়কে। লংঅফ দিয়ে উড়িয়ে সীমানা করার চেষ্টায় সাব্বির রহমানের ক্যাচে পরিণত হন তিনি।ran

সাব্বিরের দুর্দান্ত থ্রোয়ে রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান জনি বেয়ারস্টো।

৬৩ রানে তিন ব্যাটসম্যানকে বিদায় করে দেওয়া বাংলাদেশ চেপে ধরে ইংল্যান্ডকে। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন স্টোকস ও ডাকেট। বাংলাদেশের বাজে ফিল্ডিংয়ে তাদের জুটি আরও জমে উঠে।

ব্যক্তিগত ৬৯ রানে তাসকিন আহমেদের বলে মাহমুদউল্লাহর হাতে মিডঅনে জীবন পান স্টোকস। পরের ওভারে ৭১ রানে মাশরাফির বলে ডিপ মিডউইকেটে তার ক্যাচ ফেলেন মোশাররফ হোসেন।

জীবন দুই হাতে কাজে লাগিয়েছেন স্টোকস। দারুণ সব শট খেলেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত শতকে পৌঁছে মাশরাফির বলে সাব্বিরকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। ১০০ বলে খেলা তার ১০১ রানের ইনিংসটি গড়া ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায়।

স্টোকসের পুল, ফ্লিক, অন ড্রাইভগুলো ছিল দুর্দান্ত। স্পিনারদের এলোমেলো করে দিতে খেলেছেন দারুণ কিছু রিভার্স সুইপ। মাশরাফির বলেও রিভার্স সুইপ খেলতে কোনো সমস্যা হয়নি তার। স্পিনারদের আক্রমণের জন্য মিডউইকেটে সীমানা ছিল তার লক্ষ্য। স্টোকস চার ছক্কার তিনটিই হাঁকান মিডউইকেট দিয়ে।

এর আগেই অভিষেকে অর্ধশতক পাওয়া ডাকেটকে ফিরিয়ে ১৫৩ রানের জুটি ভাঙেন শফিউল। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে নিচু ফুলটস বলে ৬০ রান করা বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করেন তিনি। মোশাররফের হাতে একবার জীবন পাওয়া ডাকেটের ৭৮ বলের ইনিংসটি সাজানো ৬টি চারে।

মাশরাফিকে হুক করতে গিয়ে তামিম ইকবালকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন মইন আলি। দ্রুত তিন উইকেটের পতনে পাওয়া স্বস্তি মিলিয়ে যেতেও বেশি সময় লাগেনি। বাটলারের শেষের ঝড়ের সামনে অসহায় ছিলেন স্বাগতিক বোলাররা। শেষ পাঁচ ওভার থেকে ৬০ রান নেয় অতিথিরা।

শেষ ওভারে বাটলারকে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন সাকিব। ৩৮ বলে খেলা বাটলারের অধিনায়কোচিত ইনিংসটি চারটি ছক্কা ও তিনটি চার সমৃদ্ধ।

বাংলাদেশের মাশরাফি, সাকিব ও শফিউল দুটি করে উইকেট নেন।

এ সম্পর্কিত আরও

আপনিও লিখুন .. ফিচার কিংবা মতামত বিভাগে লেখা পাঠান [email protected] এই ইমেইল ঠিকানায়
সারাদেশ বিভাগে সংবাদকর্মী নেয়া হচ্ছে। আজই যোগাযোগ করুন আমাদের অফিশিয়াল ফেসবুকের ইনবক্সে।