প্রাণঘাতী হারিকেন ম্যাথিউয়ের কবলে ফ্লোরিডা

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৭, ২০১৬ at ৬:৫২ অপরাহ্ণ

hurricane

আটলান্টিকের ক্যারিবীয় উপকূলে প্রায় এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ম্যাথিউ হাইতিতে ৩৩৯ জনের প্রাণহানি ঘটিয়ে আঘাত হেনেছে ফ্লোরিডায়।

শুক্রবার ফ্লোরিডায় ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখন্ডের দিকে অগ্রসর হতে হতে ঝড়টির দুর্বল হয়ে তিন ক্যাটাগরির হয়ে পড়লেও বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭০ মাইল।

ঝড়ের প্রভাবে ফ্লোরিডার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে প্রবল বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি)।

ওয়েস্ট পাম বীচের গভর্নর রিক স্কট ফ্লোরিডার ১ লাখ ১৪ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ার খবর দিয়েছেন। ম্যাথিউ এর মত জোর বাতাস নিয়ে খুব কম ঝড়ই ফ্লোরিডায় আঘাত হেনেছে এবং এনএইচসি এ ঝড়ে এরই মধ্যে বিপর্যয়কর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে।

হাইতি ও কিউবায় আঘাত হানার পর বুধবার ঘূর্ণিঝড়টি তিন মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে বাহামা দ্বীপপুঞ্জ ও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পূর্ব উপকূলের দিকে অগ্রসর হয়।

হাইতির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় জেরেমি শহরের ছবিতে ঝড়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘর দেখা গেছে। চিকিৎসাকেন্দ্র এবং খাবারের আড়তগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখা গেছে। শহরের অধিকাংশ এলাকাই ঝড়ে পুরোপুলি লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।

ম্যাথিউয়ের তাণ্ডবের কারণে হাইতির বহু প্রতীক্ষিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ঘূর্ণিঝড়টি ঘন্টায় ২৩০ কিলোমিটার বাতাসের বেগ নিয়ে কিউবা ও হাইতির ওপর দিয়ে বয়ে যায়। গমনপথে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতে ওই অঞ্চলের শহরগুলো ভাসিয়ে দিয়ে যায়। এতে গবাদিপশু, ফসল ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ঘূর্ণিঝড়টি হাইতির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গমনপথের সবকিছু ধ্বংস করে এগিয়ে গেছে। ম্যাথিউয়ের তাণ্ডবে উপকূলীয় এলাকার সড়কগুলোতে নৌকাসহ ধ্বংস হওয়া বিভিন্ন জিনিসের স্তূপ জমে গেছে। সাগর থেকে উঠে আসা পানিতে আবাসিক এলাকাগুলো ডুবে গেছে।

হাইতির সুদো প্রদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ওই প্রদেশে সাত লাখেরও বেশি মানুষের বাস বলে জানিয়েছেন দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে প্রায় ১১ হাজার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

এই প্রদেশের জেরেমি শহরের মানুষেরা খোলা আকাশের নিচে দিনযাপন করছে। কারণ শহরের অধিকাংশ বাড়ি ধসে পড়েছে নয়তো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির দক্ষিণ উপকূলের অধিকাংশ শহরে একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে বিভিন্ন খবরে জানানো হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও