Mountain View

কথা রাখলেন ডিএমপি কমিশনার মনিরুল ইসলাম

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৮, ২০১৬ at ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

untitled-110
বর্তমান সময়ে দেশের সবচাইতে আলোচিত বিষয় জঙ্গি সমস্যা। জেএমবি, নব্য জেএমবি, আইএস, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নানা নামে দেশিয় জঙ্গিরা সরব রয়েছে। গত ১লা জুলাই গুলশানের হলি হার্টিজেন বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পরে আরো নড়েচড়ে বসে আইনশৃংখলা বাহিনী। একের পর এক অভিযানে ভেঙ্গে দিচ্ছে জঙ্গিদের কালো হাত। আর এইসব বিশেষ অভিযানের দেয়া হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন ইংরেজী নাম। গুলশানের হলি আর্টিজেনে আইনশৃংখলা বাহিনীর অভিযানের নাম দেয়া হয়েছিল ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ড’, নারায়নগঞ্জের পাইকপাড়ায় গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড আস্তানায় পরিচালিত অভিযানের নাম দেয়া হয়েছিলো ‘অপারেশন হিট স্ট্রং-২৭’। এসব অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসলেও সামাজিক মাধ্যমে অভিযানের ইংরেজী নাম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। অনেকের মতই অভিযানের নাম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ফেসবুক ব্যবহারকারী বিশিষ্ট কথাশিল্পী মইনুল আহসান সাবের। এর উত্তরও দিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি সাবেরের প্রশ্নের উত্তরে পরবর্তী অভিযানের নাম বাংলায় দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছিলেন।

সেই সময়ে দেয়া কথা রেখেছেন তিনি। শনিবার গাজীপুরে দুটি পৃথক জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় আইনশৃংখলা বাহিনী। এতে ৯ জঙ্গি নিহত হয়। উদ্ধার হয় বেশকিছু অস্ত্র, চাপাতি ও গ্যাস সিলিন্ডার। এবার ইংরেজীতে নয়, এই বিশেষ এই অভিযানের নাম দেয়া হয়েছে বাংলায়। ‘অপারেশন শরতের তুফানে’ নাম দেয়া হয়েছে এর। আর এরই মাধ্যমে ফেসবুকে দেয়া কথা রাখলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুরের নোয়াগাও পাতারটেক এলাকায় অভিযান চালায় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। অভিযান চলে বিকাল পৌনে চারটা পর্যন্ত। অভিযানের পর দোতলা ভবনের ওপরের তলায় সন্দেহভাজন সাত জঙ্গির মরদেহ পাওয়া যায়। অভিযানের প্রায় শেষপর্যায়ে ঘটনাস্থলে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তামিম চৌধুরী নিহত হওয়ার পর আকাশের নেতৃত্বেই নব্য জেএমবি সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করেছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের শুরুতে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। কিন্ত তা না করে তারা উল্টো পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশও আত্মরক্ষায় গুলি চালায়। পরে ভবনের দ্বিতীয় তলায় সাত জঙ্গির মরদেহ পাওয়া যায়।’

মন্ত্রী জানান, অভিযান শেষে তিনটি অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। পাওয়া গেছে কয়েকটি চাপাতি ও একটি গ্যাস সিলিন্ডার। গোলাগুলির সময় ১৪টি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়েছে। এডিসি ছানোয়ার হোসেন বলেন, আকাশ শোলাকিয়া হামলার মুল পরিকল্পনাকারী। ঢাকা বিভাগের নিও জেএমবির কমান্ডার

প্রসঙ্গত, একই দিন ভোরে গাজীপুরের পশ্চিম হাড়িনালের একটি বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাব। অভিযানে দুই জঙ্গি নিহত হয়। সেখান থেকেও অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View