ঢাকা : ২৪ জুলাই, ২০১৭, সোমবার, ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

পরীক্ষায় ভালো করার জাদুকরি কিছু কৌশল

exam tips

লেখা-পড়া ডেস্ক, বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস :  শিক্ষা জীবনের সাফল্য-ব্যর্থতা নির্ণয় করা হয় পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে। যার মুখোমুখি প্রত্যেক শিক্ষার্থীকেই হতে হয়।

প্রত্যেক শিক্ষার্থীই চায় ভালো ফলাফল করতে। কিন্তু সবার মেধা সমান নয়। অনেকেই মেধার দোহাই দিয়ে নিজেকে প্রবোধ দেয়।

মেধার বিষয়টি ঠিক। তবে শুধু মেধা থাকলেই যে ভালো ফলাফল করা যাবে তাও ঠিক নয়। কিন্তু কিছু কৌশল রপ্ত করতে পারলে মেধার ঘাটতি অনেকখানি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব।

একটা বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে ভালো ফলাফলের উপর নির্ভর করে আপনার কর্ম জীবনের ভবিষ্যৎ।

আসুন জানা যাক পরীক্ষায় ভালো ফল করতে ১০টি পরিক্ষীত কৌশল সম্পর্কে-

১. আগ্রহ গড়ে তুলতে হবে: পরীক্ষায় উত্তীর্ণের কৌশল কোনো ব্যাপক বিষয় নয়; বরং যে বিষয়টি বা বিষয়গুলো আপনাকে পড়তে হচ্ছে প্রথমেই সে বিষয়টি বা বিষয়গুলোর প্রতি আপনার আগ্রহ গড়ে তুলুন।

২. নোট করার প্রয়োজনীয়তা: নোট তৈরি করা খুব ভালো অভ্যাস এবং এটি একাধারে আপনার পাঠে মনোযোগ বাড়াবে। নোট পড়ে একটি বা একাধিক বিষয়ে একবারে জানা যায় এবং মনে রাখা যায়।

এগুলো মনে রাখার ক্ষেত্রে খুব ভালো ভূমিকা রাখে। এটি প্রধান চিন্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝতে সাহায্য করে। বিষয়টিকে সহজ এবং আকর্ষণীয় করে তুলতে নোটের খুব ভালো ভূমিকা থাকে।

৩. কিভাবে নোট তৈরি করবেন: নোট তৈরির ব্যাপারে কয়েকটি পরামর্শ…সহজবোধ্য এবং আপনার মনোযোগ আকর্ষণকারী শব্দ দ্বারা নোট তৈরি করুন।…নোট যেন সহজ ও সুপাঠ্য হয়।…অত্যন্ত জটিল শব্দ নোট তৈরি করতে ব্যবহার না করাই ভালো।…কয়েকটি সহজবোধ্য পয়েন্টস দিয়ে নোট তৈরি করুন।

৪. আয়ত্ব করতে পুনর্বার পড়া: পরীক্ষার আগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্বন্ধে ভালোভাবে জানা এবং স্মরণ রাখা উচিত, সেই বিষয়ে পুনর্বার পড়া উচিত।

মনোবিজ্ঞানী ডেভিস এবং মুরের মতে, প্রত্যেক বিষয়কে ধীরস্থিরভাবে দুই থেকে চার বার পড়া উচিত এবং পুনর্বার পড়া উচিত। এতে বিষয়টি সহজে আয়ত্ব হবে এবং ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা দূর হবে।

৫. পরীক্ষাকেন্দ্রে আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা: মানসিক দৃঢ়তা: অনেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ফলে অনেক জানা প্রশ্নের উত্তর দিতেও তারা ব্যর্থ হয়। অথচ পরীক্ষাকেন্দ্রে মানসিক একাগ্রতা তীব্রভাবে ধরে রাখা উচিত।

মনে রাখা উচিত আমার প্রস্তুতি সফল এবং আমার পরীক্ষাও সফল হবে।

৬. প্রশ্নপত্র পড়া: পুরো প্রশ্নপত্রটি একবার ভালো করে পড়ে নিতে হবে। কেবল চোখ না বুলিয়ে বরং ভালো করে প্রশ্ন পড়ার মাঝে পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়ার একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকে। যে প্রশ্নকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে তাকে কখনোই বর্ণনা দেয়া উচিত হবে না। এতে করে উত্তরের মান কমে যায় এবং পরীক্ষায় নম্বর কমে আসে।

৭. সঠিক ভাবে উত্তর করা: সহজ-সরল এবং সাবলীলভাবে প্রশ্নের উত্তর দেয়া উচিত। যে প্রশ্নকে অপেক্ষাকৃত কঠিন মনে হয় সেগুলোকে পরে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করুন। প্রশ্নে ঠিক যেমনভাবে উত্তর চাওয়া হয়েছে ঠিক সেভাবে উত্তর দিন। ধারাবাহিকতা রক্ষা না হলে উত্তরের মান ভালো হলো না এটি ভুল ধারণা।

৮. সময়ের সঠিক ব্যবহার: পরীক্ষায় সময়ের শেষের দিকে তড়িঘড়ি করে প্রশ্ন শেষ করার জন্য মানসিক চাপ বাড়তে থাকে, ফলে উত্তর ভালোভাবে দেওয়া হয় না বরং সময়কে নির্দিষ্টভাবে ভাগ করে আগাগোড়া সময়ের ব্যবহার করে পরীক্ষা দিন। একটি প্রশ্নের উত্তরের জন্য কখনোই বেশি সময় ব্যয় করা উচিত নয়।

৯. ব্যায়াম: শরীরচর্চার সঙ্গে শিশুদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধির দারুণ সম্পর্ক রয়েছে। পরীক্ষায় ভালো ফল এনে দিতে পারে শরীরচর্চা। ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানে ভালো ফল করে থাকে ব্যায়ামে অভ্যস্ত কিশোর-কিশোরীরা। বিশেষ করে মেয়েদের বিজ্ঞানভীতি দূর করার শক্ত হাতিয়ারও হতে পারে এটা। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে পরিচালিত একটি গবেষণায় এর সত্যতা পাওয়া গেছে। গবেষণায় ছেলেদের দিনে কমপক্ষে ১৭ মিনিট এবং মেয়েদের ১২ মিনিটের ব্যায়াম করা মঙ্গল বলে জানানো হয়েছে। শরীরচর্চা কেবল ১১ বছর বয়সী শিশুদেরই লেখাপড়ায় উন্নতি করে না, ১৩ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের লেখাপড়ায়ও এর সুফল এনে দেয়। লেখাপড়ায় ভালো করার জন্য দিনে ৬০ মিনিট করে ব্যায়াম করা উচিত।

১০. খাবার: পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে নিজেকে মানসিক ভাবে প্রস্তুতের সাথে সাথে খাবারের প্রতি যত্নবান হওয়া উচিৎ কারণ খাবার খুব বেশি পরিমাণ গ্রহণের ফলে সমস্যা দেখা দিতে পারে আবার কম খেলেও শরীরের দুর্বলতার কারণে লিখতে সমস্যা হতে পারে। তাই নিজের স্বাস্থ্যের প্রতিও যত্নবান হতে হবে।

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না বরং স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা এবং পরীক্ষার যথাযথ মোকাবিলা করলে আর মনোবল ধরে রাখলে সাফল্যের দুয়ারে পৌছানো যায় নিশ্চিত ভাবে।

 

এ সম্পর্কিত আরও

আপনার-মন্তব্য