Mountain View

সতীর্থরাই ইমরুলকে নায়ক হতে দিলেন না

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৮, ২০১৬ at ৯:০৫ অপরাহ্ণ

565ef3c38f278d043eb76dce1bd63bf6-match-reportফতুল্লা আর মিরপুরের দূরত্ব নাকি ৩০ কিলোমিটারের একটু বেশি। কিন্তু ইমরুলের ব্যাটিং দেখে তো মনে হচ্ছে একই মাঠ! গত মঙ্গলবারই ইংল্যান্ডের বোলারদের পাড়ার মানে নামিয়ে এনেছিলেন ফতুল্লায়। দুদিন পরও দেখা দিলেন সেই ইমরুল, আবারও সেঞ্চুরি। ১১৯ বলে ১১২ রানের যে সেঞ্চুরিতে আশা ফিরে পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সতীর্থদের ব্যর্থতা ট্র্যাজেডির নায়কই বানিয়ে দিল তাঁকে

সেঞ্চুরিটা বেশ অদ্ভুতভাবেই এসেছে ইমরুলের। ডেভিড উইলির বলটি সোজা তাঁর দিকেই খেলেছেন ইমরুল। কী বুঝে যে বলটি ইমরুলের দিকে ছুড়লেন উইলি, বোঝা গেল না। বলটি স্টাম্পে লেগে পেরিয়ে গেল বাউন্ডারি, চার! ব্যস, সেঞ্চুরি হয়ে গেল ইমরুলের। ১০৫ বলে ১০২ রান, ১১টি চার ও ২টি ছক্কা। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি ইমরুলের। ৪৯ ইনিংস ও সাড়ে ছয় বছর পর ওয়ানডে সেঞ্চুরি পেলেন তিনি।
তা–ও সেটা কোন ম্যাচে? সৌম্য সরকারের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন আজ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচ খেলেই আর একাদশে সুযোগ পাননি। সেই দুঃখের কথা প্রস্তুতি ম্যাচের সেঞ্চুরির পরই জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, অসাধারণ কিছু করেই দলে থাকতে চান। এ ধরনের অনেক কথাই শোনা যায়। অনেকেই এ রকম আশা দেখান। সেটা কাগজে কলমে দেখাতে পারেন কজন? ইমরুল কথা রাখলেন, করে দেখালেন।

ক্রিস ওকসের প্রথম বলটি ভালো ছিল। সে বলটি বেশ শ্রদ্ধা নিয়ে খেললেন ইমরুল। পরের বলেই স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কা। বুঝিয়ে দিলেন, মাঠ বদলাতে পারে কিন্তু ফতুল্লায় যে ফর্মটা দেখিয়েছিলেন, সেটা বদলায়নি। পঞ্চম বলেই আবারও বাউন্ডারি, এবার চার। দারুণ শুরু ইমরুলের। কিন্তু সঙ্গী হিসেবে যে আর কাউকে পাচ্ছিলেন না!
এক প্রান্তে সতীর্থরা আসছেন আর যাচ্ছেন। সাকিব আল হাসান (৫৫ বলে ৭৯ রান) উইকেটে আসার আগে কোনো বড় জুটিই গড়তে পাচ্ছিলেন না ইমরুল। কিন্তু সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিল না তাঁর। নিজের কাজটি নিজেই করে যাচ্ছিলেন। ১৮তম ওভারেই পেয়ে গেলেন ফিফটি, ৫৫ বলে। তাতে ৭টি চার ও ২টি ছক্কা। সেই ফিফটি সেঞ্চুরি ছুঁল ৩৭তম ওভারে। এর মধ্যে অবশ্য আর কোনো ছক্কা মারেননি, চার মেরেছেন ৪টি। কিন্তু বল নষ্ট করেননি একটিও। ঠিক ৫০ বলেই ৫০ রান এই সময়ে।

অথচ ৮১ রানের সময়ই মাঠ থেকে উঠে আসতে পারতেন ইমরুল। কভারে বল ঠেলেই দৌড় দিয়েছিলেন, বেন স্টোকসের মিস ফিল্ডিংয়ের সুযোগে দুই রান নিতে গিয়েই ঝামেলা করলেন, পায়ের পেশিতে টান পড়ল। কিন্তু হাল ছাড়েননি, পরের ৩৪ বলে করলেন ৩১ রান। সাকিবের পরে অন্যরা যখন আবারও আসা যাওয়ার দৌড়ে নামলেন, তখনো আশার আলো হয়ে ছিলেন তিনি। কিন্তু আদিল রশিদের বলে এগিয়ে এসে আর ফিরতে পারলেন না, পায়ের পেশি ফিরতে দিল না তাঁকে। জয় থেকে বাংলাদেশ তখনো ৩০ রান দূরে।
জয়টা অধরাই রইল বাংলাদেশের। পায়ের চোট নিয়েও যে দৃঢ়তা, চরিত্র দেখালেন ইমরুল সেটা যে সাকিব ছাড়া আর কেউই দেখাতে পারলেন না!

সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড : ৫০ ওভারে ৩০৯/৮ (স্টোকস ১০১, বাটলার ৬৩, ডাকেট ৬০, রয় ৪১; মাশরাফি ২/৫২, শফিউল ২/৫৯, সাকিব ২/৫৯)
বাংলাদেশ : ৪৭.৫ ওভারে ২৮৮ (ইমরুল ১১২, সাকিব ৭৯, মাহমুদউল্লাহ ২৫, সাব্বির ১৮; বল ৫/৫১, রশিদ ৪/৪৯)
ফল : ইংল্যান্ড ২১ রানে জয়ী।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View