ঢাকা : ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, সোমবার, ২:২৬ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

ক্রমাগত ফিনিশিং ব্যর্থতায় নাসিরের অভাব টের পাচ্ছে টাইগাররা

nasir hossain

zahidজাহিদুল ইসলাম, বিডি টয়েন্টিফোর টাইমস : সাকিব আউট হওয়ার পর মাত্র ১৭ রানের মধ্যে ছয় উইকেট হারিয়ে ইংলিশদের জয় উপহার দিল বাংলাদেশ। ম্যাচটা যখন হেসে খেলে জিতার কথা সে ম্যাচেই কিনা সাকিব আল হাসানের বিদায়ের পর অবিশ্বাস্যভাবে হেরে গেল বাংলাদেশ। হারের ময়না তদন্তে বের হয়ে এসেছে আসল কারণ। দলে নেই কোন ফিনিশার। ২০১২ সালের এশিয়া কাপের আগেও কিন্তু টাইগাররা খুবই সাধারণ একটি দল ছিলো। সেখানে ফিনিশার হিসেবে নাসির হোসেন যোগ হওয়াতেই বদলে যায় টাইগাররা। প্রতিটা ম্যাচে সাকিব-তামিম মুশফিকদের গড়ে দেয়া ভীতটাকে কাজে লাগিয়ে টাইগারদেরকে ফিনিশিং টাচে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছেন নাসির হোসনে। এর পর  কিছুটা বাজে ফর্মে থাকলেও কোচ-অধিনায়ক বদলে বদলে গেল তার একাদশে সুযোগ পাওয়াটাও।

এই তো গেল প্রিমিয়ার লিগে বেশ ভালো ফর্মে থেকে অনেক রান করেছেন, আফগান সিরিজের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ গুলোতেও রান করেছেন নাসির। সবশেষ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচেও হেসেছিলো নাসিরের ব্যাট। কিন্তু তাতেও লাভ হয় নি। বুড়ো মশাররফ রুবেলকে খেলালেন তবু নাসিরকে সুযোগ দিলেন না। অথচ এই ম্যাচটিতেই হারের পর একজন নাসিরকে সবচেয়ে বেশি মিস করল বাংলাদেশ।

ফিনিশিংয়ে কবে বাংলাদেশ দলে নাসিরের চেয়ে ভালো কোন ক্রিকেটার পেয়েছেন। কোচের গোড়ামিতে সেই নাসিরকে দিন-দিন বেঞ্চ লিজেন্ড বানানো হচ্ছে। বাংলাদেশ দলের অন্যতম সেরা এই ফিল্ডার দলে থাকলে নিশ্চিত ভাবেই টাইগারদের ফিল্ডিংটা আরো শক্তিশালী হয়ে যায়। সেখানে তাকে অক্রিকেটিয় কারণে বসিয়ে রাখা কেবল প্রতিভার অপচয়ই নয় বরং অন্যায়। সেটা যতটা নাসিরের সাথে তার চেয়ে অনেক বেশি বাংলাদেশের সাথে। তাই যারা দল নির্বাচনে থাকেন তাদেরে প্রতি অনুরোধ দয়াকরে বাংলাদেশের সংবিধানের ১৯ নং অনুচ্ছেদটি পড়বেন। সেখানে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে। কারও প্রতি ব্যাক্তিগত সম্পর্কের জের ধরে জাতীয় স্বার্থের জন্য বঞ্চিত করা সম্পূর্ন অন্যায় এবং সংবিধান পরিপন্থী। কারও যদি সুযোগটা প্রাপ্য হয় সেটা আপনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাকে বঞ্চিত করতে পারেন না। এখানে কোনভাবেই ব্যক্তিগত ভালো-লাগা খারাপ লাগা কারণ হিসেবে কাজ করাটাও দু:খজনক। সুযোগরে অসমতা দেখা গিয়েছে এনামুল হক বিজয়ের বেলাতেও।

প্রথম ওয়ানডেতে জয়ের জন্য বাংলাদেশকে ৩১০ রানের লক্ষ্য দেয় ইংল্যান্ড। এক সময় জয় থেকে মাত্র ৩৯ রান দূরে ছিল লাল-সবুজের দল। সাকিবের পর মোসাদ্দেক, মাশরাফি ও ইমরুলের বিদায়ে প্রথম ম্যাচে ২১ রানে হেরে গেল বাংলাদেশ।

সাকিব আল হাসান বিদায়ের সময় টাইগারদের স্কোর ছিল ২৭১ রান। আর তাসকিন আউটের সময় স্কোরকোর্ডে রান ২৮৮!

এর আগে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩০৯ রান করে সফরকারীরা। বেন স্টোকস ১০১, অধিনায়ক জস বাটলার ৬৩ ও বেন ডাকেট ৬০ রান করেন।

বাংলাদেশের হয়ে ব্যাটিংয়ের উদ্বোধন করেন ইমরুল কায়েস ও তামিম ইকবাল। শুরুটা দারুণ করেছে বাংলাদেশ। ক্রিস ওকসের প্রথম ওভারেই বিশাল এক ছয় মেরে শুরু করেন ইমরুল কায়েস। ৫ ওভার শেষে টাইগারদের সংগ্রহ দাঁঁড়ায় ১৯ রান।

দলীয় ৪৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। জ্যাক বলের শর্ট বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে উইকেট দিয়ে আসেন তামিম ইকবাল। ওয়ানডে ক্রিকেটে বলের এটিই প্রথম উইকেট। আউট হবার আগে ৩১ বলে ১৭ রান করেন তামিম।

এরপর মাত্র ২৫ বলে ৩৬ রানের জুটি গড়েন ইমরুল কায়েস ও সাব্বির রহমান। তবে ঝড়ের আভাস দিয়ে মাত্র ১১ বলে ১৮ রান করে ডেভিড উইলির দুর্দান্ত ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন সাব্বির।

তবে ইমরুল ছিলেন দুর্দান্ত। প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন এই ব্যাটসম্যান। আজও দারুণ আত্মবিশ্বাসের সাথে ব্যাটিং করেছেন তিনি। ৫৫ বলে সাতটি চার ও দুটি ছয়ে অর্ধশতক পূর্ণ করেন এই ব্যাটসম্যান।

সাব্বিরের বিদায়ের পর ব্যাটিংয়ে আসেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। চতুর্থ উইকেট জুটিতে রিয়াদ-ইমরুল যোগ করেন ৫০ রান। তবে এরপরই ধৈর্য্যহীন হয়ে পড়েন মাহমুদউল্লাহ। আদিল রশীদকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে আসেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। রিয়াদের বিদায়ের পরপরই বিদায় নেন মুশফিকুর রহিম। হন্তারক এবারো সেই আদিল রশীদ। মাহমুদউল্লাহ ২৫ ও মুশফিক ১২ রান করেন।

অন্যপ্রান্তে অবিচল ছিলেন ইমরুল কায়েস। ১০৫ বলে ১১ চার ও দুটি ছয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে ক্যারিয়ারের প্রথম শতক তুলে নেন ইমরুল।

ইমরুলের শতকের পর অর্ধশতক তুলে নেন সাকিব আল হাসান। ৩৯ বলে ওয়ানডের ৩১তম অর্ধশতকে পৌছান বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। একপ্রান্তে ইমরুলকে একা রেখে দলীয় ২৭১ রানে আউট হন সাকিব। আউট হবার আগে অবশ্য জয়ের সকল রসদ তৈরি করে দিয়ে যান তিনি।

৫৫ বলে ৭৯ রান করেন সাকিব। সাকিবের বিদায়ের পরের বলেই বড় আর একটি ধাক্কা খায় টাইগাররা। জ্যাক বলের বলে বোল্ড হয়ে সমর্থকদের মনে হারের শংকা জাগিয়ে তোলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। আরো খারাপ কিছু অপেক্ষা করছিল পরের ওভারে, আদিল রশীদের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে তীরে এসে তরী ডোবানোর শঙ্কাটা আরো জোরদার করেন অধিনায়ক মাশরাফি।

টাইগার সমর্থকদের আরো হতাশ করেন ইমরুল কায়েস। দলীয় ২৮০ রানে লেগ স্পিনার রশীদের বলে এগিয়ে এসে বল মিস করেন এই সেঞ্চুরিয়ান। অধিনায়ক বাটলার স্টাম্প ভাঙতে বিন্দুমাত্র সময় নেননি। ইমরুলের আউটের পরই টাইগারদের হার মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে যায়।

স্কোরবোর্ডে আর এক রানও যোগ হয়নি এর মধ্যে রান আউট হয়ে ফিরে যান ২০১১ সালে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড বধের আরেক নায়ক শফিউল হক।

তাসকিন আর মোশাররফ হোসেন রুবেল কিছুক্ষণ ক্রিজে থাকলেও তা বেশি অবদান রাখতে পারেনি। ১৩ বল বাকি থাকতেই অল আউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

1480848390

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার আগেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে আনন্দের খবর

আসন্ন      নিউজিল্যান্ড     সফরের     আগেই বাংলাদেশ ক্রিকেট  দলে জানা গেল আনন্দের খবর।   …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *