ঢাকা : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, শনিবার, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

৩ রেটিং পয়েন্টও মুঠো গলে বেরিয়ে গেল বাংলাদেশের

1a0d78e6baa2840c61bd216704c6c56e-rangkingপ্রতিটা ম্যাচ শেষ হয়। বাংলাদেশের পাঁড় ক্রিকেট ভক্তরা ক্যালকুলেটর নিয়ে বসে যান। কত রেটিং পয়েন্ট মিলল, কতটা হারাল। কী সমীকরণ দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের। সব ২০১৯ বিশ্বকাপটা সরাসরি খেলার তীব্র চাওয়া থেকেই।

কাল প্রায় নিশ্চিত জয়টাই শুধু হারায়নি বাংলাদেশ, জিতলে নামের পাশে যে দুটি রেটিং পয়েন্ট যোগ হতো, হারিয়েছে সেই সম্ভাবনাও। শুধু তা-ই নয়, এই ম্যাচ হেরে যাওয়ায় নিজেদের আগের রেটিং থেকে কমে গেছে এক পয়েন্ট। জিতলে বাংলাদেশের পয়েন্ট হতো ৯৭, এখন সেটি হয়ে গেছে ৯৪। শুধু পরাজয়ের কারণে বাংলাদেশ ১ পয়েন্ট হারিয়েছে বটে; কিন্তু কালকের ম্যাচের প্রত্যেক দর্শক সাক্ষী, বাংলাদেশ সব মিলিয়ে আসলে হারাল তিন পয়েন্টই!
বিসিবির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা অবশ্য এই সিরিজ শুরুর আগেই একটা সুখবর দিয়ে জানিয়েছিলেন, ইংল্যান্ড সিরিজ তো বটেই, বর্তমান এফটিপি অনুযায়ী ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাকি সব সিরিজে হারলেও নাকি বাংলাদেশ দলের সরাসরি ২০১৯ বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত। আইসিসিই বিসিবিকে এমন আভাস দিয়েছে বলে দাবি করেছিলেন সেই কর্মকর্তা।
কিন্তু তাঁর এই কথায় পুরো আস্থা রাখাও যাচ্ছে না। অনেকেরই মনে থাকার কথা, গত বছর এপ্রিলে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের একটি কথায় র‍্যাঙ্কিংয়ে নিয়ে বিভ্রান্ত দেখা দিয়েছিল। তখন বাংলাদেশের বেশির ভাগ সংবাদমাধ্যম নাজমুলকে উদ্ধৃত করে সংবাদ দিয়েছিল, বাংলাদেশ র‍্যাঙ্কিংয়ের পাঁচে উঠে এসেছে। এই খবর দিয়েছিল প্রথম আলোও। কিন্তু পরের দিনই প্রথম আলো আরও অনুসন্ধান করে জানতে পারে, নাজমুল পুরো ব্যাপারটি পরিষ্কার করতে পারেননি বলে এক ধরনের বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
প্রতি বছর একটা নির্দিষ্ট সময়ে আইসিসি র‍্যাঙ্কিং সংশোধন/হালনাগাদ করে। এ সময় পুরোনো ম্যাচগুলো বাদ দিয়ে শুধু মাত্র আগের তিন মৌসুমের ম্যাচের হিসাব ধরা হয়। এ কারণে দেখা যায়, কখনো কখনো অপ্রত্যাশিতভাবে কোনো দলের রেটিং পয়েন্ট হুট করে বেড়ে গেছে। কোনো দলের রেটিং পয়েন্ট কমে গেছে। গত বছরও যেমন র‍্যাঙ্কিং সংশোধন করায় নতুন কোনো ম্যাচ না খেলেও বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট বেড়ে গিয়েছিল।
আইসিসির বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিতব্য র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দল ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে। সে সময় র‍্যাঙ্কিং সংশোধন/হালনাগাদ করতে আইসিসি বিবেচনায় নেবে ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬, ও ২০১৬-১৭ মৌসুমের ফলাফলগুলো। আশার কথা হলো, ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকেই বাংলাদেশ ওয়ানডেতে দুর্দান্ত খেলছে। এখন পর্যন্ত একটিও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হারেনি। এর মধ্যে ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠেছিল। র‍্যাঙ্কিংয়ের সংশোধনের সময় এই ম্যাচগুলোই বেশি গুরুত্ব পাবে।
এ কারণে পরের সবগুলো সিরিজ হারলে হয়তো বাংলাদেশের ক্ষতি হবে না। হিসাবও তা-ই বলছে। কিন্তু আসল চিত্রটা তো এখনো পরিষ্কার করেনি আইসিসি: কোন তারিখ থেকে কত তারিখের ম্যাচ ধরা হবে; কোন মৌসুমের কত শতাংশ রেটিং পয়েন্ট যোগ হবে; আর সেটি হলে পুরো চিত্রটা কী দাঁড়ায়। এ ধারণা বাংলাদেশের কাছে এখনো অস্বচ্ছ। তাই ‘সিরিজ হারলেও ক্ষতি নেই’ এই বার্তায় নির্ভার না থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
তা ছাড়া ওই দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সিরিজ হারার কথা বলেছেন, সবগুলো ম্যাচ হারার কথা বলেনি। এই দুই কথার মধ্যে পার্থক্য আছে। যেমন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১-এ সিরিজ হারলে সিরিজের আগে ও পরের রেটিং সমানই (৯৫) থাকবে। অর্থাৎ সিরিজ হার আসলে রেটিং পয়েন্ট কমাবে না। কিন্তু যদি বাংলাদেশ ৩-০তে হারে? রেটিং পয়েন্ট হয়ে যাবে ৯১। তাই বিসিবির ওই দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কথায় পুরোপুরি আস্থা না রাখাই ভালো।
এ কারণে রেটিং পয়েন্ট ধরে রাখার ব্যাপারে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের সতর্ক থাকাই উচিত। সবচেয়ে বড় কথা, রেটিং-র‍্যাঙ্কিংয়ের জটিল গাণিতিক হিসাব একপাশে সরিয়ে রাখলেও তো বাংলাদেশের উচিত, সবগুলো ম্যাচই জেতার চেষ্টা করা। র‍্যাঙ্কিং তার কাজ নিজের মতো করেই করে নেবে।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বিশাল ১০ টি ছক্কা (ভিডিও)

জাহিদুল ইসলাম, বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমস : ক্রিকেটকে বলা হয় রানের খেলা। আর সেই রানের সবচেয়ে …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *