Mountain View

অবশেষে চোখ মেলে তাকালো খাদিজা,শারীরিক অবস্থার উন্নতি

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৯, ২০১৬ at ১:১০ অপরাহ্ণ

 14643030_1780463925555262_1503052120_nমো.শরিফুল ইসলাম বাপ্পিঃ সিলেটে স্কুল শিক্ষক বদরুল আলমের বর্বরতার শিকার কলেজ ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে ।

তিনি চোখ মেলে তাকানোর পাশাপাশি ডান হাত, ডান পা নড়াচড়া করেছেন বলে নিশ্চিত করে তার সুস্থতা নিয়ে আশা ব্যক্ত করে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে সুস্থ করে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। আগামী আরও ৯৬ ঘণ্টা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। গতকাল শনিবার দুপুরে স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছে।

স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খাদিজার শারীরিক অবস্থার সবশেষ খবর জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের উপ-পরিচালক এবং ইন্টারনাল মেডিসিন ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের পরামর্শক মির্জা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘খাদিজা যখন স্কয়ার হাসপাতালে আসেন, তখন তিনি অচেতন ছিলেন। তাকে বাঁচিয়ে রাখাটা ছিল আমাদের প্রধান লক্ষ্য। গতকাল ৯৬ ঘণ্টা পর এসে আমরা বলছি, খাদিজার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেড়েছে। আপনারা তার জন্য দোয়া করুন।’ তিনি আরও বলেন, তবে খাদিজার জ্ঞান পুরোপুরি ফিরে আসতে কয়েক সপ্তাহ বা মাসও লেগে যেতে পারে। বেঁচে থাকলেও তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন কি না, তা শিগগিরই জানা যাবে না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্কয়ার হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের পরামর্শক রেজাউস সাত্তার। তিনি বলেন, ‘গত শুক্রবার আমরা ঘুমের ওষুধের মাত্রা কমিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তাকে ডান হাত ও ডান পা কিছুটা নাড়তে দেখেছি। তিনি ব্যথা পেলে সাড়া দিচ্ছেন। তিনি এখনো ভেন্টিলেশনে আছেন। মস্তিষ্কে চাপ কমানোর জন্য তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে।’

চিকিৎসকেরা বলেন, মস্তিষ্ক কতটুকু কাজ করছে, সেটি বোঝার জন্য গ্লাসগো কোমা স্কেল ব্যবহার করা হয়। আগে খাদিজার স্কোর ছিল ১৫তে ৬। অবস্থার উন্নতি হয়ে সেটি এখন ১০এ ৬ হয়েছে। চোখ মেলা, ডাকে সাড়া দেয়া ও স্পর্শ করলে বা ব্যথা পেলে সাড়া দেয়া এই তিন নির্ণায়কের ভিত্তিতে স্কোর নির্ধারণ করা হয়। খাদিজা এখনো চোখ মেলে তাকাননি, ডাকে সাড়া দেননি। তবে ব্যথায় সাড়া দিচ্ছেন। চিকিৎসকেরা এই লক্ষণকে অগ্রগতি বলে দেখছেন। রেজাউস সাত্তার বলেন, এমন আঘাতের পর রোগী খুব দ্রুত উঠে বসবেন বা কথা বলবেন এমনটা আশা করা যায় না। তবে খাদিজার বয়স ১৯ বছর। ফলে তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ সময় স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের প্রশংসা করেন। রেজাউস সাত্তার বলেন, ‘এ ধরনের আঘাতের চার ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজন। এ সময়টিকে বলা হয় গোল্ডেন ফোর আওয়ারস। আরও আগে খাদিজার চিকিৎসা শুরু হলে হয়তো আরও ভালো হতো।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা হয়েছিল। ফলে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর সিলেট থেকে খাদিজা স্কয়ার হাসপাতালে এসে পৌঁছালেও আমরা অস্ত্রোপচারের ৯৬ ঘণ্টা পর বলতে পারছি খাদিজা বেঁচে আছেন।’ উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকালে সিলেটের এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিসের ওপর হামলা চালায় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শেষবর্ষের ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম। এ সময় সে চাপাতি দিয়ে খাদিজার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপাতে থাকে। এতে খাদিজা মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাত পান। : পরে খাদিজার সহপাঠী ও স্থানীয়রা ধাওয়া করে বদরুলকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।

একই সঙ্গে স্থানীয়রা খাদিজাকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে গত মঙ্গলবার ভোরে খাদিজাকে রাজধানী ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে আনা হয়। বর্তমানে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। খাদিজার ওপর হামলার ঘটনায় বদরুলকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া খাদিজাকে কোপানোর কথা স্বীকার করে গত বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বদরুল।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View