Mountain View

বিট মালিকদের হাতে জিম্মি রাজশাহীর গরু ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৯, ২০১৬ at ১১:৩৯ অপরাহ্ণ

full_693477750_1476022723-1

রাজশাহীর সীমান্তে বিট খাটাল মালিকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন গরু ব্যবসায়ীরা। সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে গরু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকে বিট মালিকরা। গরু প্রতি ৫০ টাকা করে নেয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন থাকলে বাধ্যতামূলক আদায় করা হচ্ছে ৯০০ টাকা থেকে সাড়ে ১১০০ টাকা পর্যন্ত। এ নিয়ে গরু ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ থাকলেও ভয়ে কিছু বলতে পারেন না তারা।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ৫০ টাকার বেশী আদায় করা হয় না বলে দাবি করেছেন চর মাজারদিয়াড় বিট খাটাল মালিক আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিট খাটালে গরু ঢুকলে ৫০ টাকা নেয়ার নিয়ম রয়েছে। এছাড়াও ওই দিন গরু চলে না গেলে নিয়ম অনুযায়ী পরের প্রতিদিনের জন্য গরু প্রতি ৩০ টাকা করে নিতে পারবো। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী গরু প্রতি অর্থ আদায় করা হয় বলে দাবি করেন বিট মালিক আনোয়ার হোসেন।

জানা গেছে, রাজশাহী সীমান্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ছয়টি বিট খাটাল রয়েছে। এগুলো হলো- মাজারদিয়াড়, খানপুর, শ্যামপুর, সোনাইকান্দি, খরচাকা ও সুলতানগঞ্জ। ভারত থেকে গরু আমদানির পর প্রথমে এসব বিট খাটালে রাখা হয়। করিডোরে শুল্ক পরিষদ করে ছাড়পত্র নেয়ার পর সেখানে বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতিতে গরুর গায়ে দেয়া হয় নম্বর। এরপর সেখান থেকে গরু হাটে নিয়ে যাওয়া হয়।

গরু ব্যবসায়ীরা জানান, ছয়জনের নামে ছয়টি বিট খাটাল থাকলেও সবগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন। তার নিজ নামে রয়েছে রাজশাহীর সবচেয়ে বড় বিট খাটাল চর মাজারদিয়াড়। যেখানে প্রতি সপ্তাহে ৫ থেকে ৭ হাজার গুরু আমদানি হয়ে থাকে। সামসুল, মতি, জিয়া, জোনারুল, কালু নিয়োগ ও আসলাম এই বিট খাটালের নির্ধারিত আদায়কারি ও রাখাল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আদায়কারি রাখাল বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গরু প্রতি ২ হাজার টাকা আদায় করে বিট মালিককে দেয়া হয়। বিট মালিকরা করিডোরের ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করে। এর পর গরু হাটে পৌঁছানোর জন্য তাদেরকে দেয়া হয়। এ জন্য তাদের দেয়া হয় রাখাল খরচ ৩৫০ টাকা, ফেরি ঘাটের টোল ১১০ টাকা ও নৌকা ভাড়া ১০০ টাকা।

গরু ব্যবসায়ী ইয়াদ আলী বলেন, গরু প্রতি ২ হাজার টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা করে বাধ্যতামূলক নেয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে করিডোর শুল্ক ৫০০ টাকা, ফেরি ঘাটের ১১০ টাকা রাখালের ৩৫০ টাকা ও নৌকা ভাড়া ১০০ টাকা। বাকি অর্থ বিট খাটাল মালিকদের পকেটে যায় বলে জানান তিনি।

গরু ব্যবসায়ী মাসুদ রানা বলেন, ছয় মাস আগে গরু প্রতি সাড়ে ৩ হাজার টাকা করে আদায় করতে বিট মালিকরা। অনেক দেন-দরবারের পর গত এক মাস থেকে গরু প্রতি কখনো ২ হাজার আবার কখনো আড়াই হাজার টাকা করে তারা আদায় করছেন। তাদের দাবিকৃত টাকা না দিলে তারা গরু আনতে দেয় না। বিট খাটাল মালিকদের এই অরাজকতা দেখার কেউ নেই বলে অভিযোগ করেন এই গরু ব্যবসায়ী।

বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন-১ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল শাহজাহান সিরাজ বলেন, সীমান্তের জিরোপয়েন্টে ভারতীয় রাখাল গরু ছেড়ে দেবে। ১০০ গজ সীমান্তের ভিতরে থেকে বাংলাদেশী রাখালরা সে গরু ধরে নিয়ে বিট খাটালে যাবে। সেখানে ৫০ টাকা বিট দিয়ে একটি শ্লিপ নিয়ে করিডোরে গিয়ে ৫০০ টাকা শুল্ক পরিষদ করে ছাড়পত্র নেবে। ওই ছাড়পত্র বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে দেখালে তারা বিট খাটালে গিয়ে গরুর গায়ে নাম্বার লিখে দেবে। এর পর গরু হাটে পৌঁছানোর জন্য বিট খাটাল থেকে বের করতে পারবে।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া গরু প্রতি ৫০ টাকা বিট খাটাল মালিক নিতে পারবেন। এর বেশী নিলে সেই বিট খাটাল মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও অনুমোদন বাতিল করা হবে বলে জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View