Mountain View

রাষ্ট্রপতিকে এনজিও বিষয়ক আইনে স্বাক্ষর না করার অনুরোধ ১৭টি সংস্থার

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৯, ২০১৬ at ৮:৩৫ অপরাহ্ণ

cymera_20161009_202956

বিদ্বেষমূলক বা রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব‌্যের জন‌্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার নিবন্ধন বাতিলের বিধান রেখে সংসদে যে আইন পাস হয়েছে, তাতে সই না দিতে রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ১৭টি বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা।

আজ (রোববার) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এনজিও প্রতিনিধিরা বলেন, নতুন ওই আইনের ১৪ অনুচ্ছেদ সংবিধান স্বীকৃত চিন্তা, মত, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা এবং সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার খর্ব করার ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।

‘বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন বিল-২০১৬’ নামের ওই আইনের খসড়া গত বুধবার সংসদে পাস হয়। নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর এ আইনের গেজেট জারি হওয়ার কথা।

নতুন আইনের আলোচিত ওই ধারায় বলা আছে, কোনো এনজিও বা ব্যক্তি এই আইনের কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে এবং সংবিধান ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক বা অশালীন মন্তব্য করলে বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এ আইন কার্যকর হলে একটি এনজিও ১০ বছরের জন্য নিবন্ধন পাবে। তবে আইন অমান্য করলে যে কোনো সময় নিবন্ধন বাতিল বা স্থগিত করা যাবে। এনজিওতে বিদেশি উপদেষ্টা নিয়োগের ক্ষেত্রেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ছাড় নিতে হবে।

এ আইনের বিষয়ে নিজেদের উদ্বোগের কথা তুলে ধরতেই সংবাদ সম্মেলনে আসেন এনজিও প্রতিনিধিরা।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ব্র্যাক, গণসাক্ষরতা অভিযান, নিজেরা করি, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, ব্লাস্ট, বেলা, এফএনবি, এ্যাডাব, এএলআরডি, প্রিপ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, অ‌্যাকশন এইড, কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড, ওয়াটার এইড, অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

টিআইবির বোর্ড অব ট্রাস্ট্রির চেয়ারপার্সন সুলতানা কামাল লিখিত বক্তব্যে বলেন, “আইনের অনুচ্ছেদ-১৪ সংবিধান স্বীকৃত চিন্তা, মত, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা এবং সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার খর্ব করার ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। বিলটিতে সম্মতি না দিতে বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতির কাছে আহ্বান জানাচ্ছে।”

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, বেসরকারি সংস্থাগুলোর বৈদেশিক অনুদান সংগ্রহ ও ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নামে সরকার মূলত স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগকে ‘নিরুৎসাহিত করা এবং এনজিও কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতেই’ বেশি আগ্রহী বলে তাদের ‘মনে হয়েছে’।

তিনি বলেন, “সংবিধান ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ‘বিদ্বেষমূলক ও অশালীন’ কোনো মন্তব্য করলে এনজিওর সনদ বাতিলের যে বিধান রাখা হয়েছে তা কেবল অস্পষ্ট, ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা ও অপব্যাখ্যাযোগ্য এবং স্বেচ্ছাচারমূলক নয়, এটি চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা ও সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি।”

সংসদ কাজে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর সংসদে বিলটি উত্থাপন করলে তা আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল।

এর কয়েকদিন পরে টিআইবির ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে ইফতেখারুজ্জামান বর্তমান সংসদকে ‘পুতুল নাচের নাট্যশালা’ বললে সংসদের অধিবেশনে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এক পর্যায়ে সংসদীয় কমিটি থেকে টিআইবিকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছিল। তারপর সংসদীয় কমিটি বিলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ‘কটাক্ষমূলক মন্তব্য ও অপরাধ’ সম্পর্কিত ওই ধারা যুক্ত করে।

এরপর বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার শীর্ষ ব্যক্তিরা গত মে মাসে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে ওই ধারাটি বাতিলের সুপারিশ করলেও সংসদীয় কমিটি তাদের সুপারিশ আমলে নেয়নি।

সুলতানা কামাল বলেন, এ আইনের ১৪ অনুচ্ছেদে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসমূলক কাজে অর্থায়ন নারী ও শিশুপাচার বা মদক ও অস্ত্র পাচারের মত অপরাধে এনজিও সংশ্লিষ্টদের বিচারের বিষয়ে বলা হয়েছে।

“অথচ এসব অপরাধ দমনে দেশে আগে থেকেই আইন বিদ‌্যমান। তাই এ আইন বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।”

অন‌্যদের মধ‌্যে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সংস্থার (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশি কবির, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও