ঢাকা : ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, শনিবার, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
সর্বশেষ
রামগঞ্জে ১১টাকার জন্য স্কুলছাত্রকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন রোহিঙ্গাদের সহায়তা দেয়ার অনুমতি চাচ্ছে জাতিসঙ্ঘ : সাড়া দিচ্ছে না সরকার এবার রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার হ্যাকড বাচা-মরার লড়াইয়ে টস জিতে ব্যাটিংয়ে রংপুর রাইডার্স শীর্ষস্থান সহ শীর্ষ দশের বাংলাদেশেরই সাত কারখানা প্রতিবন্ধীদের সাথে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের ভেতরে রোহিঙ্গার সমস্যার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দুষলেন সু চি ৫৫০ ছবি নিয়ে আজ থেকে স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসব রোহিঙ্গাবোঝাই চারটি নৌকা ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি মনে হচ্ছিল এটা আইপিএল ম্যাচ: ব্রাভো
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

ইংরেজির জন্যই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ৯২ শতাংশ ফেল!

f516d0c1aace1a026763a5e36b60f63c-57f9e27da5f13মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে উচ্চ শিক্ষা স্তরে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীরা নামেন ভর্তি যুদ্ধে। কিন্তু এই ‘যুদ্ধে’ অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে ৯২ ভাগ শিক্ষার্থীই ফেল করছেন। কেন এই ফল বিপর্যয়, কারণ কী? শিক্ষাবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছেন, ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগই ইংরেজিতে ফেল করে। সমস্যা এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ের। ইংরেজি অনুশীলনের প্রতি শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহের কারণেই এমনটা হচ্ছে।

৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ফল প্রকাশ হয়েছে। ফলাফলে দেখা দেখা গেছে, পাশ করেছেন মাত্র ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ ৯৪ দশমিক ৪৮ শতাংশই অকৃতকার্য হয়েছে।  বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই ইংরেজিতে ফেল করেছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম।

বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন,‘বাণিজ্যিক অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, ফিন্যান্স, হিসাববিজ্ঞান এবং ম্যানেজমেন্ট সাবজেক্ট থেকে প্রশ্ন আসে। ১২০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। যাতে প্রশ্ন থাকে ১০০টি। পাস করতে হলে ইংরেজিতে ২৪ নম্বরের মধ্যে অনন্ত ১০ এবং সর্বমোট ৪৮ পেতে হয়। সমস্যা হচ্ছে ইংরেজিতে শিক্ষার্থীরা ১০ নম্বরই তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন’।

তিনি বলেন, ‘গ ইউনিটে এবার ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি ৯০ শতাংশ পরীক্ষার্থীই পাশ করতে পারেনি। অনেকেই ১২০ নম্বরের মধ্যে ৬০-৭০ পেয়েছে। অথচ ইংরেজিতে ১০ নম্বরও তুলতে পারেননি’।

ইংরেজিতে এত ফেল করার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে ইংরেজির মান এখনও উন্নত করা সম্ভব হয়নি। ফলে এই সমস্যাটি হচ্ছে’।

ঢাবির গ ইউনিটের প্রশ্নপত্রে ১০০টি প্রশ্নের মধ্যে একটি প্রশ্ন কম ছিল, এতে পরীক্ষার্থীরা বেশ হতাশ হয়েছেন। এই একটি প্রশ্ন কম থাকা কি ফেলের কারণ হিসেবে প্রভাব ফেলেছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে ডিন বলেন, ‘কারিগরি ত্রুটির কারণে একটি প্রশ্ন কম ছিল। তবে সেখানে আমরা সবাইকে ওই একটি প্রশ্নের নম্বর দিয়ে দিয়েছি। কারও নম্বর কাটা হয়নি।’

‘খ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার পাসের হার মাত্র ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেগম আকতার কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খ ইউনিটে পাস করতে হলে বাংলায় ন্যুনতম ৮ এবং ইংরেজিতেও ৮ পেতে হয়। ১২০ নম্বরের মধ্যে সর্বমোট ৪৮ পেতে হয়। কিন্তু আমরা হিসাব করে দেখেছি ইংরেজিতেই ফেল বেশি।’

এদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভর্তি পরীক্ষায় দেখা গেছে, একই রকম চিত্র। বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৮৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। সি ইউনিটে ৯৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জবির ভর্তি পরীক্ষাতেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই ফেল করেছেন ইংরেজিতে।

পরীক্ষায় এত ফেলের কারণ কি জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা পরিসংখ্যান করে দেখেছি ইংরেজিতেই ফেল বেশি হচ্ছে। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ইংরেজি আরও ভালোভাবে পড়াতে হবে। কারিকুলাম যাচাই-বাছাই করে দেখা উচিত ইংরেজিতে আরও ভালো কারিকুলাম প্রয়োজন কিনা। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের ইংরেজির ওপর ভীতি কাজ করে, তারা ইংরেজি পড়তে চায় না।’

ভর্তি পরীক্ষায় কারিগরি ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীরা ফেল করছে না তো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা হওয়া একদমই অসম্ভব। কারণ সফটওয়ার প্রোগ্রাম অনেক ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করেই ঠিক করা থাকে। ভর্তি পরীক্ষার পরে প্রশ্নের উত্তর আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটেও দিয়ে দেওয়া হয়। যাতে শিক্ষার্থীরা তার উত্তরটি মিলিয়ে নিতে পারে। তারপরও কারও যদি নম্বর নিয়ে সন্দেহ হয় তাহলে ডিন অফিসে গিয়ে খাতা পূর্নমূল্যায়নের আবেদন করলে আমরা তা পূর্নমূল্যায়ন করে দেই। ফলে ভুল হওয়ার সম্ভবনা নেই।’

শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক শিক্ষা সচিব অধ্যাপক নজরুল ইসলাম খানও মনে করেন ইংরেজিতে শিক্ষার্থীরা অনেক দুর্বল। শিক্ষার মানেরও অনেক ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দেশের স্কুল-কলেজে ঠিকমত ক্লাস হয় না, ইংরেজি ভালো করে পড়ানো হয়না। শিক্ষার্থীরা কি শিখবে? এসব দেখার কেউ নেই।’

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

sadek

ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজয়ী

 এস. এম. মনিরুজ্জামান মিলন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *