এক কোটিরও বেশি ভোটারের স্মার্টকার্ড হচ্ছে না

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১০, ২০১৬ at ৯:২৮ পূর্বাহ্ণ

smart

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য ভাণ্ডারে অসম্পূর্ণ তথ্য এবং আঙুলের ছাপ বা ছবি ঠিক না থাকায় এক কোটির বেশি ভোটারের স্মার্টকার্ড হচ্ছে না।

নির্বাচন কমিশনের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যারা ভোটার হয়েছেন, তাদের নয় ভাগের এক ভাগের বেশি ভোটারের তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। ভোটার হতে ২৩ ধরনের তথ্য ইসি নির্ধারিত ফরমে নাগরিককেব লিপিবদ্ধ করতে হয়। এর মধ্যে অন্তত ১৮ ধরনের তথ্য না থাকলে স্মার্টকার্ড প্রিন্ট হয় না।

চলমান স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রমে যারা ফেরত যাচ্ছেন, তাদের বেশির ভাগই এ সমস্যায় পড়েছেন। আবার অনেকের ছবি ও আঙুলের ছাপের রেজুলেশন খুব কম। আর স্মার্টকার্ডে আরও কম সাইজের আঙুলের ছাপ ও ছবি যুক্ত করা হচ্ছে।

কাজেই পুরনো এনআইডির নিম্নমানের ছবি ও আঙুলের ছাপের রেজুলেশন কমানো যাচ্ছে না। অর্থাৎ পুরনো এনআইডিতে যাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ অস্পষ্ট এসেছিল, তাদের স্মার্টকার্ডও ছাপানো যায়নি। যে কারণে যারা স্মার্টকার্ড না পেয়ে ক্যাম্প থেকে ফেরত যাচ্ছেন, তাদের আইডি নম্বর, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর জমা দিতে বলা হয়েছে।

চলমান কার্যক্রম শেষ হলে যাদের নির্বাচন কমিশন থেকে যোগাযোগ করে জানানো হবে- কার কি তথ্য কোথায় গিয়ে পুনরায় দিতে হবে।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, একটি সিস্টেম ডেভেলপ করার চেষ্টাও হচ্ছে- যার মাধ্যমে ক্যাম্পে সেবাগ্রহীতাকে জানিয়ে দেওয়া হবে, কি তথ্য কোথায় গিয়ে দিতে হবে।

তবে এটি খুব সাধারণ বিষয়ে যে, ব্যক্তিকে তার সমস্যা সমাধানে উপজেলা নির্বাচন অফিসেই যোগাযোগ করতে হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, আমরা রেজিস্ট্রার খাতায় সবার যোগাযোগের ঠিকানা ও ফোন নম্বর নিয়ে রাখছি। পরবর্তীতে তাদের করণীয় সম্পর্কে জানানো হবে। এছাড়া অন্য কোনো ত্রুটির কারণে কেউ যদি স্মার্টকার্ড না পেয়ে থাকেন তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্মার্টকার্ড তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

ইসির দায়িত্বশীল উপ-সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তথ্য ঠিক না থাকার কারণে প্রতি ৪ হাজার ভোটারের মধ্যে গড়ে প্রায় ৫শ’ ভোটারের স্মার্টকার্ড ছাপানো হয়নি। প্রথম পর্যায়ে বর্তমানে ৯ কোটি ভোটারের স্মার্টকার্ড ছাপানো ও বিতরণের কাজ চলছে। সেক্ষেত্রে ১ কোটি ১০ লাখের বেশি ভোটারের স্মার্টকার্ড ছাপানো হচ্ছে না। যাদের পুনরায় তথ্য ফরম পূরণ করতে হবে।

এ প্রতিবেদকের নিজেরও কিছু তথ্য দেওয়া হয়নি, এমনটি জানালে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, জরুরি ভিত্তিতে তথ্য দিয়ে আসুন। অন্যথায় আপনার কার্ডও ছাপানো হবে না।

গত ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এরপর ৩ অক্টোবর থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রমনা থানার ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটারদের কার্ড বিতরণ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ড এবং কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলাতেও স্মার্টকার্ড দেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক পর্যায়ের এ কাজ শেষ হলে আগামী নভেম্বরে ঢাকার দুই সিটি ও ফুলবাড়ির পুরো উপজেলায় কার্ড বিতরণে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। এরপর অন্য সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলায় পর্যায়ক্রমে উন্নতমানের এ জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ করা হবে।

এদিকে চলমান স্মার্টকার্ড বিতরণে আরও দুই ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে। এটি হচ্ছে যে এলাকার স্মার্টকার্ড দেওয়া হবে বলে, ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে অন্য এলাকার ভোটাররাও ইসির নির্ধারিত ক্যাম্পে আসছেন। ফলে তারা কার্ড না পেয়েই ফেরত যাচ্ছেন। আবার অনেকেই ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেছেন, যাদের এলাকা পরিবর্তন হয়নি বা পরিবর্তন হয়েছে, তারাও কার্ড পাচ্ছেন না।

এ সম্পর্কিত আরও