Mountain View

‘বাসার সামনে ময়লার ভাগাড়ে কেমন লাগবে মাননীয় মেয়র?’

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১০, ২০১৬ at ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

sayeed-khokan-2
নাগরিকদের কাছ থেকেই তাদের সমস্যা সম্পর্কে জানতে জনতার মুখোমুখি হলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন।বাসার সামনে ময়লার ভাগাড়ে দুর্গন্ধের দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে একজন আকুতি জানালেও তাৎক্ষণিকভাবে তার সমস্যা সমাধানে কিছু করতে পারেননি মেয়র। তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কিছু করা যায় কি না তা দেখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মাদকের কারণে সংসার ‘ভাঙনের মুখে থাকা’ অপর এক নারীর মাদকবিরোধী অভিযান আহ্বানের জবাবে পুলিশকে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রোববার গোড়ানের শেখ রাসেল মাঠে ‘জনতার মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি’ অনুষ্ঠানে নাগরিকদের মুখোমুখি হন সাঈদ খোকন।২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আনিসুর রহমান সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, ওয়াসা, তিতাস গ্যাস, ডিপিডিসি ও ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা, পানি সঙ্কট, মাদকের বিস্তারসহ নানা সমস্যা নিয়ে মেয়রের কাছে অভিযোগ করেন নাগরিকরা। এছাড়া এলাকায় খেলার মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার, কবরস্থান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের অনুরোধ করেন তারা।
তাদের কথা শুনে যতটা সম্ভব সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন সাঈদ খোকন।দক্ষিণ বনশ্রীর বাসিন্দা নাজমুল আহসান মেয়রের উদ্দেশ্যে বলেন, তার বাড়ির সামনে সব সময় চারটি ময়লার কন্টেইনার থাকে। এজন্য সারাক্ষণই তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

“আপনার বাড়ির সামনে যদি দিনের পর দিন এভাবে ময়লা রেখে দেয় তাহলে আপনার কেমন লাগবে মাননীয় মেয়র। আমাদের এ কষ্ট থেকে মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।”জবাবে মেয়র বলেন, এভাবে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় কন্টেইনার সরিয়ে নিলে এ চক্র চলতেই থাকবে। ‘সেকেন্ডারি ট্রান্সফার’ স্টেশনগুলো নির্মাণ হয়ে গেলে এ সমস্যা থাকবে না।

“আমি আপনার বাসার সামনে থেকে সরিয়ে দিলাম। আরেক মুরুব্বির বাসার সামনে গেল। সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে আরেক জায়গায় রাখতে হবে। আমাকে একটা জায়গা দেন যেখানে কোনো মুরুব্বির বাসা থাকবে না। আমি সাথে সাথে সরিয়ে দেব।”দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে বলেন তিনি।

গোড়ানের আদর্শবাগের ১২ নম্বর সড়কের বাসিন্দা শাহজাহান চৌধুরী বলেন, এলাকায় একটি পাম্প না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানির কষ্টে আছেন তারা।

তার জবাবে ওই এলাকায় পাম্প বসানোর জায়গা আছে কি না জানতে চান মেয়র। জায়গা থাকলে ওয়াসাকে বলে সেখানে একটি পানির পাম্প বসিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে অভিযোগ করেন অনেকে।খিলগাঁওয়ের প্রায় সব ওষুধের দোকানেই ইয়াবা বড়ি বিক্রি হয় বলে অভিযোগ করেন তিলপাপাড়ার এক নারী।

মাদকের কারণে পরিবার ভেঙে যেতে বসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার ছেলে সামনে মেট্রিক দিব। আমার হাজবেন্ড দোকান থেইকা ইয়াবা কিন্না খায়। নেশা খাইয়া পইরা থাকে। আপনি প্রতিটা ফার্মেসিতে পাইবেন।”এ বিষয়ে পুলিশে অভিযোগ করে কোনো ফল পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

কোন কোন ফার্মেসিতে ইয়াবা পাওয়া যায় তা ওই নারীর কাছে জানতে চান মেয়র।জবাবে তিনি বলেন, “নিরাপত্তার কারণে নাম বলা যাবে না। নাম বললে এলাকায় থাকা যাবে না।”খিলগাঁওয়ের ফার্মেসিগুলোতে দ্রুত অভিযান চালাতে পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেন মেয়র।

এ সম্পর্কিত আরও