হামলার ক্ষত নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আর্টিজান

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১০, ২০১৬ at ৪:৪০ অপরাহ্ণ

6324d5e3b75e0b8c040de0dc4b7492e9-holy-artiগুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি ও রেস্তোরাঁর সামনের লনের ঘাসগুলো এখন আর সবুজ মখমলের মসৃণ কার্পেটের মতো মনে হয় না।

লনটি বিধ্বস্ত, ক্ষতবিক্ষত। লনে থাকা একটি ছাউনি ও ফটক প্রচণ্ড আঘাত খেয়ে হেলে আছে।

ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা রেস্তোরাঁটির দিকে তাকালেই চোখে ভাসে ১ জুলাই রাতের ভয়ংকর জঙ্গি হামলা এবং পরদিন সকালে সেখানে চালানো কমান্ডো অভিযানের কথা।

গুলশান হামলার ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। এখনো রেস্তোরাঁটি সেদিনের হামলার ক্ষত বইছে। সাক্ষ্য দিচ্ছে জঙ্গিদের নৃশংসতার।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, রেস্তোরাঁটি নিয়ে এখনো মানুষের মধ্যে বিস্তর কৌতূহল আছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ রেস্তোরাঁটি দেখতে আসেন। তবে পুলিশের কড়াকড়িতে তাঁদের হতাশ হতে হয়। অনেকে আবার লেকের পাশের সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় রেস্তোরাঁটি দিকে ফিরে তাকান।

ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা পুলিশের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করে বলেন, নিষেধ সত্ত্বেও এখানে দর্শনার্থীরা ভিড় করেন। ভেতরের অবস্থা দেখতে চান। মোবাইলে রেস্তোরাঁর ছবি তোলার চেষ্টা করেন।

রেস্তোরাঁর সঙ্গে পরিচিত কয়েকজনের ভাষ্য, তাঁরা এখন আর এই রেস্তোরাঁর চেহারার সঙ্গে আগের দৃশ্য মেলাতে পারেন না।

রেস্তোরাঁর কাছের একটি বহুতল ভবনের বাসিন্দা এরফান আহমেদ। তিনি বলেন, হামলার আগ পর্যন্ত দেশি-বিদেশিদের পদচারণায় রেস্তোরাঁটি মুখরিত ছিল। এখন রেস্তোরাঁর দিকে তাকালে কেমন একটা শূন্যতা জাগে। জনপ্রিয় একটি রেস্তোরাঁ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

রেস্তোরাঁ-সংলগ্ন লেকের পাশের সরু রাস্তা দিয়ে হাঁটাচলা করেন শামসু মিয়া। ওই পথ দিয়ে গেলেই রেস্তোরাঁর দিকে চোখ পড়ে তাঁর। জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘রেস্তোরাঁর সৌন্দর্য আর কিছু নাই। হামলার আগ-পরের অবস্থা একেবারেই আলাদা।’

৭৯ নম্বর সড়ক দিয়ে রেস্তোরাঁয় যাওয়ার পথে এখন পুলিশের প্রতিবন্ধকতা চোখে পড়ে না। রেস্তোরাঁর মূল ফটকের কাছে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। রেস্তোরাঁর ভেতরে সাধারণ লোকজনকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। যেতে দেওয়া হয় না সংবাদকর্মীদেরও। তবে কিছুদিন আগে কয়েকজন বিদেশি সাংবাদিক রেস্তোরাঁর ভেতরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের ছবি ও ভিডিওতে রেস্তোরাঁর ভেতরের বিধ্বস্ত চিত্র উঠে এসেছে।

গুলশান থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তের জন্য যাঁরা আসেন, তাঁরাই কেবল রেস্তোরাঁর ভেতরে যান। অন্য কাউকে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয় না। বিদেশি ও কূটনীতিকেরা অনুমতি নিয়ে এলে তাঁদের ভেতরে যেতে দেওয়া হয়।

সিআইডির এক কর্মকর্তা বলেন, জঙ্গি হামলা এবং কমান্ডো অভিযানে রেস্তোরাঁর ভেতর লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বাইরেও ক্ষত চিহ্ন আছে। অভিযান শেষে রেস্তোরাঁর ভেতর থেকে কেবল লাশগুলো বের করে আনা হয়েছে। সেখানে আর কোনো নড়চড় করা হয়নি। তদন্তের স্বার্থে রেস্তোরাঁয় কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

গত ১ জুলাই রাতে জঙ্গিরা হলি আর্টিজানে হামলা চালিয়ে ২০ জন দেশি-বিদেশি নাগরিককে হত্যা করেন। তাৎক্ষণিক অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন পুলিশের দুজন কর্মকর্তা। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের জিম্মি উদ্ধার অভিযানে পাঁচ জঙ্গি এবং ওই রেস্তোরাঁর এক কর্মচারী নিহত হন। রেস্তোরাঁর আটক আরেক কর্মী হাসপাতালে মারা যান।

এ সম্পর্কিত আরও