ঢাকা : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, শুক্রবার, ২:১১ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

নায়কের নাম মাশরাফি

025185aedb2402330b2d8c8dad22ed10-mashrafe-reacts-after-butter-out-during-their-2nd-odi______3শেষ পর্যন্ত সেই মাশরাফিকেই লাগল!

১৫৯ রানে পড়ে গেছে ইংল্যান্ডের নবম উইকেট। মাঠের পাশে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। অথচ আদিল রশিদ আর জ্যাক বল একি শুরু করলেন! ওভারের পর ওভার যায়, আউট হওয়ার নাম নেই। তার চেয়েও ভয়ের ব্যাপার, দুই বোলার রীতিমতো ব্যাটসম্যানের মতো খেলতে শুরু করেছেন। কোনো বোলারকেই পাত্তা দিচ্ছেন না। রানও আসছে ইচ্ছেমতো। দেখতে দেখতে দুই শও পেরিয়ে গেল স্কোর। প্রথম ম্যাচের দুঃস্বপ্ন এবার কি তাহলে অন্য রূপ নিয়ে দেখা দিতে যাচ্ছে!

সেই শঙ্কা মুছে দিতে সেই মাশরাফিকেই লাগল। বলকে আউট করতে বল হাতে নিতে হলো তাঁকেই। ম্যাচে তাঁর চতুর্থ উইকেটে সিরিজে সমতা আনল বাংলাদেশ। আগামী বুধবার চট্টগ্রামে তৃতীয় ম্যাচ এখন ওয়ানডে সিরিজের ‘ফাইনাল!’

আট বছর পর মাশরাফির ৪ উইকেট। সর্বশেষ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ২০০৮ সালে। ব্রিস্টলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছিলেন, এবার বাংলাদেশকে সিরিজে ফেরানো জয়ের নায়কও তিনি। উইকেটে একটু ঝামেলা ছিল। বাংলাদেশের ইনিংসের সময়ই তা কিছুটা বোঝা গেছে। তবে তাতে ভুল বোঝার অবকাশও ছিল। মাহমুদউল্লাহ ব্যাটিং করার সময় যেমন মনে হয়েছে, উইকেট তেমন সহজ ছিল না। আবার সাব্বির রহমানের ব্যাটিং যা মনে করিয়েছে, তেমন কঠিনও নয়। মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিংয়ে অনায়াস একটা ভঙ্গি আছে, ৮৮ বলে ৭৫ রান তারই আরেকটি ডকুমেন্টারি। সাব্বিরের ২১ বলে ৩ রানের ইনিংসে আবার পুরোই উল্টো ছবি।

ম্যাচ শেষে এসব কারও মনে আছে কি না সন্দেহ। এই ম্যাচ যে শুধুই অকুতোভয় এক ক্রিকেটারের শৌর্যের জয়গান। তাঁকে সবাই মাশরাফি বিন মুর্তজা নামে চেনে। অন্য একটি নামও ছিল, যেটি এখন প্রায় হারিয়েই গেছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে ধূমকেতুর মতো আবির্ভাবের কিছুদিনের মধ্যেই ড্রেসিংরুমে তাঁর নাম হয়ে যায় ‘পাগলা’। বাংলাদেশের এই ড্রেসিংরুমে তাঁকে ওই নামে ডাকার কেউ নেই। চঞ্চল-অস্থিরমতি-খামখেয়ালি সেই ‘পাগলা’রও অনেক দিনই ‘বস’-এ উত্তরণ ঘটেছে।

আফগানিস্তান সিরিজের সময়ই খেলা দেখতে দেখতে মাশরাফির বাবা গোলাম মুর্তজা স্মৃতিচারণা করছিলেন, ‘ও তো এখন অনেক শান্ত। আগে যে কী অস্থির ছিল!’ তবে মাশরাফির ঘনিষ্ঠজনেরা জানেন, ‘অনেক শান্ত’ হয়ে যাওয়া মাশরাফির দুরন্ত কিশোর সেই মনটা এখনো মাঝেমধ্যেই ডানা ঝাপটা দেয়।

এদিন ব্যাটিংয়ের সময়ও যেমন দিল। উইকেটে কাটানো ৩৭ মিনিট সময়টা যেন ফ্ল্যাশব্যাকে সেই ‘পাগলা’ মাশরাফি। ১৬৯ রানে ৭ উইকেট পড়ার পর নেমেছেন। বাকি তখন মাত্র ৮.২ ওভার। প্রথম ম্যাচে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া শেষ দিকের ব্যাটিং দুই শকেও মনে করাচ্ছে আলোকবর্ষ দূরের কোনো স্বপ্ন। সেই দুই শ হয়ে গেল যেন চোখের পলকে। ৫০ ওভার শেষ হতে হতে সেটি পেরিয়েও আরও ৩৮।

একটা সময় পেস বোলিং অলরাউন্ডার হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা ছিল। কালকের মাশরাফিকে ‘ব্যাটসম্যান’ বলে ভুল করার কোনো কারণ নেই। এটা নির্ভেজাল পেস বোলারের নির্বিচার ব্যাট চালানো। তাতেই ২৯ বলে ৪৪। তিন ছক্কার দুটি মঈন আলীর এক ওভারেই। উইলির বলে তৃতীয় ছক্কাটি যে শটে, ক্রিকেটীয় পরিভাষায় সেটিকে ‘পুল’-ই বলা উচিত। কিন্তু পুল করা বল কীভাবে লং অনের ওপর দিয়ে উড়ে যায়, তা একটা রহস্যই বটে।

তা মাশরাফির ক্যারিয়ারটাই তো এক রহস্য। জনতার নায়ক তিনি অনেক দিনই। অষ্টম উইকেট জুটিতে মাশরাফির যিনি সঙ্গী, এই ম্যাচে তাঁর খেলাটাও যেন জনতার দাবি পূরণ। ম্যাচের পর ম্যাচ ব্যাখ্যাতীত কারণে বাইরে বসে থাকা নাসির হোসেন অবশেষে সুযোগ পেয়ে ২৭ বলে ২৭ রান করে অপরাজিত। পরে একটি উইকেটও নিয়ে তাঁকে নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোকে আপাতত থামিয়ে দিয়েছেন।

অধিনায়কের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সিরিজে সমতা

আর মাশরাফি? ব্যাট হাতে ত্রাণকর্তা। তবে ২৩৮ তো ২৩৮-ই। এই রান ইংল্যান্ডের কাছে কোনো ব্যাপার নাকি! অ্যাডিলেডে বাংলাদেশের কাছে হেরে গত বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর ঘোষণা দিয়ে বদলে যাওয়া দলটি তো তিন-চার শ রানকেও এখন কোনো ব্যাপার মনে করে না। এই ম্যাচ জেতার একমাত্র পূর্বশর্ত ছিল তাই শুরুতেই উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলে দেওয়া। কে করবেন এই কাজটা? প্রথম ওভারেই আক্রমণে আসা সাকিব আল হাসান?

নিজের তৃতীয় ওভারেই উইকেট নিলেনও সাকিব। তবে এর আগে-পরে আসল কাজটা করলেন সেই মাশরাফিই। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান বেন স্টোকসকে যখন শূন্য রানে ফেরালেন, ইংল্যান্ডের রান ৪ উইকেটে ২৬। মাশরাফির বোলিং বিশ্লেষণ: ৪.৪-০-১২-৩!

আগের ম্যাচে যেখান থেকে বাংলাদেশ হেরেছিল, কাল এখান থেকে হারলেও তা একই রকম মর্মান্তিক হতো। অধিনায়ক জস বাটলার ও জনি বেয়ারস্টোর জুটি সেই শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছিল বললে বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। তবে একটু অশুভ ছায়া তো ফেলেছিলই। স্ট্রোক আছে দুজনের হাতেই, একা ম্যাচ জিতিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও। জুটিতে ৫০ হয়ে গেল দেখতে দেখতেই, চোখ রাঙাতে শুরু করেছে সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ। উইকেট চাই! উইকেট!

কিন্তু সে জন্য কাকে ভরসা মানবেন মাশরাফি? সাকিবকে টানা ৭ ওভার করিয়ে ফেলেছেন, নিজেরও ৬ ওভার হয়ে গেছে। বাকিটা তো হাতে রাখতে হয়। এদিকে তাসকিন আবার প্রথম ২ ওভারে ১৯ রান দিয়ে বসেছেন। দ্বিতীয় ওভারে বাটলার চার বলের তিনটিতেই চার মেরে দেওয়ার পর তাঁকে সরিয়ে নিতে হয়েছে আক্রমণ থেকে।

২৩ ওভার শেষে ম্যাচটা যেন সমতায় দাঁড়িয়ে। ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে ১০৪, যখন বাংলাদেশ ছিল ৪ উইকেটে ৯৩। তখনই আবার তাসকিনকে আনলেন মাশরাফি। সব ম্যাচেই একটা সময় আসে, যখন সময় থমকে যায়। থমকে যাওয়া সেই সময়ে তখন জ্বলন্ত প্রশ্ন, তাসকিন কি পারবেন? ১৭ বলের এক স্পেলে বেয়ারস্টো, বাটলার ও ওকসকে তুলে নিয়ে জবাবটা দিয়ে দিলেন তাসকিন। মাঝখানে সাকিবের দারুণ এক ক্যাচে নাসির মঈন আলীকেও ফিরিয়ে দেওয়ায় স্কোর তখন ৮ উইকেটে ১৩২। ম্যাচ তো শেষই! বাকি ২ উইকেট তো এক ফুৎকারে উড়ে যাওয়ার কথা।

সেই ২ উইকেট কী ভোগানোটাই না ভোগাল! আরও নির্দিষ্ট করে বললে শেষ উইকেটটা। হয়তো মাশরাফির মাহাত্ম্য আরও ভালো করে বুঝিয়ে দিতেই!

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৩৮/৮

ইংল্যান্ড: ৪৪.৪ ওভারে ২০৪

ফল: বাংলাদেশ ৩৪ রানে জয়ী

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

বিপিএলের ফাইনালের সময়সূচিতে পরিবর্তন

দেখতে দেখতে শেষ হয়ে গেল বিপিএলের এলিমিনেটর ও কোয়ালিফায়ার ম্যাচ। বিপিএলের পর্দা নামার মাঝে দাঁড়িয়ে …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *