Mountain View

মুহাম্মদ (সা:)’ই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মহানায়ক

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১০, ২০১৬ at ৬:৩০ অপরাহ্ণ

ইমন খান, বিডি২৪টাইমসঃ মানবাধিকার কি? মানবাধিকার শব্দটি বিভাজন করলে আমরা দুইটি শব্দ পাই। একটি মানব, অন্যটি অধিকার। তাহলে মানবাধিকার হচ্ছে মানুষের অধিকার। তাই মানবাধিকার বলতে মানুষের মৌলিক অধিকার এবং স্বাধীনতা সহ মানুষের সকল ন্যায়সঙ্গত অধিকারকে বুঝায়।14647180_1792382111033237_769008203_o

মানুষের জীবন ধারণ ও বেঁচে থাকার অধিকার এবং মতামত প্রকাশের অধিকার,অন্ন বস্ত্র ও শিক্ষা গ্রহণের অধিকার,ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অংশগ্রহণের অধিকার, সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারই হচ্ছে এক কথায় মানবাধিকার।

আর এই মানবাধিকারের প্রধান বিষয়গুলো হলো জীবনধারণের অধিকার, সম্পদের অধিকার, মানমর্যাদা ও ইজ্জত রক্ষার অধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক গোপনীয়তার অধিকার, বিবেক ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা, আর্থিক নিরাপত্তা লাভের অধিকার, বসবাস, যাতায়াত ও স্থানান্তরের অধিকার, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, চলাফেরার স্বাধীনতার অধিকার, পারিশ্রমিক লাভের অধিকার, পেশা বা বৃত্তির-স্বাধীনতার অধিকার, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক স্বাধীনতার অধিকার, নারীর অধিকার, সংখ্যালঘুদের অধিকার, আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও শ্রমিকের অধিকার ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

তাহলে মানবাধিকার হলো মানুষ হিসেবে তার মৌলিক সামগ্রিক ন্যায়সঙ্গত সকল অধিকার গুলোকে বুঝায়। মানবাধিকার সব জায়গায় এবং সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। এ অধিকার একই সাথে সহজাত ও আইনগত অধিকার। ব্যক্তি হিসেবে প্রতিটি মানুষ তার মানব অস্তিত্বের ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে মানবাধিকার পাওয়ার যোগ্য।

সর্বশেষ ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল হজরত মুহাম্মদ সা: ছিলেন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মহানায়ক। তিনি যে জীবন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তা ছিল ভারসাম্যপূর্ণ ও সর্বশ্রেণীর মানুষের জন্য কল্যাণকর। তিনি ছিলেন নিপীড়িত মানবতার মহান বন্ধু।

মানবাধিকার বলতে যতগুলো বিষয়কে গণ্য করা হয়, ইসলামি জীবন ব্যবস্থায় এর প্রতিটির ব্যাপারেই অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তার অধিকার দিয়ে মহানবী সা: বলেছেন, ‘অমুসলিমদের জীবন আমাদের জীবনের এবং তাদের সম্পদ আমাদের সম্পদের মতোই।’ তাদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, জীবনের নিরাপত্তা, সামাজিক ও রাজনৈতিক ইত্যাদি অধিকার রাসূল সা: নিশ্চিত করেছেন।

মদিনা সনদ অমুসলিমদের মদিনায় বসবাসের অধিকার দিয়েছিল। বাংলাদেশের সংবিধানেও প্রতিটি নাগরিকের জীবন, অধিকার, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, সমতা ও মর্যাদার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার অনুচ্ছেদে প্রত্যেকটি মানুষের অধিকার সম্বন্ধে বিস্তারিত বলা আছে ।

উল্লেখযোগ্য কিছু অনুচ্ছেদ : আইনের দৃষ্টিতে সমতা ২৭। সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকাররক্ষণ ৩২। আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা হইতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাইবে না।

আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার ৩১। আইনের আশ্রয়লাভ এবং আইনানুযায়ী ও কেবল আইনানুযায়ী ব্যবহারলাভ যে কোন স্থানে অবস্থানরত প্রত্যেক নাগরিকের এবং সাময়িকভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত অপরাপর ব্যক্তির অবিচ্ছেদ্য অধিকার এবং বিশেষতঃ আইনানুযায়ী ব্যতীত এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে না, যাহাতে কোন ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে। ধর্মীয় স্বাধীনতা

৪১। (১) আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা- সাপেক্ষে (ক) প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রহিয়াছে; (খ) প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপ- সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রহিয়াছে। দুঃখ জনক হলেও সত্যি, আজ পৃথিবীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অহরহ ঘটছে। আর এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ফলেঅনেকে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, প্রতারিত হচ্ছেন, অত্যাচারিত হচ্ছেন।

অথচ মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে প্র্রতিটি রাষ্ট্রের তিন ধরনের দায়িত্ব রয়েছে ১। মানবাধিকারকে সম্মান করা, ২। মানবাধিকারকে রক্ষা করা এবং ৩। মানবাধিকারকে পূরণ করা । কিন্তু আজ মানবাধিকার পৃথিবীর দুষ্ট রাজনৈতিক দুষ্টু চক্রে আটকা পড়েছে। মানবাধিকার এখন সুবিধাবাদীদের কাছে একটি হাতিয়ার। মানবাধিকারের নাম করে মানুষকে শোষণ করছে। বর্তমান পৃথিবীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে হার, তা যেকোনো যুগ ও কালের চেয়ে অধিক।

দুর্বল মানুষ সবলের হাতে, দুর্বল গোষ্ঠী সবল গোষ্ঠীর হাতে, দুর্বল জাতি শক্তিধর জাতির দ্বারা আজ নানাভাবে নির্যাতিত হচ্ছে এবং পৃথিবীর সর্বত্র আজ শিশু, নারী, দরিদ্র, মেহনতি মানুষ, কৃষ্ণগাত্র ও নিম্নবর্ণীয় লোকেরা অধিকারবঞ্চিত, নিগৃহীত ও মানবিক মৌলিক সুযোগ-সুবিধা ও বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

আসুন সকলে মানবাধিকার সমুন্নত রাখার উদ্দেশ্যে মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হই।মনে রাখতে হবে, প্রতিটি নাগরিকের প্রতি অপরের শ্রদ্ধাবোধ মানবাধিকার চর্চার অন্যতম সহজ পদ্ধতি।এই মানবাধিকার কার্যক্রমে কেউ কারোর প্রতিপক্ষ নয়, ন্যায় সঙ্গত, ন্যায্য চিন্তা, সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং জনকল্যাণ মূলক কাজ করাই হোক আমাদের মূল উদ্দেশ্য ।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View