Mountain View

আগুন নিয়ে খেলা!

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১১, ২০১৬ at ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ

images44


 

দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচে জস বাটলারের আউটের ঘটনার জের গড়িয়েছে ম্যাচের পর দুই দলের খেলোয়াড়দের হাত মেলানোর সময়ও।

জনি বেয়ারস্টো ও তামিম ইকবালের মধ্যে শুরু হওয়া সে ঘটনায় পরে জড়িয়ে পড়েন বেন স্টোকসও। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথাই চলছে। তবে ইংল্যান্ড খেলোয়াড়দের পক্ষ নিয়ে মাশরাফিদের তাতিয়েই দিলেন স্টিভ হার্মিসন। সাবেক এই ইংলিশ ফাস্ট বোলারের ধারণা, নম্র স্বভাবের বাটলারের বদলে খেলোয়াড়টি যদি হতেন স্টোকস, তাহলে ব্যাট হাতে মাঠ ছাড়তেন না তিনি। অর্থাৎ হার্মিসন বলতে চেয়েছেন, ব্যাট দিয়ে হয়তো আঘাতই করতেন স্টোকস!

পরশু বাটলারের আউটেই বাংলাদেশের জয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়। ম্যাচের ফল বদলে দেওয়া ওই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের উদ্‌যাপন ছিল একটু মাত্রাছাড়া। তাঁর দিকে করা ইঙ্গিতগুলোও ভালো লাগেনি বাটলারের। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের দিকে তেড়ে এসেছিলেন। আম্পায়াররা তাঁকে থামিয়ে দেওয়ায় ব্যাপারটি অবশ্য বেশি দূর গড়ায়নি।

এর রেশ থাকে ম্যাচ শেষেও। ডেইলি মেইলসহ বেশ কয়েকটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, করমর্দন করার সময় তামিম কিছু একটা বলেছেন বেয়ারস্টোকে। বেয়ারস্টোর পেছনেই ছিলেন স্টোকস। তিনি বেশ তেড়েফুঁড়ে যান তামিমের দিকে, উত্তেজিত হয়ে কিছু বলেন। পাল্টা জবাব দেন তামিম। সাকিব এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। পরে টুইটারে স্টোকস সতর্ক করেছেন, ‘জয়ের জন্য বাংলাদেশকে অভিনন্দন, ভালো খেলেছ। কিন্তু আমার কোনো সতীর্থকে তাচ্ছিল্য করা একদমই মেনে নেব না।’ পরশু সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়েও কথা বলেছেন বাটলার, ‘বেন একটু আবেগপ্রবণ। কিন্তু যদি ওখানে কিছু না হয়ে থাকে তাহলে সে ওইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাত না।’

এ কারণেই হার্মিসন ভাবছেন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে স্টোকস থাকলে ঘটনা অন্য রকম হতো, ‘অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশি খেলোয়াড় বাটলারের দিকে তেড়ে আসার ভঙ্গি করছিল। এটার দরকার ছিল না। আমি খুশি যে তারা এটা স্টোকসের সঙ্গে করেনি। কারণ আমার মনে হয় না তাহলে ব্যাটটা ওর হাতে থাকত! আমার তো মনে হয় আমিও ও রকম কিছু করতাম। যা দেখলাম সেটা আমার পছন্দ হয়নি।’

তবে ম্যাচের অমন সময়ে উল্লাস আবার অস্বাভাবিক মনে হয়নি হার্মিসনের কাছে। বড় পর্দায় এভাবে নিজেদের পক্ষে সিদ্ধান্ত যেতে দেখলে সমবেত উদ্‌যাপনটা একটু বাড়তি রং পায়। কিন্তু উল্লাস করতে গিয়ে বাংলাদেশ একটু বাড়াবাড়িই করে ফেলেছে বলে ধারণা হার্মিসনের, ‘তাদের আবেগটা দারুণ ছিল, “আমরা উইকেট পেয়েছি।” কিন্তু বাটলারের সঙ্গে তারা যেটা করল সেটা তো ঠিক না। তারা এসে পড়ল ওর মুখের ওপর।’

এ ঘটনার রেশ তৃতীয় ওয়ানডেতেও থাকবে। বাটলার নিজেই দিলেন সে ইঙ্গিত, ‘আমাদের বেশ কয়েকজন খ্যাপাটে খেলোয়াড় আছে। আমরা অবশ্যই সীমা ছাড়াব না, তবে আমরা আগ্রাসী হয়েই ম্যাচটা জিততে চাই।’ তৃতীয় ওয়ানডের আগে সলতে আর বারুদ তাহলে সেরে রেখেছে প্রস্তুতি?

এ সম্পর্কিত আরও