ঢাকা : ২১ জুলাই, ২০১৭, শুক্রবার, ৪:৩৯ পূর্বাহ্ণ
সর্বশেষ
আদিলুর রহমান খানকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া ০৯৬১১০০০৯৯৯ নম্বরে ফোন করলেই বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা শাহবাগে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে পুলিশের টিয়ারশেল-লাঠিচার্জ এবার চূড়ান্ত হল ঢাবির অধিভুক্ত ৭ কলেজের পরীক্ষা অদম্য মেধাবী হাফিজুরের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলো ছাত্রলীগ রাজধানীতে গলায় ফাঁস দিয়ে ঢাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা স্বাস্থ্য সেবায় শীর্ষে বগুড়ার জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল শাহবাগে সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তামনির শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি বাংলাদেশ মাছ উৎপাদনে বিশ্বের ৪র্থ স্থান অর্জন করেছে||ডাঃ আ ফ ম রুহুল হক এমপি
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

পাকিস্তান দখলে যেতে চেয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী!

ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ভি. পি. মালিক দাবি করেছেন, কারগিল যুদ্ধের সময় ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানে ঢুকে হামলা চালাতে চেয়েছিল। আন্তর্জাতিক চাপ ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর অনুরোধে ভারতীয় সেনাবাহিনী সে যাত্রায় ‘পাকিস্তানকে ছাড় দিয়েছিল’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর প্রমাণ জেনারেল (অব.) ভি. পি. মালিক

সোমবার (১০ অক্টোবর) ভাদোদারায় সুইচ গ্লোবাল এক্সপো-তে নেতৃত্ব ও প্রেরণা বিষয়ক এক ভাষণে ভি. পি. মালিক এসব কথা বলেন।

উল্লেখ্য, পাঠানকোটের সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি হামলা এবং পরবর্তীতে হিজবুল নেতা বুরহান ওয়ানিকে কথিত এনকাউন্টারে হত্যার পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সাম্প্রতিক উরি সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি হামলার পর আবারও জয়েশ ই মোহাম্মদের সংশ্লিষ্টতার প্রসঙ্গ তুলে পাকিস্তানকে দায়ী করতে শুরু করে ভারত। পারস্পরিক দোষারোপ এবং এ নিয়ে আন্তর্জাতিক তৎপরতার এক পর্যায়ে ২৮ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাতে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতের সেনারা সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলোতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর দাবি করে। ওই অভিযানে ৯ পাকিস্তানি সেনা ও ৩৫ থেকে ৪০ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

মালিক দাবি করেন, ১৯৯৯ সালে কারগিল যুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণরেখা পার হয়ে হয়ে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ঢুকে পাকিস্তানি বাহিনীকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়ে চেয়েছিল। কিন্তু বাজপেয়ি তাদের থামিয়েছিলেন।

কারগিল যুদ্ধ

তিনি বলেন, “১৯৯৯ সালের ২ জুন প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ি সেনাবাহিনীকে সীমান্ত পার না হওয়ার জন্য বলেন। তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রজেশ মিশ্র এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সেনাবাহিনীকে ‘আজ সীমান্ত পার না হওয়ার জন্য বলা হয়েছে, তবে আগামীকাল কী হবে তা আমরা জানি না’।”

মালিক আরও জানান, বাজপেয়ির ওই সিদ্ধান্তে তিনি এবং তার সেনাবাহিনী খুশী ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য আমাদের রাজি করাতে বাজপেয়িকে একদিনে তিন তিনটি দীর্ঘ বৈঠক করতে হয়েছিল। আমি এবং সেনা সদস্যরা এতে অখুশী ছিল। ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একটা বড় কারণ ছিল, আন্তর্জাতিক চাপ। আরেকটা কারণ ছিল আসন্ন নির্বাচন। শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, এটাই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত।’

মালিক যুদ্ধের হুমকি দিয়ে বলেন, ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পাকিস্তানের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য আমাদের অনুরোধ করার কিছু নেই। আমাদের অবশ্যই তাদেরকে (পাকিস্তান) সতর্ক করতে হবে, যদি তারা এমনটাই করতে থাকে, তাহলে আমাদের যুদ্ধে যেতে হবে।’

পরে এক দর্শকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানকে নিয়ে আমি আশাবাদী নই যে, সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর তারা বদলে যাবে। আমাদেরকে অবশ্যই সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

সার্জিক্যাল স্ট্রাইক (প্রতীকি ছবি)

ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের কাছে ওই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর প্রমাণ চাওয়ায় জেনারেল (অব.) মালিক কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টির নেতার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের বলতে চাই, যখন জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নটি সামনে আসে, তখন সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে। তবে যেসব রাজনীতিকদের জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কে কোনও ধারণাই নেই, তাদের এ নিয়ে কথা বলা উচিত না।’

সম্প্রতি আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর প্রমাণ চেয়ে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে একশোটি বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু পাকিস্তানের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিকে শ্রদ্ধা করি আমি। পাকিস্তানের দাবি মিথ্যে প্রমাণের জন্য ওই অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও দলটির মুখপাত্র আনন্দ শর্মা বলেছেন, ‘সরকারকে অবশ্যই ওই অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করা উচিত। যদিও কংগ্রেস সন্দেহাতীতভাবে ওই অভিযানের তথ্যকে বিশ্বাস করে।’ একইভাবে জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরমও ওই অভিযানের তথ্য-প্রমাণ জনসমক্ষে হাজির করে পাকিস্তানের প্রপাগান্ডার জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ সম্পর্কিত আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.