ঢাকা : ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, রবিবার, ৬:৩২ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

পূজায় ১৬শ’ টাকার ডিউটিতে ৬০০ টাকা ঘুষ!

full_1784135016_1476181927

নওগাঁয় আনসার সদস্যদের দুর্গাপূজার ডিউটি নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ষোলশ টাকার ডিউটি পেতে দিতে হয়েছে ছয়শ টাকা ঘুষ। এসব অনিয়ম হয়েছে ইউনিয়ন কমান্ডার, ওয়াড কমান্ডার ও আনসার কর্মকতাদের যোগসাজসে।

জানা য়ায়, উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের ১০৬ টি পূজা মণ্ডপের বিপরীতে প্রয়োজনীতার প্রেক্ষিতে ৬৩৪ জন আনসার সদস্য ডিউটির জন্য নির্ধারন করা হয়, যার মধ্যে পুরুষ ৪২৬ জন ও মেয়ে ২০৮ জন। এই ৬৩৪ জন আনসার সদস্যের প্রত্যেকের নিকট হতে পাঁচশত টাকা করে মোট প্রায় ৩১ হাজার ৭০০ টাকা ঘুষ বাবদ অবৈধ ভাবে নেওয়া হয়েছে।

দুর্গাপূজার ডিউটির জন্য আনসার সদস্যদের ডিউটিতে নির্বাচন করার জন্য দায়িত্ব থাকে ইউনিয়ন কমান্ডার ও ওয়াড কমান্ডারদের উপর। কিন্তু পুরো বিষয়টি দেখভাল করেন উপজেলা আনসার কর্মকর্তা। ইউনিয়ন কমান্ডার ও ওয়ার্ড কমান্ডারেরা নিজ নিজ এলাকার মধ্যে যারা টাকা দিতে পারবেন শুধু মাত্র তাদের কাছ হতে টাকা নিয়ে ডিউটির জন্য নির্বাচন করে। আর উপজেলা আনসার কর্মকর্তা ১২টি ইউনিয়নের ইউনিয়ন কমান্ডার ও ওয়াড কমান্ডারদের মাধ্যমে প্রতিটি আনসার সদস্যের নিকট হতে এই টাকা নিয়েছেন এজন্য আনসার সদস্যদের দুর্গাপূজার ডিউটি নিয়ে হয়েছে নানা অনিয়ম। অনেকের প্রশিক্ষন না থাকলেও টাকার বিনিময়ে ডিউটি পেয়েছে, আবার অনেকের প্রশিক্ষন থাকা শর্তেও টাকা না দিতে পারায় ডিউটি পায়নি। সে কারণে ইউনিয়ন কমান্ডার ও ওয়াড কমান্ডারেরা অনেক প্রশিক্ষন প্রাপ্ত আনসার সদস্য কাছ থেকে ডিউটি দেওয়ার কথা বলে কাগজপত্র নিয়ে সেই নামে অন্য অপ্রশিক্ষন প্রাপ্ত লোকদের টাকার বিনিময়ে ডিউটি দিয়েছে বলেও জানা যায়। আবার অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েও ডিউটি দিতে পারেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের মাজেদা বেগম ও ভুতনাথ এর সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, তাদের ইউনিয়ন কমান্ডার রমজান আলীর দুর্গাপূজার ডিউটির জন্য প্রত্যেকের নিকট হতে ৬০০ টাকা করে নিয়েছে। মাজেদা বেগম আরও জানান ইতিপূর্বে ভোটের ডিউটিও তিনি দিয়েছেন সেখানেও তার নিকট হতে ৬০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এমনকি তার সঙ্গেই একজনের ডিউটি হওয়ার কথা ছিল তিনি টাকা দিতে না পারায় লিষ্ট হতে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ মাজেদা বেগম একজন প্রশিক্ষন প্রাপ্ত আনসার সদস্য।

হাপানিয়া ইউনিয়নের আবাদপুর গ্রামের মো: রকি,সজীব হোসেন,সাজু হোসেন ও গাফাইল গ্রামের মামুনুর রশীদ, চুমকি আক্তার, রোজীনা পারভীন এরা সকলেই জানান, তারা কেউই প্রশিক্ষন প্রাপ্ত আনসার সদস্য নয়। তাদের ইউনিয়ন কমান্ডার মোহাতাব আলী ডিউটির জন্য ৩০০ টাকা আর পোশাকের জন্য ১০০ টাকা মোট ৪০০ টাকা করে নিয়েছে।

বক্তারপুর ইউনিয়নের হরিরামপুর গ্রামের আজির উদ্দীন প্রথমে বলেন, ইউনিয়ন কমান্ডার আমার মামাত ভাই সেজন্য ডিইটির জন্য আমাকে কোন টাকা দিতে হয়নি। কিন্তু পরে আর এক প্রসঙ্গে তিনি বলেন মামাত ভাই যতই হোক ওটা বলতে হবে তাই বলেছি আসলে টাকা ছাড়া কারোরই ডিউটি হয়নি, ডিউটি পেতে গেলে টাকা দিতেই হবে। তবে সে কত টাকা দিয়েছে তা উল্লেখ করেনি।

নওগাঁ সদর উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা আকরাম হোসেন জানান, টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। আনসার সদস্যদের কাছ থেকে টাকা নেয়া পুরোপুরি নিষেধ করা আছে। এছাড়া উর্ধ্বতন কর্মকর্তাও এসেছিলেন। তারাও নিষেধ করে গেছেন। তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

মিয়ানমারের গণহত্যার প্রতিবাদে রাজবাড়ীতে প্রতিবাদ ও গণমিছিল

মো:শরিফুল ইসলাম বাপ্পি,প্রতিনিধি (রাজবাড়ী জেলা) সাম্প্রতিক মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে মুসলিম রোহিঙ্গাদের হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *