Mountain View

ইংল্যান্ডের সাথে সিরিজ অজয়ই থাকলো,থেমে গেলো টানা সিরিজ জয়

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১২, ২০১৬ at ১০:৪৫ অপরাহ্ণ

mashss

এবার খুব হাতের মুঠোয় এসেছিল ইংল্যান্ডের সাথে সিরিজ জয়,কিন্তু এবারো ভাগ্য সহায় হলো না বাংলাদেশের।টানা সপ্তম সিরিজ জয়ের উৎসবে দেশকে ভাসাতে পারলো না মাশরাফিরা।জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সর্বোচ্চ রানের লক্ষ্য তাড়ার রেকর্ড গড়ে সিরিজ জিতে নিল ইংল্যান্ড।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সহজ হয়ে এলো উইকেট। বাংলাদেশের বোলাররাও পারলেন না ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলতে।

বেন ডাকেট ও স্যাম বিলিংসের দুই অর্ধশতকের ওপর ভর করে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ৪ উইকেটে জিতেছে ইংল্যান্ড। সিরিজ ২-১ ব্যবধানে ঘরে তুলেছে জস বাটলারের দল। টানা ছয় সিরিজ জেতার পর দেশের মাটিতে হারল বাংলাদেশ।

লম্বা সময় ঢাকা থাকায় শুরুতে উইকেট ছিল মন্থর। বাংলাদেশের ইনিংসে বল এসেছে অনেকটা থেমে। দুই স্পিনার বেশ টার্ন পেয়েছেন। ইংল্যান্ডের ইনিংসের সময় বল স্কিড করেছে। দ্রুত ব্যাটে আসায় স্পিনারদের খুব সহজে খেলেছে অতিথি ব্যাটসম্যানরা।

মাশরাফি বিন মুর্তজার স্লোয়ার বুঝতেই পারেননি মইন আলি (৩ বলে ১)। এই ইংলিশ অলরাউন্ডার তুলে মারতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচে পরিণত হন। ৪৩তম ওভারে ইংল্যান্ডের স্কোর তখন ২৩৬/৬।

মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে বোল্ড হয়ে ফিরেন জস বাটলার (২৬ বলে ২৫)। ৪১তম ওভারে অধিনায়ক ফিরে যাওয়ার সময় ইংল্যান্ডের স্কোর ২২৭/৫।

দ্রুত দুই উইকেট হারানো ইংল্যান্ড প্রতিরোধ গড়ে বেন স্টোকস ও জস বাটলারের ব্যাটে। দুই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানের দৃঢ়তায় ৩৭তম ওভারে দুইশ’ রানে পৌঁছায় অতিথিরা।

মুশফিকুর রহিমের অসাধারণ ক্যাচে ফিরেন বেন ডাকেট (৬৮ বলে ৬৩)। শফিউল ইসলামের বলে ঠিকমতো স্কুপ করতে পারেননি এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান। তখন ইংল্যান্ডের স্কোর ১৭৯/৪।

শফিউল ইসলামের বলে বোল্ড হন জনি বেয়ারস্টো (১৮ বলে ১৫)। ৩২তম ওভারে ১৭২ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।

অভিষেকে অর্ধশতক করা বেন ডাকেট পরের ম্যাচে ফিরেন শূন্য রানে। তৃতীয় ম্যাচে আবার দারুণ এক অর্ধশতক করেন ইংলিশ এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান।

দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর জনি বেয়ারস্টোকে নিয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নেন বেন ডাকেট। তাদের দৃঢ়তায় ২৮ ওভারে দেড়শ’ রানে পৌঁছায় অতিথিরা।

ইংল্যান্ডের প্রতিরোধ ভাঙেন মোসাদ্দেক হোসেন। এই তরুণ অফ স্পিনারের বলে সীমানায় ইমরুল কায়েসকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন স্যাম বিলিংস (৬৯ বলে ৬২)। ২৪তম ওভারে অতিথিদের স্কোর তখন ১২৭/২।

ইংল্যান্ডকে ভালো সূচনা এনে দেওয়া স্যাম বিলিংস ৫০ বলে পৌঁছান প্রথম অর্ধশতকে। এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের আগের সেরা ছিল ৪১ রান।

উদ্বোধনী জুটির দৃঢ়তায় ভালো সূচনা পাওয়া ইংল্যান্ড ১৮তম ওভারেই শতরানে পৌছায় স্যাম বিলিংস ও বেন ডাকেটের ব্যাটে।

বোলিংয়ে এসেই আঘাত হানেন নাসির হোসেন। দ্বাদশ ওভারে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন জেমস ভিন্সকে (৩৭ বলে ৩২ রান)। দলীয় ৬৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।

জেমস ভিন্স ও সিরিজে প্রথমবারের মতো খেলা স্যাম বিলিংসের ভালো ব্যাটিংয়ে প্রথম ১০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৯ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড।

প্রথম ওভার মেডেন দিয়ে শুরু করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

ভালো শুরু এনে দিয়েছেন টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, সাব্বির রহমান। শেষের দিকে মুশফিকুর রহিম ও মোসাদ্দেক হোসেনের দৃঢ়তাভরা ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডকে ২৭৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ।

সিরিজ জিততে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড গড়তে হবে ইংল্যান্ডের। এই মাঠে দ্বিতীয় ইনিংসে আড়াইশ’ পর্যন্ত যেতে পারেনি কোনো দল। সর্বোচ্চ ২২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করার কৃতিত্ব বাংলাদেশেরই। ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই স্বাগতিকরা ২ উইকেটে জেতে ১ ওভার বাকি থাকতে।

বুধবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ২৭৭ রান করে বাংলাদেশ।

টানা বৃষ্টির জন্য আগের দুই দিন উইকেট ছিল পুরো ঢাকা। ম্যাচের দিন সকালেও ছিল বৃষ্টির লুকোচুরি। নির্ধারিত সময়ের মিনিট সাতেক পর টস হলেও খেলা শুরু হয় ঠিক সময়েই।

সিরিজে টানা মাশরাফি বিন মুর্তজা জানান, টস জিতলে ফিল্ডিং নিতেন তিনিও। লম্বা সময় ধরে ঢাকা থাকা উইকেট কেমন আচরণ করবে তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন স্বাগতিক অধিনায়ক। তবে তামিম ও ইমরুলের দৃঢ়তাভরা ব্যাটিংয়ে সিরিজে টানা তৃতীয় টস হার নিয়ে ভাবতে হয়নি বাংলাদেশের।

শুরুতে শট খেলছিলেন ইমরুল। রানের গতি বাড়ানোর দিকে ছিল তার মনোযোগ। শান্ত ছিলেন তামিম; সংযত ব্যাটিংয়ে গড়ে তুলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা উদ্বোধনী জুটি। ২০১০ সালে ৬৩ রানের আগের সেরা জুটিও ছিল তামিম-ইমরুলের।

বিপজ্জনক হয়ে উঠা ৮০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে বেন স্টোকস ফেরান ইমরুলকে। ৫৮ বলে ৪৬ রান করেন এই বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করা তামিম আর শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করা সাব্বিরের ব্যাটে একশ’ পার হয় বাংলাদেশের সংগ্রহ। এরপরই আদিল রশিদের শর্ট বলে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় তামিমের ৪৫ রানের ইনিংস।

রশিদকে ছক্কা হাঁকিয়ে পরের বলেই শর্ট কাভারে ক্যাচ দেন মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ।

দ্রুত তামিম-মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের কোনো প্রভাব দলের ওপর পড়তে দেননি সাব্বির ও মুশফিক। পাল্টা আক্রমণে চতুর্থ উইকেটে ৮ ওভারে ৫৪ রানের জুটি উপহার দেন এই দুই জনে।

দলকে ভালো ভিত দেওয়া সাব্বির এক রানের জন্য অর্ধশতক পাননি। রশিদের বলে জস বাটলারের গ্লাভসবন্দি হয়ে শেষ হয় তার ৪৯ রানের ইনিংস।

দ্রুত সাব্বিরকে অনুসরণ করেন সাকিব আল হাসান ও নাসির হোসেন। অফ স্পিনার মইন আলির বলে স্টাম্পড হন সাকিব। উইকেটরক্ষক বাটলার গ্লাভসে জমাতে পারেনি, বল ছিটকে আঘাত হানে স্টাম্পে। রশিদের ফুলটসে মিডউইকেটে ক্যাচ দেন নাসির।

দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে হঠাৎ চাপে পড়ে এক সময়ে তিনশ’ রানে চোখ রাখা বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেওয়ার কৃতিত্ব সাত ইনিংস পর অর্ধশতক করা মুশফিকুর রহিম ও তরুণ মোসাদ্দেক হোসেনের।

বাজে বলে থিতু ব্যাটসম্যানরা ফেরার পর শেষ ব্যাটিং জুটি মুশফিক-মোসাদ্দেক হতাশ করেননি। ১১.৫ ওভার স্থায়ী অবিচ্ছিন্ন সপ্তম উইকেটে ৮৫ রানের জুটি গড়েন এই দুই জন।

মুশফিক অপরাজিত থাকেন ৬৭ রানে। তার ৬২ বলের ইনিংসটি গড়া ৪টি চার ও একটি ছক্কায়। তরুণ মোসাদ্দেক চারটি চারে ৩৯ বলে করেন অপরাজিত ৩৮ রান।

ক্যারিয়ার সেরা ৪৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সফলতম বোলার রশিদ। ওয়ানডেতে তার আগের সেরা ছিল ৪/৪৯।

মায়চ সেরা হয়েছেন আদিল রাশিদ।সিরিজ সেরা বেন স্টোকস।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View