ঢাকা : ২৩ জুন, ২০১৭, শুক্রবার, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো দুর্গোৎসব

চারদিকে খোল-করতাল আর ঢাকের বাজনার সঙ্গে নাচছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। কেউ কেউ দেব-দেবীর উদ্দেশে দিচ্ছিলেন উলুধ্বনি। এমন উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েছেন বাঙালি হিন্দুধর্মাবলম্বীরা। এই বিসর্জনের মাধ্যমে গতকাল শেষ হলো বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অায়োজন শারদীয় দুর্গোৎসব।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটা থেকে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ওয়াইজঘাটের বিনা স্মৃতি স্নানঘাটে ঢাকা মহানগর পূজা কমিটির নেতৃত্বে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এর আগে সকালে মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুরখেলার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার দর্পণ বিসর্জন দেওয়া হয়। হিন্দু সধবা নারীরা দেবীর প্রতিমায় সিঁদুর পরিয়ে দেন, নিজেরা একে অন্যকে সিঁদুর পরান। এ সময় ঢাকের তালে তালে নাচ, একে অপরকে রং দিয়ে রাঙানো এবং ছবি তোলেন অনেকে। এরপর মণ্ডপ থেকে ট্রাকে ও পিকআপ ভ্যানে করে প্রতিমা পলাশীর মোড়ে আসে কেন্দ্রীয় বিজয়া শোভাযাত্রায় যোগ দিতে। এ সময় ঢাকার বিভিন্ন সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।

ঢাকার বিভিন্ন মন্দির থেকে শোভাযাত্রাগুলো পলাশী মোড়ে এসে জড়ো হয়। এরপর গানের তালে নাচেন সবাই। কেউ কেউ বয়োজ্যেষ্ঠদের পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন এবং কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বেলা তিনটায় শোভাযাত্রা সদরঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়।

প্রতিমা বহনকারী ট্রাকগুলো বিকেল পাঁচটার পর সদরঘাটে এসে জমা হয়। এরপর ট্রাক থেকে একে একে ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয় প্রতিমা। প্রতিমা বিসর্জনের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী চারদিকে পানি ছিটিয়ে এবং আরও কিছু নিয়ম মেনে কাঁধে করে
প্রতিমা নৌকায় তোলা হয়। নৌকায় করে প্রতিমা মাঝ নদীতে নিয়ে গিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়। বিসর্জনের সময় ঘাটে দাঁড়ানো হাজারো ভক্ত দেবী দুর্গার উদ্দেশে উচ্চ স্বরে নানা ধ্বনি দিতে থাকেন।

সদরঘাটের ইমামগঞ্জ বাজার সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রহ্লাদ চন্দ্র পাল বলেন, পূর্বপুরুষদের রীতি অনুসারে তাঁরা বাজার কমিটি ১০১ বছর ধরে পূজা করে আসছেন। এবারও পূজা অনুষ্ঠান করতে পেরে তিনি আনন্দিত। লালবাগ শেখ সাহেব বাজার থেকে আসা জ্ঞানতা দাস বলেন, ‘মন ভালো নেই। মা আসলেন আবার দ্রুত চলে গেলেন। আবার এক বছর পর দেখা মিলবে। তবু যতটুকু ভালো লাগা তা হলো, ভালোভাবে পূজাটা করতে পেরেছি।’

প্রতিমা বিসর্জনের কেন্দ্রীয় শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন ঢাকা মহানগর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি ডি এন চ্যাটার্জি এবং সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র রায়। ডি এন চ্যাটার্জি বলেন, এবার ঢাকা মহানগরে ২২৯টি মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়।

 

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

আজকের রাত ‘হাজার রাতের চেয়েও উত্তম’

আজ রাত পবিত্র শবে কদরের রাত। আজকের রাত ‘হাজার রাতের চেয়েও উত্তম’। মুসলমানদের কাছে এই …

আপনার-মন্তব্য