ঢাকা : ২৫ মে, ২০১৭, বৃহস্পতিবার, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

ভুলে ভরা স্মার্ট কার্ড!

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্মার্ট কার্ডকে বিশ্বের উন্নতম আধুনিক কার্ড বলে দাবি করা হলেও আসলে এটি ততটা আধুনিক নয়। স্মার্ট কার্ড ভুলে ভরা, এটির বিতরণ ব্যবস্থায় ও চলছে অনিয়ম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১০ কোটি ভোটারের মধ্যে প্রায় দের কোটিরও বেশি ভোটারের স্মার্ট কার্ডে ভুল রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন কার্ডধারীদের ভোগান্তি বাড়বে, অন্যদিকে ব্যয়ও বাড়বে নির্বাচন কমিশনের।

গত ৭ দিনে যে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে সেখানে অসংখ্য ভুল লক্ষ্য করা গেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, নির্বাচন কমিশনের স্মার্ট কার্ড বিতরণে নেই কোনো তথ্যকেন্দ্র। আর যোগাযোগের যে ঠিকানা দেয়া হয়েছে, সেখানে গিয়েও গ্রাহক বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছেন।

সরজমিনে ঘুরে জানাযায়, রাজধানীর উত্তরা ও রমনা থানার একাধিক ভোটার অভিযোগ করে বলেন, স্মার্ট কার্ডে আনস্মার্ট ছবি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অধিকাংশ ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি আট-নয় বছর আগের। বর্তমান কার্ডটির মেয়াদও ১০ বছর। সেই হিসেবে আট-নয় বছর আগের এই ছবিটি আরও ১০ বছর থাকবে। তা ছাড়া আগে ওয়েব ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা হয়েছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সে সময় বেশির ভাগ নাগরিকের ছবি ভালো হয়নি। তাই যারা স্মার্ট কার্ড পেয়েছেন, তাদের অনেকেই মনে করছেন ছবিটি নতুন করে তুলে দেওয়া হলে ভালো হতো।

ক্ষোভ প্রকাশ করে রমনা থানার ভোটার ফরিদা বেগম বলেন, আমার স্মার্ট কার্ডে স্বামীর নাম দেওয়া হয়নি। আগে আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম ছিল। কিন্তু আজ আমাকে যে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হয়েছে সেখানে স্বামীর নাম বাদ দিয়ে পিতার নাম বসানো হয়েছে।

রমনা থানার ১৯ নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দা রবিউল বিডি টুয়েন্টি ফোর লাইভ ডটকমকে বলেন, আমার আঙ্গুলের ছাপ মিলছে না তাই আমাকে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হয়নি। কিন্তু ভোটার হওয়ার সময় তারা আমার ১ আঙ্গুলের ছাপ নিয়েছিল। এখন ১০ আঙ্গুলের ছাপ নিচ্ছে কিন্তু আগের কোন ছাপের সাথে মিলছে না।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানাযায়, বিভিন্ন সমস্যার করণে গত ৭ দিনে ৬০ ভাগ ভোটার স্মার্ট কার্ড নিতে এসে ফিরে গেছে। তারা সবাই নির্বাচন কমিশনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ১০৫ হেল্প ডেস্কে ডায়াল করেও মিলছে না স্মার্ট কার্ড তথা জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য। ওয়েবসাইটও ঠিক তথ্য দিতে পারছে না বলেই ভোটারদের অনেকে দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার শাহ নেওয়াজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিডি টোয়েন্টি ফোর লাইভ ডটকমকে বলেন, স্মার্ট কার্ডে কি ভুল আছে আমি বলতে পারব না। আপনারা এ ব্যপারে এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালকের কাছে জেনে নিতে পারেন। আমি কোন মন্তব্য করতে পারবনা।

এসব বিষয়ে এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান সালে উদ্দীন বিডি টোয়েন্টি ফোর লাইভ ডটকমকে বলেন, কিছু ভুল ক্রুটি থাকলেও এ কার্ডে অনেক আধুনিক সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে। আমাদের প্রতিটি স্মার্টকার্ড প্রস্তুত করতে দুই ডলার করে খরচ হয়েছে। এ কার্ডের মেয়াদ হবে ১০ বছর।

তিনি বলেন, বিতরণ ব্যবস্থায় যে ভোগান্তীর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে তা আমরা ক্ষতিয়ে দেখছি। আশা করি আগামীতে সমস্যা গুলো অনেক কমে আসবে।

যেভাবে স্মার্ট কার্ড বিতরণ: প্রথম পর্যায়ে গত ৩ অক্টোবর স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও কুড়িগ্রামে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে বিতরণ করা হবে খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায়। তবে এখনো দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেনি ইসি।

তৃতীয় পর্যায়ে ৬৪টি সদর উপজেলা এবং চতুর্থ পর্যায়ে বাকি সব উপজেলায় দেশজুড়ে স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশের প্রায় ১০ কোটিরও বেশি ভোটার রয়েছে, কিন্তু ইসি স্মার্ট কার্ড তৈরি করবে ৯ কোটি। বাকি ১ কোটি ভোটারের কি হবে, কোন এলাকর ভোটারদের স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবেনা এসব বিষয়ে এখন সিদ্ধন্ত নিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।

এ সম্পর্কিত আরও

Best free WordPress theme

Check Also

অনেক দেশ বাংলাদেশকে কোটা ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা দিচ্ছে

  বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিশ্বের অনেক দেশ এখন বাংলাদেশকে ডিউটি ও কোটা ফ্রি বাণিজ্য …

আপনার-মন্তব্য