Mountain View

সেই তনু হত্যা এখন ‘ইস্যু’ থেকে ‘টিস্যুতে’ পরিনত হয়েছে

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১২, ২০১৬ at ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ

tonu

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের মেধাবী ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে অনেক আগেই। এ হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় সারা দেশই বিচারের দাবিতে ছিল উত্তাল।

১ মাসেরও বেশী দেশের প্রধান ইস্যু ছিল তনু হত্যা। কিন্তু বর্তমানে এ হত্যাকাণ্ডের ইস্যু এখন আর তেমন জাজালো নেই।

গত কয়েকদিন থেকেই সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে তনুর ছবি সম্বলিত পত্রিকার ছোট এক টুকরো কাগজ। যা ঝালমুড়ি খাওয়ার জন্যই রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

বর্তমানে তনু হত্যার ইস্যুটি ঝালমুড়িতে রাখা এই পরিত্যাক্ত টুকরো কাগজের মত বলেই মত অনেকের।গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার একটি ঝোপে তনুর মরদেহ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে পুলিশ, তারপর ডিবি এবং সর্বশেষ এখন সিআইডি তদন্ত করছে। ২১ মার্চ দুপুরে তনুর লাশের প্রথম ময়নাতদন্ত হয়। ঐ দিনই তাকে দাফন করা হয়।

প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ওঠার পর আদালতের নির্দেশে ২৮ মার্চ কবর থেকে লাশ তুলে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে তনুর কাপড়ে ধর্ষণের আলামত মেলে। তনুর কাপড়, অন্তর্বাস, ভেজাইন্যাল সোয়াব, শরীরের অংশবিশেষ ও রক্তের ডিএনএতে ৩ ব্যক্তির স্পার্ম পাওয়া যায়। তার মরদেহে মোট ৪ জনের ডিএনএ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি তনুর নিজের রক্তের। অন্য তিনটি তিন পুরুষের।

তবে তনু হত্যা মামলার তদন্তে এখন পর্যন্ত কোন প্রকার অগ্রগতি দেখাতে পারেনি মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। তনুর পোশাক থেকে ধর্ষণের আলামতসহ যে তিন ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা পাওয়া যায় তা সন্দেহভাজন কারও সঙ্গে মেলাতে পারেনি সিআইডি।

এ বিষয়ে মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, যাদের সঙ্গে ডিএনএ প্রোফাইল মেলানোর জন্য তনুর মা বলছেন আমরা তা যাচাই করছি। এ জন্য সময় লাগে। হঠাৎ করে এগুলো করা যায় না। সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনে আদালতের মাধ্যমে ডিএনএ প্রোফাইল মেলানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে তদন্তে কোন প্রকার অগ্রগতি না হওয়ায় চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন তনুর মা-বাবাসহ তনু হত্যার বিচারের দাবিতে সক্রিয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তারা দ্রুত তনু হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ সম্পর্কিত আরও