Mountain View

সোশাল মিডিয়ার তথ‌্যে আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করছে মার্কিন পুলিশ

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১২, ২০১৬ at ৪:৫০ অপরাহ্ণ

logotwitterfacebook
ফারগুসন, মিসৌরি ও বাল্টিমোরে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার প্রতিবাদে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের শনাক্ত করতে টুইটার, ফেইসবুক ও ইন্সটাগ্রামের মত সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম থেকে তাদের অবস্থান ও অন‌্যান‌্য ব‌্যক্তিগত তথ্য নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ।

মঙ্গলবার আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জিওফিডিয়া নামের শিকাগোভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান পুলিশকে ওই তথ্য সরবরাহ করে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, জিওফিডিয়া নামের কোম্পানি তাদের সফটওয়ার প্লাটফর্মের মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার সোশাল মিডিয়া ব‌্যবহারকারীদের তথ‌্য সংগ্রহ করে। ফলে তাদের গ্রাহকরা টুইটার বা ফেইসবুকের কাছে না গিয়েও ওই প্ল‌্যাটফর্মের মাধ‌্যমে নির্দিষ্ট ব‌্যক্তির অবস্থানসহ অন‌্যান‌্য তথ‌্য পেতে পারে।

এসিএলইউ-র প্রতিবেদন আসার পর ফেইসবুক, টুইটার ও ইন্সটাগ্রাম তাদের তথ্যে জিওফিডিয়ার প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়।

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের তথ্য কীভাবে ব‌্যবহার করা হচ্ছে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই নজরদারিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কতোটা ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করছে তা নিয়ে ভোক্তাদের উদ্বেগের মধ্যেই এসিএলইউ-র এ প্রতিবেদন এল।

এসিএলইউ-র প্রযুক্তি ও সিভিল লিবার্টি পলিসি ডিরেক্টর নিকোল ওজের বলেন, বিশেষ চুক্তির মাধ‌্যমে পুলিশ শক্তিশালী এসব প্ল‌্যাটফর্ম ব‌্যবহার করছে, যার ফলে গ্রহকের ব‌্যক্তিগত তথ‌্যে উঁকি দেওয়ার বিকল্প একটি দরজা খুলে গেছে তাদের সামনে।

নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা এসিএলইউ বলছে, ফ্রিডম অব ইনফরমেশন আইনের আওতায় তারা এমন একটি ইমেইল পেয়েছে, যাতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট পাঁচশর বেশি এজেন্সি ও সংস্থার সঙ্গে কাজ করে জিওফিডিয়া।

চলতি বছরের জুলাইয়ের একটি ঘটনা তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, সোশাল মিডিয়ায় বাল্টিমোরের একটি হাই স্কুলের ছাত্রদের আলোচনা থেকে তথ‌্য পেয়ে জিওফিডিয়া পুলিশকে সতর্ক করার পর একদল ছাত্রকে আটক করা হয়, যাদের ব‌্যাকপ‌্যাক ছিল পাথরে ভর্তি।

গতবছর এপ্রিলে বালটিমোরের ২৫ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ যুবক ফ্রেডি গ্রে মারা যাওয়ার পর শহরজুড়ে তুমুল দাঙ্গা শুরু হয়। পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর নির্যাতনে গ্রের মেরুদণ্ডে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল; যা তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এসিএলইউ-র প্রতিবেদনে জিওফিডিয়ার এক কর্মীর ই-মেইলও উপস্থাপন করা হয়। ২০১৫ সালের অক্টোবরের ওই ইমেইলে ফারগুসনের বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ থামাতে তাদের ‘অসাধারণ সাফল্যের’ কথা লিখেছেন তিনি।

২০১৪ সালের অগাস্টে পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর মাইকেল ব্রাউনের মৃত্যুর পর ওই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল।

জিওফিডিয়া কর্তৃপক্ষের দাবি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীর ‘উন্মুক্ত তথ্য’ই তারা গ্রাহকদের সরবরাহ করে। তাদের গ্রাহকদের মধ্যে আছে বিভিন্ন করপোরেশন, সংবাদ সংস্থা, নগর কর্তৃপক্ষ ও স্পোর্টস টিম।

কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফিল হ্যারিসের দাবি, তারা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, স্বচ্ছতা ও প্রত্যেকের অধিকারের নীতিমালা রক্ষায় সচেষ্ট।

“আধুনিক প্রযুক্তির ক্রমপরিবর্তনশীল প্রকৃতির মধ্যেও আমরা নাগরিক অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট থেকে কাজ করে যাচ্ছি,” বলেন তিনি।

এ সম্পর্কিত আরও